বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩২ আষাঢ় ১৪৩৩ , ৩০ মুহররম ১৪৪৮

খেলা

অভিষেকেই স্পেনকে রুখ দিয়ে চমক কেপ ভার্দের

ক্রীড়া ডেস্ক জুন ১৬, ২০২৬, ১০:২৭:১৪

171
  • সংগৃহীত

একের পর এক আক্রমণ চালিয়েই গেল স্পেন। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় বল দখলও রাখল দলটি। তবে কোনোকিছুতেই কেপ ভার্দের রক্ষণের প্রাচীর ভাঙতে পারেনি তারা। চোট কাটিয়ে ফেরা লামিন ইয়ামাল দলের খুব প্রয়োজনে মাঠে নামলেন, তিনিও পারলেন না দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় নিতে। শেষ পর্যন্ত তাই বিশ্বকাপ অভিষেকে স্পেনের বিপক্ষে গোল শুন্য ড্র করে চমক জাগাল কেপ ভার্দে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার হিসেবে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। সেই তারাই সোমবার রাতে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখল। আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে গিয়েও কেপ ভার্দের রক্ষণ আর গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে ফাঁকি দিতে পারেননি ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

গোলরক্ষক ভোজিনিয়া ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশ আক্রমণের সামনে যেন মানবপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। করেন ৭টি অসাধারণ সেভ, যার কয়েকটি ছিল নিশ্চিত গোল বাঁচানো। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। সেটি হতাশার নয়, বরং এক স্বপ্নপূরণের আনন্দ। কেপ ভার্দের মানুষের জন্য এ এক উৎসবের মুহূর্ত, আর সেই উৎসবের প্রধান কারিগর হয়ে রইলেন তাদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে তিনি উপহার দিলেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় সন্ধ্যাগুলোর একটি।

ম্যাচজুড়ে বলের দখল ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে। তবে আধঘণ্টা পার হওয়ার পরও কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। এমনকি শট অন টার্গেটও ছিল মাত্র একটি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশ্য চাপ বাড়ায় স্পেন। ফেরান তোরেস গোলের দারুণ একটি সুযোগ নষ্ট করেন, তার শট গিয়ে লাগে ক্রসবারে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবালের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ভোজিনিয়া।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তেও তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের দুটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। তার দৃঢ়তায় গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর ফিরেই নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে স্পেন। একের পর  এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্পেন। শেষ পর্যন্ত ৭১ মিনিটে মিকেল মেরিনোর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় লামিনে ইয়ামালকে। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট না হলেও গোলের খোঁজে তরুণ এই তারকার ওপরই ভরসা রাখেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

ইয়ামালের এই ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ অভিষেক হয়। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার নামেন তিনি। অন্যদিকে ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় ভোজিনিয়ার। দুজনের বয়সের পার্থক্য ২১ বছর ৪৫ দিন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বয়সের ব্যবধান।

ইয়ামালকে নামিয়েও জালের দেখা পায়নি স্পেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ড্র তুলে নেয় কেপ ভার্দে।

 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers