বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

খেলা

ফেভারিট ইংল্যান্ড, ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নরওয়ের

ক্রীড়া ডেস্ক জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:২২:০৯

132
  • সংগৃহীত

কোন কিছুরই কমতি নেই ইংল্যান্ড দলে। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বকাপের প্রতি আসরেই ফেভারিটের তকমা পায় তারা। তারপর বড় এ মঞ্চে গত ছয় দশক শিরোপাশূন্য ইংল্যান্ড; তাই এবার শিরোপা-খরা ঘোচানোর একটা তাগিদ ইংলিশদের। আর এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছুঁটছে নওয়রে। তাই স্বপ্নের পথচলাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার নেশা পেয়ে বসেছে দলটিকে। আজ রাতে জিতলেই প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি আর্লিং হল্যান্ডদের।

শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে দেওয়া নরওয়ে শনিবার বাংলাদেশ সময়  রাত ৩ টায় মিয়ামিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচের আগে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাকেন ইংল্যান্ডকেই ফেভারিট বলছেন। তবে সেটা খুব বড়ও নয় বলেছেন তিনি,  ‘তারাই (ইংল্যান্ড) ফেভারিট, তবে খুব বড় ব্যবধানে ফেভারিট নয়।’

তিনি আরও বলেন ‘আমার মনে হয় নরওয়ের চেয়ে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ বেশি থাকবে। তবে আমরা আমাদের পারফরম্যান্সের ওপর নজর রাখছি। ম্যাচ একবার শুরু হয়ে গেলে আমার মনে হয় না খেলোয়াড়রা আর চাপ নিয়ে চিন্তা করে।’

নরওয়ে দলটিতে আর্সেনালের প্রিমিয়ার লিগ জয়ী অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড এবং ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড আর্লিং হলান্ডসহ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা ও প্রতিভায় ঠাসা খেলোয়াড় রয়েছে।

সোলবাকেন আরও যোগ করেন, ‘ইতিহাসের দিক থেকে বিবেচনা করলে এই বিশ্বকাপে আমাদের মুখোমুখি হওয়া সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় দুটি দেশ হলো ব্রাজিল এবং ইংল্যান্ড।’

ইংল্যান্ড শেষ ষোলোয় মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। তবে সেই জয় এসেছে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। জ্যারেল কোয়ানসা লাল কার্ড দেখায় ১০ জন নিয়ে ৪০ মিনিটের বেশি খেলতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। ফলে শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি রক্ষণভাগ নিয়েও চিন্তা রয়েছে টুখেলের। কোয়ানসা দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকায় রক্ষণে পরিবর্তন আনতে হতে পারে ইংলিশ কোচকে। রিস জেমসের খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আক্রমণে ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। দুজন মিলে দলের ১১ গোলের মধ্যে ১০টিই করেছেন।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় স্বস্তির খবর পেল ইংল্যান্ড। প্রধান কোচ থমাস টুখেল জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহ ছাড়া তার হাতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ দল। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেই দলকে এগিয়ে নিতে চান।

কোচের মতে, মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়টি ছিল সঠিক পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে দলের লক্ষ্য এখন আরও বড়।  তার ভাষায়, আমাদের এখনও ক্ষুধা রয়েছে। এখনও আমাদের স্বপ্ন আছে এবং সামনে অর্জনের জন্য একটি বড় লক্ষ্য রয়েছে।

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ত্রাস নিঃসন্দেহে হতে চলেছেন আর্লিং হল্যান্ড। এখনও পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপে সাত গোল করে সোনার বুট পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।  ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া তিনি এবার খেলবেন নিজের জন্মভূমির বিপক্ষেই। তবে ম্যাচের আগে সব চাপ ইংল্যান্ডের কাঁধে তুলে দিয়েছেন তিনি, ‘ইংল্যান্ড অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল, তাই চাপও তাদেরই নেওয়া উচিত। ইতিহাস, দর্শক কিংবা হাজার বছর আগের যুদ্ধের গল্প—এসবের কোনো মূল্য নেই মাঠে। বাঁশি বাজলে সেটি কেবল ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের লড়াই।’

ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচকে ঘিরে অবশ্য ব্রিটিশ গণমাধ্যমে ইতিহাসের রোমন্থন চলছে। ১০৬৬ সালের স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের যুদ্ধের সঙ্গে এই লড়াইয়ের তুলনা টানা হচ্ছে। মায়ামির গ্যালারিতেও ইংল্যান্ডের সমর্থকের সংখ্যা বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু হালান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইতিহাস পাঠ্যবইয়েই শোভা পায়, ফুটবল মাঠে নয়। মানুষ পরিসংখ্যান, দর্শক কিংবা হাজার বছর আগে কী ঘটেছিল; তা নিয়ে কথা বলতেই পারে। কিন্তু যখন রেফারি বাঁশি বাজাবেন, তখন এটি হবে ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের খেলা।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে মায়ামির প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া। ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশে খেললেও এবার কঠিন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা দিতে হবে দুই দলকেই।

 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers