বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

খেলা

কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স আর নেই

ক্রীড়া ডেস্ক জুলাই ১৮, ২০২৬, ১০:৪৭:১০

80
  • সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা পোস্টে খবরটি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এবং সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার ছিলেন সোবার্স। ব্যাটিংয়ে যেমন তিনি ছিলেন অসাধারণ, বোলিংয়ে তেমনি ছিলেন কার্যকর। বাঁহাতি পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি অর্থোডক্স স্পিন, রিস্ট স্পিন, সবই করতে পারতেন। ফিল্ডিংয়েও ছিলেন দুর্দান্ত, বিশেষ করে স্লিপে। শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেও সর্বকালের সেরাদের তালিকায় রাখা হয় তাকে।

ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ সোবার্সের মৃত্যুর খবর জানায়, ‘একটি গ্রেট ইনিংসের সমাপ্তি ঘটল। আমাদের হৃদয়ে, এখন ও চিরকাল, স্যার গারফিল্ড সোবার্স।’

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। এক বছর পর জ্যামাইকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক। সেই ম্যাচে ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ ও ২৬ রান করেন এবং ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানে ৪টি উইকেট নেন।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে টেস্টে সোবার্স মূলত বোলার হিসেবেই খেলেন। ২১ বছর বয়সে দেখা পান প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির এবং সেই ইনিংসেই ভেঙে ফেলেন লেন হাটনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংসের বিশ্ব রেকর্ড। ১৯৫৮ সালে স্যাবাইনা পার্কে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৬৫ রানের ইনিংসে এই কীর্তি গড়েন সোবার্স। ৩৬ বছর পর ১৯৯৪ সালে রেকর্ডটি ভাঙেন ব্রায়ান লারা। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সোবার্স মাঠে থেকে লারাকে অভিনন্দন জানান।

রেকর্ড গড়া সেই ইনিংসের এক দশক পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মারা প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন সোবার্স। নটিংহামশায়ারের হয়ে গ্ল্যামারগনের বোলার ম্যালকম ন্যাশের এক ওভারে এই কীর্তি গড়েন।

পুরুষ ক্রিকেটে আইসিসির যে বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার দেওয়া হয়, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সেটির নামকরণ করা হয় ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি।’

সোবার্স লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেন ৯৫টি। সেখানে তার রান তিন হাজারের কাছাকাছি, উইকেট একশর বেশি। ওয়ানডে ক্রিকেটের আবির্ভাবের সময়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রায় শেষ দিকে। এই সংস্করণে একটিই ম্যাচ খেলেন তিনি, ১৯৭৩ সালে হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

ক্রিকেটে অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে তাকে নাইট উপাধি দেওয়া হয়। ২০০০ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাক তাকে স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, স্যার জ্যাক হবস, স্যার ভিভ রিচার্ডস ও শেন ওয়ার্নের সঙ্গে শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হিসেবে মনোনীত করে।

২০০৯ সালে আইসিসি হল অব ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয় সোবার্সকে।

১৯৩৬ সালে বারবাডোজে জন্ম সোবার্সের। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে তার নাবিক বাবা মারা যাওয়ার পর মূলত মায়ের কাছেই বড় হন তিনি। দুই হাতেই ছয়টি আঙুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সোবার্স এবং শৈশবেই বাড়তি আঙুলগুলো কেটে ফেলা হয়।

বাস্কেটবল, ফুটবল ও গলফসহ সব ধরনের খেলায় পারদর্শী ছিলেন সোবার্স। ক্রিকেটের পাশাপাশি এই তিনটি খেলাতেও তিনি জন্মভূমি বারবাডোজের প্রতিনিধিত্ব করেন।

নিউজজি/সিআর

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers