বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ , ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

খেলা

এবার স্বপ্নভঙ্গ রংপুরের, গ্লোবাল সুপার লিগ চ্যাম্পিয়ন গায়ানা

ক্রীড়া ডেস্ক জুলাই ১৯, ২০২৫, ০৯:৫৬:০৫

503
  • ছবি: ইন্টারনেট

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। চলতি টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে ওঠা। তাই আবারও গ্লোবাল সুপার লিগের শিরোপা উল্লাসের স্বপ্ন দেখেছিল রংপুর রাইডার্স। তবে রবিবার বাংলাদেশ সময় সকালে এ টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে হতাশা উপহার দিয়েছে নুরুল হাসান সোহানের দল। এদিন তারা গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের কাছে ৩২ রানে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। গত বছর এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রথম আসরে শিরোপা জিতেছিল রংপুর।

গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে গ্লোবাল সুপার লিগের (জিএসএল) ফাইনালে রবিবার আগে বল হাতে ১৯৬ রানে গায়ানাকে আটকে দেয় রংপুর। জবাব দিতে নেমে রংপুরের ইনিংস থামে যায় ১৬৪ রানে।

জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ৬৯। হাতে ২ উইকেট। মাহিদুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম এখান থেকে আর কি–ই–বা করতে পারতেন! যতটা সম্ভব পাল্টা লড়াই চালিয়েছেন তারা। আসলে রংপুর রাইডার্স ম্যাচ হেরেছে আসলে নিজেদের ইনিংসে প্রথম ১০ ওভারেই! সে সময় তাদের স্কোর ৬৫/৩। ইব্রাহিম জাদরান, কাইল মেয়ার্স ও সৌম্য সরকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৩ ব্যাটসম্যানকে হারানোর পাশাপাশি দ্রুত রানও তুলতে পারেনি রংপুর। শেষ ১০ ওভারে ১৩২ রান তোলার চাপটা তাই নিতে পারেনি নুরুল হাসানের দল।

২০ তম ওভারের শেষ বলে কামরুল আউট হওয়ায় ১৯.৫ ওভারে ১৬৪ রানে অলআউট হয় রংপুর। ৩২ রানের জয়ে গ্লোবাল সুপার লিগে নিজেদের প্রথম শিরোপা জিতল আমাজন ওয়ারিয়র্স। 

বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি রংপুরের। ইনিংসের  দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় দলটি। রান আউট হয়ে ফিরেন ইব্রাহীম জাদরান। ফলে দলীয় ৬ রানেই প্রথম ব্যাটসম্যানকে হারায় দলটি। ইব্রাহীমের ব্যাট থেকে আসে ৪ বলে ৫ রান।

দলের বিপদের সময় জ্বলে উঠতে পারেননি সৌম্য সরকার। রবিবার তিনি ১৪ বলে মাত্র ১৩ রান করে ফেরেন। ডুয়াইন প্রিটোরিয়াসের বলে ক্যাচ দেন গুড়াকেশ মোতিকে। পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন রংপুরের এই ব্যাটার। কাইল মেয়ার্সও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তিনি ১০ বলে ৫ রান করে ফিরেছেন। স্লগ করতে গিয়েছিলেন মেয়ার্স। তবে ব্যাটে বলে করতে পারেননি। বল সোজা চলে যায় স্টাম্পে।

বিপর্যয় সামাল দিয়ে দারুণ এক জুটি গড়ে রংপুরকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন সাইফ হাসান ও ইফতিখার আহমেদ। তবে রান আউটে তাদের ৭৩ রানের জুটি ভাঙে। হাফ সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ২৬ বলে ৪১ রান করে ফেরেন সাইফ। এদিকে হাফ সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন  ইফতিখারেরও।

পাকিস্তানি এই ব্যাটার ২৯ বলে ৪৬ রান করে প্রিটোরিয়াসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন ইফতিখার। তবে বাঁচতে পারেননি। ১১৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় রংপুর। তিন বল পর প্রিটোরিয়াস আউট করেছেন ৬ বলে ৩ রান করা আজমতউল্লাহ ওমরজাইকেও।

এরপর উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই ফিরেন রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তিনি ইমরান তাহিরের বলে পা বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে বোলারকেই ক্যাচ দিয়ে বসেন। এক বল পর আউট হয়ে গেছেন খালেদ আহমেদও। ফলে রংপুরের হার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই। শেষ দিকে নেমে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন দারুণ এক ক্যামিও খেললেও তা রংপুরের জয়ের জন্য যথেষ্ঠ ছিল না। ইনিংসের শেষ ওভারে রংপুরের জোড়া উইকেট তুলে নেন গুড়াকেশ মোতি। ১৭ বলে ৩০ রান করা অঙ্কনকে আউট করার পর তিনি নেন কামরুল ইসলাম রাব্বির উইকেট। আর তাতেই ১৬৪ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর।

এরআগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে রংপুরের বিপক্ষে ঝড়ো শুরু করেন জনসন চার্লস ও এভিন লুইস। এই দুই ওপেনার মিলে তুলেন ৩ ওভারে ২০ রানও। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে রংপুরকে প্রথম উইকেটের স্বাদ এনে দেন খালেদ আহমেদ। তিনি ফেরান ৯ বলে ৫ রান করা এভিন লুইসকে। আর তাতেই তাদের জুটি ভাঙে ২১ রানে। খালেদের অফ স্টাম্পের বল এক্রস দ্য লাইন খেলতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সাইফের হাতে ক্যাচ দেন লুইস। তার বিদায়েও থামেনি চার্লস ঝড়। আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে ষষ্ঠ ওভারে টানা চারটি চার মারেন তিনি। আর তাতেই ৬ ওভারে দলীয় ৫০ তুলে নেয় গায়ানা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাতখুলে খেলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজও। এই দুজনের পঞ্চাশ পেরুনো জুটিতে ১০ ওভারে গায়ানা ছাড়িয়ে যায় ৮০ রানের গন্ডী।

ওমরজাইকে ১১তম ওভারে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে মাত্র ৩৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন চার্লস। গুরবাজ হাফ সেঞ্চুরি পেতে খেলেছেন ৩১ বল। ১৪তম ওভারের শেষ বলে সৌম্য সরকারকে লং অফ দিয়ে ছক্কা মেরে তিনি হাফ সেঞ্চুরি করেন। চার্লস ১৫ ওভারের পর রিটায়ার্ড আউট হয়ে ফিরেছেন ব্যক্তিগত ৬৭ রানে। এরপর শিমরন হেটমায়ার আসেন উইকেটে। তবে এই জুটি বড় হয়নি। তাবরাইজ শামসি আউট করেছেন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা গুরবাজকে।

ইফতিখার আহমেদ থিতু হতে দেননি হেটমায়ারকে। গায়ানার এই ব্যাটার কাভার দিয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। বল চলে যায় উইকেটের পেছনে নুরুল হাসান সোহানের হাতে। তিনি স্টাম্পিং করতে সময় নেননি। এরপর রোমারিও শেফার্ড পম শেরফানে রাদারফোর্ড মিলে গায়ানার রান বাড়িয়েছেন। রাদারফোর্ড ১৫ বলে ১৯ ও শেফার্ড ৯ বলে ২৮ রানের ক্যামিও খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন। খালেদ আহমেদ ইনিংসের শেষ ওভারে এসে দুই ছক্কা ও এক চারে খরচ করেন ১৯ রান। আর তাতেই ১৯৬ রানের সংগ্রহ পেয়ে যায় গায়ানা। শেষ পর্যন্ত এই রান রংপুরের জন্য হয়ে দাঁড়ায় গলার কাটা। যে কারনে ৩২ রানের হারের সঙ্গে শিরোপাও হাতছাড়া হয়েছে দলটির। 

দারুণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। এদিকে পুরো টুর্নামেন্টে ১৪ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন ইমরান তাহির। 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers