শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২ সফর ১৪৪৮

খেলা

নেইমার, রোনালদোর পর কাঁদলেন মেসিও

ক্রীড়া ডেস্ক জুলাই ৮, ২০২৬, ১০:২৯:১৬

112
  • সংগৃহীত

শুধু দিতে নয়, কাঁদাতেও জানে ফুটবল। যার রং আবার অনেক। গত তিনে যা দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বকাপ থেকে শেষ ষোলোতে বিদায়ের পর কেঁদেছিলেন নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর মঙ্গলবার রাতে লিওনেল মেসি কাঁদলেন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আনন্দে। শেষ কবে এভাবে কিং লিওকে কাঁদতে দেখেছিল কেউ!

এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ঐ ম্যাচ শেষে  কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার। মাঠে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সতীর্থরা জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সে সময় কি আর সান্ত্বনা হয়! কাঁদতে কাঁদতে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নকে পেছনে ফেলে আড়ালে চলে গেলেন নেইমার। এদিকে ফুটবলের আরেক মহাতারকা রোনালদোও কেঁদেছিলেন। স্পেনের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায় পর্তুগালের। বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর শুরুতে রোনালদো চেষ্টা করেন কান্না চেপে রাখতে। কিন্তু ভাঙা বুকের হাহাকারকে চেপে রাখতে পারেনি। একটু পর চোখ থেকে কান্না ছড়িয়ে পড়ল রোনালদোর মুখের অভিব্যক্তিতে। সেই কান্না মুছতে মুছতে আবারও টানেল ধরে হেঁটে চলে গেলেন ‘সিআর সেভেন’ও।

তবে মেসির এই কান্না একেবারে আলাদা। অন্যরা কেঁদেছিলেন পরাজয়ের বেদনায়, মেসির কান্না ঘুরে দাঁড়ানো জয়ের আনন্দে।মেসিকে এরকম কান্না করতে সবশেষ কবে দেখা গেছে সেটা খুঁজতে অনেক পেছনেই যেতে হবে। তবে গতরাতে মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ৩-২ গোলে জেতার পর মাঠে কেঁদেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। জয়ের আনন্দেই তাঁর চোখে পানি। ম্যাচ শেষে কান্নার কারণ জানিয়ে মেসি বলেছেন যে এখনই তিনি বিদায় নিতে চাননি।

মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে এখন আর্জেন্টিনা। নাটকীয় সেই প্রত্যাবর্তনের পর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সাংবাদিককে নিজ থেকে এসে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মেসি! ভেনেজুয়েলার ওই সাংবাদিককে মেসি বলেন, ‘দলটি যেভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, চেষ্টা করে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমি গর্বিত। তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই জয়ে এবং শেষ পর্যন্ত যেভাবে সব সম্পন্ন হলো, তাতে আমি খুবই আনন্দিত।’

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারো মার্তিনেজ মাঠে নামার পর মেসিকে ডান প্রান্তে সরে খেলতে দেখা যায়। সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘মাঝমাঠে খেলাটা কঠিন ছিল কারণ তারা (মিশর) সেখানে ভিড় জমাচ্ছিল। তারা একজন অতিরিক্ত মিডফিল্ডার যোগ করেছিল এবং লাইনগুলোর মাঝে জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। লাউতারো যখন মাঠে নামল, তখন মাঠে ইতিমধ্যে দুজন নম্বর নাইন থাকায় মাঝমাঠে অনেক বেশি খেলোয়াড় হয়ে গিয়েছিল। তাই, আমি সাইডের দিকে একটু জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। আমার মনে হয় আমরা সেটা করতে পেরেছি, আর এভাবেই কুতির (রোমেরো) গোলটি এসেছে এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফলে আমি আনন্দিত।’

তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল শেষ বাঁশির পর মেসির কান্না ঘিরে। সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যখন ২-০ তে পিছিয়ে পড়লাম, তখন পরিস্থিতি খারাপ মনে হচ্ছিল, কঠিন মনে হচ্ছিল। আর শেষে, একটু আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল, পার পেয়ে যাওয়ার স্বস্তি, বিশ্বকাপে টিকে থাকার স্বস্তি, কারণ আমরা এখনই বিদায় নিতে চাইনি। আমাদের মনে হচ্ছিল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং চেষ্টা করার যোগ্যতা আমাদের এখনও আছে, আর ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে সেটাই হয়েছে।’

মেসি এই বিশ্বকাপে আগেও কেঁদেছেন। বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোলের পর মেসিকে কাঁদতে দেখে অবাক হয়েছিল অনেকেই। পরে জানা গিয়েছিল বাবার অসুস্থতার কারণেই তাঁর এমন কান্না। গতকাল রাতের কান্নার পেছনেও থাকতে পারে অন্য কোনো কারণ। কিন্তু কান্নাটা যে মিসরের বিপক্ষে হারতে হারতে পাওয়া জয়ের আবেগ থেকে উৎসারিত, তা তো আর মিথ্যা নয়।

৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলে না জিতলে মেসি নিশ্চয় এভাবে কেঁদে মাটি হতেন না। ফলে এটুকু বলা যায়, ফুটবল এখনো মেসিকে কাঁদাতে পারে। মুখে যতই ‘নির্বাণ’ লাভের কথা বলা হোক, সত্যি কথা হচ্ছে মেসির জীবনে এখনো ফুটবল চার বছর আগের মতো প্রাসঙ্গিক। আর তাই তো ম্যাচ শেষে সতীর্থরা মেসিকে শূন্যে ছুড়ে মাতলেন উদ্‌যাপনের আনন্দে।

নিউজজি/সিআর/এসডি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers