শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ , ৭ জিলহজ ১৪৪৫

খেলা

মোস্তাফিজের রেকর্ডময় দিনে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার মে ২৬, ২০২৪, ০০:১৯:০৬

264
  • মোস্তাফিজের বোলিং। -ফাইল ফটো

যুক্তরাষ্ট্র :১০৪/৯ (২০.০ ওভারে)

বাংলাদেশ : ১০৮/০ (১১.৪ ওভারে)

ফল : বাংলাদেশ ১০ উইকেটে জয়ী।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ : মোস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ)।

প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ : মোস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ)। 

টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০ ধাপ নিচে থাকা দল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১ ম্যাচ আগে সিরিজ হারে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনা। দল নির্বাচন নিয়ে নির্বাচকেদের দাঁড় করানো হয়েছে আসামীর কাঠগড়ায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিসিবিকে করা হয়েছে তুলোধুনো। এমন এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কীভাবে অবতীর্ন হবে বাংলাদেশ, এ প্রশ্নটাই উঠেছিল জোরে-শোরে।

তবে হোয়াইট ওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ দল। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ সেরা বোলিংয়ে (৪-১-৯-৬) মোস্তাফিজের রেকর্ডময় দিনে হিউস্টনের প্রেইরি ভিউতে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে (১০ উইকেটে) জয়ের রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ।

শুধু তাই নয়, সৌম্য (২৮ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৪৩*)-তানজিদ হাসান তামিমের (৪২ বলে ৫ চার ৩ ছক্কায় ৫৮*) ওপেনিং পার্টনারশিপের অবিচ্ছিন্ন রেকর্ড দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৮। মোস্তাফিজের তোপের পর তানজিদ হাসান তামিম-সৌম্য ঝড়ে  এদিন রেকর্ড হয়েছে আরও একটি। সর্বাধিক ৫০ বল হাতে রেখে জয় সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে বাংলােদেশের নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এমন জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শুরুর টনিক পাবে বাংলাদেশ।    

আইপিএলে চেন্নাইয়ে দারুণ একটি আসর কাটিয়ে ঢাকায় ফিরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চেনা ছন্দে ছিলেন মোস্তাফিজ। তবে যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতে মোস্তাফিজ নিজেকে সেভাবে চেনাতে পারেননি। সফরের প্রথম টি-২০ ম্যাচে ২ উইকেটের বিপরীতে খরচ করেছেন ৪১ রান।

প্রথম ম্যাচের অমিতব্যয়ী বোলিংয়ের অপবাদ ঘুঁচিয়েছেন দ্বিতীয় ম্যাচে (২/৩১)। সিরিজের শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ছিন্নভিন্ন করেছেন (৪-১-৯-৬ ) মোস্তাফিজ। তার ভয়ংকর তোপে ১০৪/৯-এ ইনিংস গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজের ট্রফি নিশ্চিত করে সাইড বেঞ্চের ক্রিকেটারদের পরখ করে দেখতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র টিম ম্যানেজমেন্ট। 

নিয়মিত অধিনায়ক মোনাক প্যাটেল ছাড়া ম্যাচ উইনার স্টিভেন টেলর, হরমিত সিং এবং আলি খানকে বিশ্রামে দিয়ে সাইড বেঞ্চের শক্তি পরখ করতে চাওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুখকর হয়নি।  

হিউস্টনের প্রেইরি ভিউ-তে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুটা ভাল করতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। হাসান মাহমুদ প্রথম ওভারে খেয়েছেন ২টি চার। সাকিব প্রথম বলে খেয়েছেন ছক্কা। তানজিম সাকিবকে এক ওভারে ৪টি বাউন্ডারি মেরেছেন গাউস।  

প্রথম ৪ ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর উইকেটহীন ৩৫। প্রথম উইকেট জুটির ৪৬ রানে বাংলাদেশকে চোখ রাঙিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখান থেকে গাউসকে (১৫ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ২৭)লং অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে সাকিব দিয়েছেন ব্রেক থ্রু। 

প্রথম ওভারেই মেডেন উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ। ৫ম বলে শায়ান জাহাঙ্গীরকে (২০ বলে ১৮) ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। তিনটি স্পেলেই (১-১-০-১, ১-০-২-১, ২-০-৭-৪) ভয়ংকর রূপ ছড়িয়েছেন মোস্তাফিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের ৬ উইকেট ছিল না।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে এতোদিন সেরা বোলিং ছিল বাঁ হাতি স্পিনার ইলিয়াস সানির (৪-১-১৩-৫)। ২০১২ সালে বেলফাস্টে টি-টোয়েন্টি অভিষেকেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন সেই রেকর্ড। ইলিয়াস সানির সেই রেকর্ড টপকে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন মোস্তাফিজ। 

মোস্তাফিজ এদিন ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৯টি দিয়েছেন ডট। একটিও বাউন্ডারি খেতে হয়নি তাকে। তৃতীয় পাওয়ার প্লে-এর দুই ওভারে এই বাঁ হাতি স্পিনারের তোপে কেঁপে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে শ্যাডলিকে (১৭ বলে ১২) ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বোল্ড করেছেন, ৫ম বলে ডেঞ্জারম্যান কোরে অ্যান্ডারসন থার্ডম্যানে খেলতে যেয়ে হয়েছেন বোল্ড (১৮ বলে ১৮)। ৮ বছর ২ মাস পর টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসে দেখা পেয়েছেন ৫ম উইকেটের।

শেষ ওভারের তৃতীয় বলে জেসি সিংকে ইয়র্কারে করেছেন বোল্ড (৭ বলে ৬)। ইনিংসের শেষ বলে নিসর্গ প্যাটেল (৬ বলে ২) ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিলে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৬ উইকেটের অনন্য নজির গড়েছেন। টি-টোয়েন্টির রেকর্ডস বুকে ৬ উইকেটের ৭ম দৃষ্টান্ত এটি।

তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশসমূহের বোলারদের মধ্যে এই কৃতিত্বে মোস্তাফিজ আছেন সেরা তিন-এ। ২০১৯ সালে নাগপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের দীপক চাহার (৩.২-০-৭-৬) এবং ২০১২ সালে হাম্বানটোটায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিজের ( ৪-২-৮-৬) কৃতিত্বপূর্ণ ইনিংস আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশসমূহের বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজের উপরে। 

মোস্তাফিজের দিনে লেগ স্পিনার রিশাদও দারুণ বোলিং করেছেন (৪-১-৭-১)। এই জুটির বোলিংয়ে ইনিংসের মাঝের ৯ ওভারে স্কোরশিটে ২২ রান যোগ করে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ৩ উইকেট। শেষ পাওয়ার প্লে-তে ৩৬ রানে হারিয়েছে ৪ উইকেট।

১০৫ রান তাড়া করে জয়ের জন্য এদিন মোটেও বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশকে। তানজিদ হাসান তামিমকে শেষ ম্যাচে ফিরিয়ে সুফল পেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এ মাসেই টি-টোয়ন্টি অভিষেকে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উদযাপন করেছেন হাফ সেঞ্চুরি (৪৭ বলে ৮ চার, ২ ছক্কায় ৬৭*)। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৭ম ম্যাচে এসে দেখা পেলেন দ্বিতীয় ফিফটি (৪২ বলে ৫ চার, ৩ ছক্কায় ৫৮*)। সৌম্যও স্ট্রাইক রেটে মনযোগ দিয়েছেন এই ম্যাচে (২৮ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৪৩*)। 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন