বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৭ সফর ১৪৪৮

খেলা

ব্যাটিং ব্যর্থতায় টি-টোয়েন্টির সিরিজের শুরুতেই হার বাংলাদেশের

চঞ্চল রহমান জুন ১৭, ২০২৬, ১৮:১৮:৫৩

111
  • ব্যাটিং ব্যর্থতায় টি-টোয়েন্টির সিরিজের শুরুতেই হার বাংলাদেশের

৫০ ওভারের ক্রিকেটে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ২০ ওভারের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল টিম টাইগার্স। বুধবার ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারই সঙ্গী হয়েছে স্বাগতিকদের। এর ফলে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বুধবার বাংলাদেশ হেরেছে ৬ উইকেটে। এদিন টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারও খেলতে পারেনি টিম টাইগার্স। ১৯ ওভারে স্বাগতিকরা গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। ২২ বলে চারটি চারে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন শেখ মেহেদি হাসান। পরে বল হাতেও নিজেদের ঠিক চেনাতে পারেনি লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এ সুযোগে অস্ট্রেলিয়া সহজেই ম্যাচ জিতে নেয় ১০ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখে। আব্দুল গাফ্ফার সাকলায়েন নেন ৩২ রানে ২ উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার সামনে ১৩২ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বোলিংয়ের শুরুটা খুব একটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। শরিফুলের হাত ধরে টাইগাররা উইকেটের দেখা পায় তৃতীয় ওভারেই। সে সময় জস ইংলিশকে বোল্ড করে ফেরান টাইগার পেসার। ১৩ রানে এসে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে দ্রুতেই মোস্তাফিজ ফেরান ১৪ বলে ১৩ রান করা মিচেল মার্শকে।  তাঁর অফ স্টাম্পের বাইরের বলে আপার কাট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্যাচ গেছে শরীফুলের হাতে। তখন অজিদের রান ৫ ওভারে ২ উইকেটে ৩৮।

লক্ষ্য ছোট হওয়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন কুপার কনোলি। আব্দুল গাফফারের দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে দ্রুতই ম্যাচ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তবে এ পেসার পরের বলেই তাকে ফেরান সাজঘরে। বাউন্ডারির কাছে তার ক্যাচ নেন শরীফুল। ২৭ বলে ৪৭ রান করে আউট হন কনোলি। এদিকে টিম ডেভিডকেও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি শেখ মেহেদি হাসান। ইনিংসের ১২তম ওভারের তৃতীয় বলেই তাকে ফেরান তিনি। ফেরার আগে ডেভিডের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২ ছয়ে ২০ রান। তারপরও কোন চাপই অনুভব করেনি অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিকে নিখিল চৌধুরিকে ফেরান রিশাদ। তবে তাতে থামেনি অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথ। আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইনের আগের বলে সাইফ হাসানের হাতে ক‍্যাচ দিলেন ম‍্যাট রেনশ (২৮ বলে ১৮)। পরের বলে চার মেরে ম‍্যাচ শেষ করেন জেভিয়ার বার্টলেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান শুরুটা ধীরেই করে। তবে ২৬ রানের মাথায় তামিমের বিদায়ে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ৯ বলে ১০ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার। এর কিছুক্ষণ পরে বাজে শটে সাজঘরে ফেরেন সাইফ। রেনশোর বলে মিডঅফে সহজ ক্যাচ দেয়ার আগে ১৪ বলে ২০ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব পাওয়া তাওহীদ হৃদয়ের ওপর ভরসা করেছিল বাংলাদেশ। তিনি শুরুটা করেন ছক্কা হাঁকিয়ে। তবে এদিন থিতু হতে পারেননি । অ্যাডাম জাম্পার গুগলিতে বোল্ড হওয়ার আগে করেন ৮ রান। একই বোলারের শিকার হন সৌম্য সরকারও। চট্টগ্রামে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে ১৮ বলে ১৭ রান করেন তিনি।

মিডল অর্ডারে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১০০ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ায় শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। যা আরও বাড়ায় পাঁচ নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমন উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে।

এদিকে শামীম পাটোয়ারীও করেন হতাশ। দায়িত্বহীন শটে আউট হয়ে দলকে ফেলেন আরও বিপদে। ৭৮ রানেই বাংলাদেশ হারায় ষষ্ঠ উইকেট। তবে অভিষিক্ত আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাসের আভাস দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১০ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর রিশাদ হোসেনও ৩ রান করে বিদায় নিলে ১০০ রানের আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

১৩ ওভারের মাথায় ৮ উইকেট হারিয়ে পুরো ২০ ওভার খেলাই তখন হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ দিকে শেখ মেহেদীর লড়াকু ব্যাটিং কিছুটা সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেয় দলকে। ২২ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন তিনি। শেষ দিকে মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের ছোট ছোট অবদানে ১৯ ওভারে ১৩১ রান পর্যন্ত পৌঁছায় বাংলাদেশ। তবে এ পুঁজি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি টাইগারদের।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অ্যাডাম জাম্পা। ৩ উইকেট নেন তিনি। জুয়েল ডেভিস নেন ৩ উইকেট, রেনশোর শিকার ২টি। আর নিখিল ও জনসন নেন একটি করে উইকেট।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ১৯ ওভার ১৩১ (সাইফ ২০, তানজিদ ১০, সৌম‍্য ১৭, হৃদয় ৮, পারভেজ ১০, সাকলাইন ১০, শামীম ১, মেহেদি ২৯*, রিশাদ ৩, শরিফুল ৭, মোস্তাফিজ ৭; জনসন ২-০-১০-১, বার্টলেট ২-০-১৯-০, এলিস ৩-০-২২-০, রেনশ ৩-০-২৬-২, জ‍্যাম্পা ৪-০-১৮-৩, ডেভিস ৩-০-১৭-৩, নিখিল ২-০-১৪-১)

অস্ট্রেলিয়া: ১৮.২ ওভার ১৩৩/৬ (মার্শ ১৩, ইংলিস ৫, কনোলি ৪৭, ডেভিড ২০, রেনশ ১৮, নিখিল ১৮, ডেভিস ৭*, বার্টলেট ৪*; শরিফুল ৩-০-২২-১,মোস্তাফিজ ৩-০-১৬-১, মেহেদি ৪-০-২৯-১, রিশাদ ৪-০-২৬-১, সাকলাইন ৩.২-০-৩২-২, সাইফ ১-০-৭-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: অ্যাডাম জ্যাম্পা।

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে ১-০ ব্যবধানে।

নিউজজি/সিআর/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers