মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৫ জিলকদ ১৪৪৭

খেলা

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে রিয়ালকে হতাশায় ডুবিয়ে সেমিফাইনালে বায়ার্ন

ক্রীড়া ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১১:০৫:৩০

91
  • সংগৃহীত

কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ভুলের সুযোগ আর না করতেই বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে চেনা প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে নিজেদের শোধরাতে পারেনি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দলটি। প্রথমার্ধেই একাধিক গোল হজম করে। তবে এ অধেই ওই ধাক্কা সামলে দিয়ে ভিন্ন কিছুই ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা করে দেখাতে পারেনি স্প্যানিশ জায়ান্টরা।  উল্টো আরও একবার হারে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিতে হল রিয়ালের। এদিকে এ জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল বায়ার্ন।

বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৪-৩ গোলে জিতে বায়ার্ন। প্রথম দেখায় ২-১ ব্যবধানে জয়ী দলটি দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় এগিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করল তারা।

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুধবার শুরু থেকেই গোল উৎসব হয়। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে যার শুরুটা করেন আর্দা গিলের। পরে আরেকটি দারুণ গোল করেন তিনি। দুইবার পিছিয়ে পড়ে আলেকসান্দার পাভলোভিচ ও হ্যারি কেইনের গোলে সমতায় ফেরে বায়ার্ন। এদিকে কিলিয়ান এমবাপের গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় রিয়াল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর কিছু করতে পারেনি তারা। উল্টো শেষ সময়ে তাদের জালে বল পাঠান লুইস দিয়াস ও মাইকেল ওলিসে।

ম্যাচের শুরুতেই মানুয়েল নয়ার মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে, পোস্ট ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে ডান দিকে আরেক সতীর্থকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন জার্মান গোলরক্ষক, কিন্তু বলে ঠিকঠাক গতি ছিল না। মাঝপথে বল ধরেই দারুণ বাঁকানো শট নেন গিলের, বল ক্রসবার ঘেঁষে জড়ায় জালে। ম্যাচের বয়স তখন ৪৫ সেকেন্ড মাত্র। চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন তুর্কি মিডফিল্ডার।

ওই ধাক্কা সামলে নিতে অবশ্য একদমই দেরি করেনি বায়ার্ন। পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা টেনে, দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে যায় তারা। জসুয়া কিমিখের কর্নারে একেবারে গোলমুখে হেডে গোলটি করেন পাভলোভিচ। আয়ত্ত্বের মধ্যে হলেও, উড়ে আসা বলের গতি বুঝতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।

২৬-২৭তম মিনিটে পরপর তিনটি কর্নার পায় বায়ার্ন। প্রথমটিতে ফের বলের গতি-প্রকৃতি বুঝতে ব্যর্থ হন লুনিন, দ্বিতীয়টিতে অবশ্য কিমিখের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন ইউক্রেইনের গোলরক্ষক।

তৃতীয় কর্নারটি ঠেকিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ শাণায় রেয়াল এবং দুর্দান্ত গোলে দলকে আবার ম্যাচে এগিয়ে নেন গিলের।

ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রিয়াল এবং অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ‘তুরস্কের মেসি।’ নয়ার ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।

৩৭তম মিনিটে লুনিন আরেকটি দারুণ সেভ করলেও, পরের মিনিটে ফের গোল হজম করে রিয়াল। উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কেইন।

তিন মিনিট পর ভিনিসিউস জুনিয়রের দারুণ শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় ক্রসবারে। অবশ্য পরের মিনিটেই দলকে আবার এগিয়ে নেন এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান তারকার পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা টানেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক শুরু করে বায়ার্ন। ৬৮তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন ওলিসে, কোনোমতে এক হাত দিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান লুনিন। একটু পর পাল্টা আক্রমণে এমবাপের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেলেও, সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিউস।

নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রেয়াল। ৬৮তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। আর আট মিনিট পর কেইনকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার।

এরপরই রিয়ালের সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ৮৯তম মিনিটে দিয়াসের জোরাল শটে বল একজনের পা ছুঁয়ে একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।আর চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ওলিসের গোলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি।

উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন। অন্যদিকে হতাশায় ভেঙে পড়ে রিয়াল।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শিরোপাধারী পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ।

 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers