রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ , ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

খেলা

এক হার, অনেক প্রশ্ন

শফিকুল হক হীরা, সাবেক অধিনায়ক, টিম ম্যানেজার অক্টোবর ১৮, ২০২১, ১৮:৩২:১৯

367
  • শফিকুল হক হীরা, সাবেক অধিনায়ক, টিম ম্যানেজার

সাকিব এখন তার সেরা ফর্মে নেই। বোলিং মোটামুটি ঠিক থাকলেও ব্যাটিংটা হচ্ছে না। আইপিএলেও সাকিব ব্যাটিংয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে স্ট্রাইক রোটেড করে রান করতে পারেনি।

২৮ বলে ২০ রানের মধ্যে সোজা ব্যাটে রান খুবই কম ছিল। বেশিরভাগ রান করেছে ফাইন লেগ, থার্ডম্যান দিয়ে। এমন এক অফ ফর্মের ব্যাটারকে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠানো ঠিক হয়নি। সাকিবকে পাঁচ অথবা ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠালে বরং দলের জন্য ভাল হতো।

বল একটু পুরোনো হয়ে গেলে ও ভাল খেলতে পারতো। তিন নম্বরে অ্যাগ্রেসিভ কাউকে নিয়ে ভাবা উচিৎ। এই পজিশনে আমার প্রস্তাব থাকবে আফিফকে নেয়ার। টি-২০ ক্রিকেটে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-টা গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনারদের ভুমিকা তাই এখানে যথেষ্ট। তামিম যখন নেই, তখন ওপেনিংয়ে নতুন কাউকে দিয়ে চেষ্টা করা উটিৎ।
টিম ম্যানেজমেন্টের আর একটা সিদ্ধান্ত আমার মোটেও ভাল লাগেনি। আমাদের দলের প্রধান শক্তি স্পিন, সে কারনে তিন স্পিনার নিয়ে খেলাটা ছিল যৌক্তিক। তাসকিনকে আমি বলব ওভারে তিন বলের বোলার। প্রথম তিন বল ঠিকঠাক মতো করলে পরের তিন বলে সে মার খাবে। এটাই তার বোলিং বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই একাদশে তাকে বেছে নেয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মোস্তাফিজের দিকে সবাই তাকিয়ে ছিল। মোস্তাফিজ আইপিএলে কোন বিশ্রাম পায়নি। রাজস্থান রয়েলসের হয়ে সব ম্যাট খেলেছে সে।

এমনিতেই তাকে দেখে শক্তিমান মনে হয় না। তার উপর আইপিএলে টানা খেলার ধকল গেছে ওর উপর। সে কারনেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মোস্তাফিজকে ক্লান্ত মনে হয়েছে। প্রতি ওভারে একটা শর্ট বল দিয়েছে। ওয়াইড আউট অফ দ্য অফ স্ট্যাম্প পিচিং ডেলিভারি দিয়েছে সে। আইপিএলের শুরুতে ওর বোলিং ভালই ছিল। শেষ দিকে এসে ছন্দ হারিয়েছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওভারে মেডেন দিয়েও ছন্দ হারিয়েছে পরবর্তী স্পেলগুলোতে।  
আমরা মাহমুদউল্লাহকে অলরাউন্ডার হিসেকেই চিনি। ওর অফ স্পিন কার্যকরী। মাহমুদউল্লাহ নিজেও বোলিং করতে পারতো। কোমরের ব্যাথা থেকে আদৌ কী সেরে উঠে খেলতে নেমেছে সে, মাহমুদউল্লাহকে দেখে কিন্তু তা মনে হয়নি। কোমরের ব্যাথা নিয়ে ব্যাটিংয়ে পাওয়ার হিট নেয়া যায় না। এটা ফিজিও ভাল বলতে পারবেন।
মুশফিক এই ম্যাচে যে শট খেলে আউট হয়েছে, এ ধরণের শটে সে কম করে হলেও তাকে ৮/৯ বার আউট হতে দেখেছি। যে বলে এক রান আরামসে নিতে পারতো, সেই বলটাকে কেনো সে স্কুপ করতে গেলো ? এটা মাথায় আসছে না।
আমার মনে হয় না, টি-২০ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে আমাদের ব্যাটিং প্র্যাকটিসটা সেভাবে হয়নি। তার প্রভাব পড়েছে ম্যাচে। আমাদের যখন পাওয়ার হিটার নেই, তখন উপরের দিকে না খেলে এক-দুই করে রান করলে স্কোরটা বড় এমনিতেই হবে। সাত-আট নম্বরে আমাদের যে ব্যাটাররা আছে, তাদেরকে আমরা সেভাবে পাওয়ার হিটিং ব্যাটসম্যান হিসেবে চিনি না। অথচ, স্কটল্যান্ডের আট-নয় নম্বর ব্যাটসম্যানরা কিভাবে মুখস্ত শটে চার-ছয় মেরেছে, তা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।
সাকিবকে আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচ খেলতে বিসিবির অনাপত্তিপত্র দেয়াটা ঠিক হয়নি। এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্স ওর সম্মানীর টাকা কাটে কাটুক। কিন্তু দেশের হয়ে তো ওর কমিটমেন্টটা আগে থাকতে হবে। শুনেছি, সাকিব নাকি ফাইনাল খেলে সড়কপথে স্ত্রী, সন্তান, পুরো ফ্যামিলি নিয়ে ওমান গেছে।  বিশ্রাম না নিয়ে সরাসরি খেলেছে সাকিব। এভাবে খেলা যায় না। আইসিসির মেগা আসরে খেলার আগে পুরো দলকে একসঙ্গে একত্রিত করাটা ছিল জরুরী। অন্তত প্রথম ম্যাচের তিনদিন আগে দলের সঙ্গে সাকিবের যোগ দেয়াটা দরকার ছিল। সাকিবকে আমি দোষ দিব না। দোষটা তাদের, যারা সাকিবকে এমন সুযোগ দিয়েছে। কিছু কিছু ভুলে আমাদেরকে চরম লজ্জা দিল স্কটল্যান্ড।
পরবর্তী ম্যাচে আমাদের প্রতিপক্ষ ওমান। এই ম্যাচটি আমাদের জন্য 'ডু অর ডাই।'  সুপার-১২ এর আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচ অবশ্যই জিততে হবে। প্রথম ম্যাচে ওমান যেভাবে ১৩০ রান চেজ করে ১০ উইকেটে জিতেছে, তাও আবার ৩৮ বল হাতে রেখে, তাতে ওমানকে হালকা ভাবে নেয়ার কোন কারণ নেই। পাপুয়া নিউ গিনিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ওরা নেট রান রেট অনেক এগিয়ে রেখেছে। ওমানের ক্রিকেটারদের অধিকাংশ পাকিস্তান-ভারত বংশোদ্ভুত। এই দলটি স্পিন খেলতে পারে, স্পিন করতে পারে। জিসান মাকসুদ নামের ওদের যে বোলার ৪ উইকেট পেয়েছে, তার বল খেলা সহজ নয়।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন