সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ , ১৭ মুহররম ১৪৪৪

খেলা

লিডের কাছে বাংলাদেশ, ৫ হাজারি ক্লাবের সামনে তামিম-মুশফিক

শামীম চৌধুরী, চট্টগ্রাম থেকে মে ১৭, ২০২২, ১৮:১৯:৩১

237
  • ১৩৩ রান শেষে ক্লান্ত তামিম ফিরে যাচেছন ড্রেসিং রুমে। বিসিবি

 শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস : ৩৯৭/১০ (১৫৩.০ ওভারে)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৩১৮/৩ (১০৭.০ ওভারে)
(৩য় দিন পর্যন্ত )

সাগরিকায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টেস্ট মানেই রানবন্যা। ২০১৪ সালে ১৫৮৯, ২০১৮ সালে ১৫৩৩ রানের অতীত সে পূর্বাভাসই দিয়েছে। সাগরিকায় হয়ে যাওয়া তিনদিনের খেলায় সে প্রতিফলনই দেখতে পেয়েছে সবাই। তিনদিনে পড়েছে মাত্র ১৩টি উইকেট। 

৬৭৫ মিনিটের ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা করেছে ৩৯৭/১০। জবাবে কাঁটায় কাঁটায় ৮ ঘণ্টা ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ৩১৮/৩। মুশফিক ৫৩, লিটন ৫৪ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। এই জুটিটা এই সময় ৯৮ রান যোগ করেছে। 

তৃতীয় দিন শেষে ৭৯ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দল লিডের পথ সুগম করেছে।  দিনের দ্বিতীয় সেশনটি (৬৩ রানে ৩ উইকেট) বাদ দিলে দিনের বাকি অংশটা ছিল বাংলাদেশের।

৩৯ মাস পর টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন তামিম নিজের মাঠে। তামিম-জয় ওপেনিং পার্টনারশিপে ১৬২ রানে- শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। আগে সর্বোচ্চ ছিল ২০১৭ সালে গলে, তামিম-সৌম্য’র ১১৮। আর মাত্র ১৯ রান করতে পারলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজার টেস্ট ক্লাবের সদস্যপদ পাবেন, তা জেনেও ১৩৩ রান শেষে  তীব্র দাবদাহের এবং ক্লান্তির কারণে টি ব্রেকের পরে তামিম ব্যাটিংয়ে নামেননি। এই ক্লাবের সদস্যপদ মুশফিক আগে পেয়ে যাক, চেয়েছেন তা। তার মহানুভবতায় ৫ হাজার রান থেকে মুশফিক এখন ১৫ রান দূরে।  
   
দিনের শুরুটা করেছেন তামিম দ্বিতীয় বলে মেন্ডিজকে আত্মবিশ্বাসী শটে দুই রান নিয়ে। দ্বিতীয় ওভারে ফার্নান্দোকে মেরেছেন দুটি চার। মেন্ডিজকে শর্ট বলে চার মেরে ৩২তম ফিফটি পূর্ণ করেছেন ৭৩ বলে। লোকাল হিরো তামিমের এটা সাগরিকায় ১২তম ফিফটি। নিউজিল্যান্ড সফরে ৭৮, দ. আফ্রিকা সফরে ১৩৭ রানে নিজেকে চেনানো তরুণ ওপেনার জয় পেয়েছেন ফিফটি ১৭১ মিনিটে ফিফটি পূর্ণ করেছেন তিনি।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিলটনে নবম সেঞ্চুরি উদ্‌যাপনের পর থমকে দাঁড়িয়েছেন তামিম দীর্ঘ সময়। ডাবল ডিজিটের জন্য গুনতে হয়েছে তাকে অপেক্ষার প্রহর। হতে হতে হয়নি দশম সেঞ্চুরি। ফসকে গেছে গত বছর শ্রীলঙ্কা সফরে দুবার। পাল্লেকেলেতে ৯০ ও ৯২ রানে থেমে নিজেকে দুর্ভাগা মনে করেছেন তামিম।  

টেস্টে নবম সেঞ্চুরির পর পরবর্তী শতকের জন্য তামিমকে অপেক্ষা করতে হয়েছে তামিমকে ৩৯ মাস। আসিথার শর্ট বলে মিড অফে চার মেরে ৯৯, পরের বলে মিড উইকেটে পুশ করে ১ রান নিয়ে পূর্ণ করেছেন টেস্টে ১০ম  সেঞ্চুরি।

যেখানে বড় হয়েছেন, নিজেদের বাসা-বাড়ি, অথচ সেখানে একমাত্র  টেস্ট সেঞ্চুরিটি তার ২০১৪ সালের নভেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সাড়ে ৭ বছর পর সাগরিকায় পেলেন সেঞ্চুরির দেখা।

আগের দিন ৩৯ রানে ব্যাটিংয়ে ছিলেন তামিম। ৩য় দিনের শুরুটা করেছেন তামিম দ্বিতীয় বলে মেন্ডিজকে আত্মবিশ্বাসী শটে দুই রান নিয়ে। দ্বিতীয় ওভারে ফার্নান্দোকে মেরেছেন দুটি চার। মেন্ডিজকে শর্ট বলে চার মেরে ৩২তম ফিফটি পূর্ণ করেছেন ৭৩ বলে। লোকাল হিরো তামিমের এটা সাগরিকায় ১২তম ফিফটি। জয়কে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬২ রানে বাংলাদেশের ওপেনিং পার্টনারশিপে রেকর্ডের নায়ক তামিম ২১৯ মিনিটে পূর্ণ করেছেন ১০ম শতক।

১৬২ বলে ১২টি চার মেরে পূর্ণ হওয়া সেঞ্চুরিতে আরেকটা মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তামিম। মুশফিক, মুমিনুলের পর সাগরিকায় তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্টে হাজার রান পূর্ণ করেছেন দেশসেরা ব্যাটার। টি ব্রেকের সময় তার স্কোর ১৩৩। আরেকটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সেরা ব্যাটার। আর মাত্র ১৯ রান করতে পারলে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ৫ হাজারি ক্লাবের সদস্যপদ পাবেন তামিম।

তামিমের সেঞ্চুরির দিনে সেঞ্চুরি পেতে পারতেন জয়ও। তবে ৫১ রানের মাথায় আসিফার বলে এমবুলদুনিয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া জয় থেমেছেন ৫৮ রানে। আসিফার শর্ট বল ছাড়তে যেয়েও পারেননি, উইকেটরক্ষকের হাতে দিয়েছেন ক্যাচ।

বিশ্ব ফার্নান্দো হাসপাতালে ভর্তি হলে তার জায়গায় ৩য় দিনের শেষ ২ সেশনে কনকাশন সাব হিসেবে খেলতে নেমে দারুণ বোলিং করেছেন (১১-৪-১৭-২)। শান্তকে উইকেটের পিছনে (২২ বলে ১) এবং মুমিনুলকে বোল্ড আউটে (১৯ বলে ২) ফিরিয়ে দিয়েছেন কনকাশন সাব পেসার রাজিথা।

৩৩ রানের মাথায় ধনঞ্জয়ার বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ওসাডার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া লিটন ১২তম ফিফটি উদ্‌যাপন করেছেন। মুশফিক ফর্মে ফিরতে বেছে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কাকে। তিনি উদ্‌যাপন করেছেন ২৬তম ফিফটি।  
 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন