শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭ , ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

খেলা

শান্ত'র কাছে বিধ্বস্ত মাহামুদুল্লাহ

শামীম চৌধুরী অক্টোবর ১৭, ২০২০, ২০:৫৮:২০

  • বাঁ হাতি স্পিনার নাসুমের বোলিং অ্যাকশন। ছবি-বিসিবি

শান্ত একাদশ : ২৬৪/৮ (৫০.০ ওভারে)

মাহামুদুল্লাহ একাদশ : ১৩৩/১০(৩২.১ ওভারে)

ফল : শান্ত একাদশ ১৩১ রানে জয়ী।

প্রেসিডেন্টস কাপে প্রথম ইনিংসে দু'শ প্লাস স্কোর মানেই নিরাপদ।প্রেসিডেন্টস কাপে এটাই নিয়মে পরিনত হয়ে গেছে। প্রথম ২ ম্যাচে ২শ'র দেখা নেই। তৃতীয় ম্যাচে প্রথম ইনিংসে উঠেছে ২২১/৯।

চতুর্থ ম্যাচে এসে ছন্দে ফিরেছে ব্যাটসম্যানরা। নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশ প্রথমে ব্যাট করে স্কোর টেনে নিয়েছে ২৬৪/৮ পর্যন্ত।এই স্কোরকে পুঁজি করেই ১৩১ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে শান্ত একাদশ।

বাঁ হাতি স্পিনার নাসুমের প্রথম স্পেলে (৭-১-২১-৩) যে ঝাঁকুনি খেয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারেনি মাহামুদুল্লাহ একাদশ। কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনায় পজিটিভ আসায় পেস বোলার আবু জায়েদ রাহিকে এতোদিন রাখা হয়েছিল ম্যাচের বাইরে। ম্যাচে ফিরেই বোলিংয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছেন সিলেটের এই ছেলেটি (৭-০-৩৪-৩)। দু'টি স্পেলেই (৩০-১৬-১ ও ৪-০-১৮-২) দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান ফিরিয়ে দিয়েছেন মুমিনুল,রুম্মান, মিরাজকে। 

 শান্ত একাদশের শুরুটা এদিন হয়নি ভাল। রুবেলের প্রথম স্পেলে (৫-২-১৫-২) ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে শান্ত একাদশের স্কোর ছিল ৪৬/৩। তবে শ্লগটা হয়েছে এদিন শ্লগের মতো। ইরফান শুকুর ঝড়ে (৩০ বলে ৪ চার,২ ছক্কায় ৪৮*) নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশ শ্লগে যোগ করেছে ৮১ রান।    

যেভাবে করছিলেন ধ্রব ব্যাটিং,তাতে সেঞ্চুরিটা ছিল তার প্রাপ্য। পার্টনার মুশফিক যেখানে রানের জন্য ধুঁকছেন,সেখানে স্বাচ্ছন্দে ব্যাটিং করেছেন ধ্রুব।৫ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিকুর রহিমের আগেই করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন। ৬৯ বলে ৬ চার-এ হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসকে তিন অঙ্কের নাগাল পেতে যখন অপেক্ষা মাত্র ২ রান। তখন মুশফিকুর রহিমের কলে রান আউটে ফিরতে হলো তাকে। মিরাজের বলে শর্ট মিড উইকেটে খেলেই মুশফিক দিয়েছিলেন সিঙ্গলের কল। সিঙ্গলের দৌড় দিয়ে স্ট্রাইক এন্ডে পৌছেও গিয়েছিলেন প্রায়। তবে ২ কদম এগিয়ে ‌ধ্রুবকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়ায় পার্টনারকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন। মাহামুদু্ল্লাহ'র থ্রে হয়ে বোলার মিরাজ  ধ্রুবকে রান আউটে দিয়েছেন ফিরিয়ে। ১০৮ বলে ১২ চার,১ ছক্কায় ৯৮ রানের ইনিংসে নেতৃত্ব দিয়েছেন ধ্রুব চতুর্থ উইকেট জুটির ১৪৭ রানেও।

ধ্রবকে রান আউটে ফিরিয়ে দেয়ার অপরাধবোধে তাড়িত মুশফিক ১৫ বল পর দিয়ে এসেছেন উইকেট। এবাদতকে শট বলে স্কুপ করতে যেয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে এসেছেন মুশফিক। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছিলেন অস্বস্তিতে। ১ রানের মাথায় পেস বোলার সুমন খানের বলে ড্রাইভ করতে যেয়ে ফার্স্ট স্লিপে মিরাজের হাতে দিয়েছিলেন ক্যাচ। মিরাজের হাত থেকে ক্যাচ ফসকে যাওয়ায় ভাগ্যবান মুশফিক হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন করে ছেড়েছেন। ৯২ বলে ১ চার এ ৫২ রানের ইনিংসটির স্ট্রাইক রেট ৫৬.৩২। যে ইনিংসে বাউন্ডারি মাত্র ১টি ! ৪২টি মিঙ্গলের পাশে ৩টি ডাবল !

প্রেসিডেন্টস কাপে পেস বোলার রুবেল হোসেন ফিরে পেয়েছেন রিদম।উপর্যুপরি ২ ম্যাচে নামতা গুনে ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন।  তামিম একাদশের বিপক্ষে (৫-০-১৬-৩) এর পর শান্ত একাদশের বিপক্ষে ১০-২-৫৩-৩। এবাদত এদিন করেছেন খরুচে বোলিং (১০-০-৬০-২)।

২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে লিটন দাস (২৭ বলে ২৭) ও সোহান (৩৬ বলে ২৭ নট আউট) ছাড়া কারো ব্যাটিং হয়নি প্রত্যাশিত।তিন ম্যাচে ২ হার-এ ফাইনালের পথটা কঠিন হয়ে গেল মাহামুদুল্লাহ একাদশের। অন্যদিকে ৩ ম্যাচে ২টি বড় জয়ে ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রেখেছে শান্ত একাদশ।

নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশ :    সৌম্য ৮,শান্ত ৩,ইমন ১৯,মুশফিক ৫২, ধ্রুব ৯৮,তৌহিদ হৃদয় ২৭,ইরফান শুকুর ৪৮*,তাসকিন ০,নাসুম ০,এবাদত ১০-০-৬০-২,রুবেল ১০-২-৫৩-৩,সুমন খান ৯-০-৫২-১,রাকিবুল ১০-০-৩২-০,মিরাজ ৯-০-৪৮-০,মাহামুদুল্লাহ ২-০-১৮-০।

মাহামুদুল্লাহ একাদশ : ১৩৩/১০(৩২.১ ওভারে), ইমরুল ৪,লিটন ২৭,মুমিনুল ১৩,মাহামুদুল হাসান ১৩,মাহামুদুল্লাহ ১১,সোহান ২৭*,সাব্বির ১০,মিরাজ ১৬,রাকিবুল ০,সুমন খান ২,রুবেল ১, তাসকিন ৬-০-২৫-০,আল আমিন ৫-০-২০-১,নাসুম ৮.১-১-২৩-৩,রিশাদ ৬-১-২৬-২,আবু জায়েদ রাহি ৭-০-৩৪-৩।

ফল : শান্ত একাদশ ১৩১ রানে জয়ী। 

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আফিফ হোসেন ধ্রুব (শান্ত একাদশ)।  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

        









copyright © 2020 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers