শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ , ১৪ জুমাদাউস সানি ১৪৪৭

খেলা

সেঞ্চুরির পর মিরাজের ৫ উইকেট, ইনিংস ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক এপ্রিল ৩০, ২০২৫, ১৮:৩৫:১৮

241
  • ছবি: ক্রিকইনফো

শেষ দিকের ব্যাটারদের নিয়ে দুর্দান্ত লড়াই করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এক পর্যায়ে অরেকটা রাজকীয় স্টাইলে এ ডানহাতি তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাতে বাংলাদেশ দল পেয়ে দারুণ লিড। তার ওপর ভর করে বুধবার শুরু থেকেই বল হাতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের চেপে ধরে। এখানেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন সেই মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ঘূর্ণিতে একের পর এক প্রতিপক্ষের ব্যাটার ফিরেন সাজঘরে। শেষ পর্যন্ত এ অলরাউন্ডারের অসাধারণ নৈপুণ্যে নিশ্চিত হয় তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে জয়। এরফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল টিম টাইগার্স। 

বুধবার চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ জিতে ইনিংস ও ১০৬ রানে। টেস্টে বাংলাদেশের এটি তৃতীয় ইনিংস ব্যবধানে জয়। ঘরের মাঠে টানা ৬ টেস্ট হারের পর বাংলাদেশের এটি প্রথম জয়।

বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান মেহেদী হাসান মিরাজের। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে তুলে নেন সেঞ্চুরি, এরপর বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার করেন ৫ উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। মিরাজ ছাড়াও ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচে বড় অবদান রাখেন তাইজুল ইসলাম, আর ওপেনার সাদমান ইসলামও তুলে নেন দারুণ এক সেঞ্চুরি।

প্রথম ইনিংসে ২২৭ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। জবাবে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে দুই সেঞ্চুরিতে ৪৪৪ রান করে। ২১৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১১১ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ফলে ইনিংস এবং ১০৬ রানের ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।

২১৭ রান লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে টাইগারদের শুরুটা এনে দেন তাইজুল ইসলাম। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ব্রায়ান বেনেটকে ফেরান স্লিপে সাদমানের হাতে ক্যাচ করিয়ে। একই ওভারে এলবিডব্লিউ করেন নিক ওয়েলচকে, রিভিউ নিয়ে পান উইকেটটি। এরপর উইলিয়ামসকেও বিদায় করেন অফ স্পিনার নাঈম ইসলাম, দ্বিতীয় স্লিপে সাদমানের হাতেই ধরা পড়েন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

চতুর্থ উইকেটে আরভিন-কারেন জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও, মিরাজ এসে ভেঙে দেন সেই জুটি। এক ওভারেই ফেরান আরভিন ও মাদেভারেকে। এরপর তাফাদওয়া সিগা, মাসাকাদজা ও কারেনকে ফিরিয়ে ইনিংসে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন মিরাজ। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এক টেস্টে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি, সাকিব আল হাসান ও সোহাগ গাজীর পাশে নাম লেখান। 

শেষ দিকে আবার বল হাতে ফিরে রিচার্ড এনগারাভাকে ফেরান তাইজুল। এরপর রানআউটের মাধ্যমে শেষ হয় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। এই জয়ে শুধু সিরিজে সমতায়ই ফিরেনি বাংলাদেশ, বরং দেশের মাটিতে দীর্ঘ দিনের টেস্ট জয়ের অপেক্ষাও ঘুচিয়েছে।

এর আগে সাত উইকেটে ২৯১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মিরাজ এবং তাইজুলে দল তিনশ পার করে। ৮৯.২ ওভারে তাইজুলের চারে তিনশ পার করে বাংলাদেশ। এই দুজনের ৬৩ রানের জুটি ভাঙেন ভিনসেন্ট মাসেকেসা। তাইজুলকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। ৪৫ বলে ২০ রানে বিদায় নেন তাইজুল। 

তাইজুল ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ খেলেন মিরাজ। তাকে দারুন সঙ্গ দেন তানজিম হাসান সাকিব। এই দুজনের ব্যাটে ১১৩ ওভারে চারশ রান স্পর্শ করে বাংলাদেশ। মিরাজ-তানজিমের নবম উইকেট জুটিও পঞ্চাশ রান ছাড়িয়ে যায়। ১১৪ ওভারে আট উইকেটে ৪০৪ রান করে মধ্যাহ্নভোজ বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

মিরাজ-তানজিম নবম উইকেট জুটিতে তোলেন ৯৬ রান। টেস্ট অভিষেকে তানজিমের ব্যাটে আসে ৮০ বলে ৪১ রান। তাকে ফেরান ওয়েসলি মাধেভেরে। এই স্পিনারের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে এক করতে পারেননি তানজিম। শর্টে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিতে হয় তাকে। এর একটু পরই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়  টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন মিরাজ। ১৪৩ বলে সেঞ্চুরি আসে মিরাজের। বাংলাদেশের লিডও দুইশ রান পার করে।

শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন মিরাজ। মাসেকেসার বলে ডাউন দ্যা উইকেটে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন এই অলরাউন্ডার। ফেরার আগে ১৬২ বলে ১০৪ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। মূলত তার ব্যাটেই জয়ের মঞ্চটা তৈরি করে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সেই তার দুর্দান্ত বোলিং নৈপূন্যের সুবাদে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠে ছাড়ে টিম টাইগার্স।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে: ২২৭ ও ১১১

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৪৪

ফল: বাংলাদেশ ইনিংস ও ১০৬ রানে জয়ী। 

ম্যাচ ও সিরিজ সেরা: মেহেদী হাসান মিরাজ। 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন