বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৭ সফর ১৪৪৮

খেলা

ভালোবাসা, তুমিই শেষ কথা

শোয়েব নাঈম জুলাই ২১, ২০২৬, ১৬:৪২:০৯

287
  • ভালোবাসা, তুমিই শেষ কথা

নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামের আকাশ তখন সোনালি রঙিন ছোট ছোট টুকরো কাগজের বৃষ্টিতে ঢেকে গেছে। মনে হয় পৃথিবীতে যত আনন্দ সবই যেন এমন সোনালি বৃষ্টির উল্লাস। নিউজার্সির স্টেডিয়াম একচ্ছত্র উৎসবের বুননে ফুটে আছে আনন্দ আর উল্লাসের নিপুণ ঢেউয়ে! উল্লাসের সেই নিপুণ সব আওয়াজকে ছাপিয়ে সবচেয়ে নির্মল, সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া ধ্বনি ছিল এক তিন বছরের শিশু কেইন ইয়ামালের।

বড় ভাই লামিন ইয়ামালের ভালোবাসার মিনারে ফুটে থাকা 'কেইন ইয়ামাল' নামের এক গোলাপ ফুল। সেই গোলাপের সৌরভ ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো খেলার মাঠে নিখাদ ভালোবাসার ভাষায়। যেভাবে পাখির ঠোকর খেয়ে খেয়ে নিঃশব্দে বেড়ে ওঠে গাছ, সেভাবে বেড়ে ওঠার আকুতি নিয়ে, বড় ভাইয়ের মমতায় বেড়ে উঠছে ফুলের আদলে 'কেইন ইয়ামাল' নামের এক গোলাপ ফুল। কেইন এখনও জানে না, কষ্টের মেঘ থেকে কতটা জল সরে গেলে গোপনে তা জমা হয় লামিনের চোখে।

পুরো স্টেডিয়ামে হঠাৎ চোখ হেমন্তে বৃষ্টির ফোঁটার মতো অসামান্য দ্যুতি নিয়ে আসে— স্বপ্নচারী ছোট্ট কেইন ইয়ামাল। ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজতেই বিজয়ের বিজলি ঝলকে স্পেনের হাতে ধরা দিল স্বপ্নের শিরোপা ঘেরা অজস্র অফুরান ওড়াউড়ি। দীর্ঘ লড়াই, ক্লান্তি আর চাপের সব হিসাব যেন এক মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।

মাঠের সেই দুর্দান্ত যোদ্ধা, যে কিছুক্ষণ আগেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের গম্বুজ ভেঙে দিয়েছে, বিজয়ের কার্নিভাল থেকে চোখ ফিরিয়ে চেয়ে দেখে কেইনের উজ্জ্বল সেই মুখচ্ছবি। লামিন ফিরে গেল নিজের সবচেয়ে আপন পরিচয়ে, এক স্নেহময় ভাইয়ের অনুভূতিতে। স্বপ্নচারী ছোট্ট কেইন দৌড়ে এলো মাঠে, হাতে গোলপোস্টের জালের একটি ছোট্ট অংশ, তার কাছে সেটাই যেন পৃথিবীর সবচেয়ে দামী স্মারক। বোধের বাগানে কেইনের হিসাব কোনো ভুল করে বসেনি আলিঙ্গনের নির্ভুল দিঙনির্ণয়ে। মুহূর্তেই লামিন তাকে বুকে জড়িয়ে নিল, মায়াময় স্বত্বার অধিকারে। যেন এমন ভাইয়ের মমতায় কঠিন পাথরও নড়ে ওঠে। পাশে দাঁড়িয়ে লামিনের প্রিয়তমা নারীর আয়ত দুইটি চোখও প্রত্যক্ষ করে ভাইয়ের আলিঙ্গনে বিশ্বকাপে এমন প্রত্নছায়া।

লামিন ইয়ামাল হচ্ছে কেইন ইয়ামালের সেই বড় ভাই, যার হাত ধরলে পৃথিবীকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত এক নিরাপদ মনে হয়। ভালোবাসার উষ্ণতায় এক ভাইয়ের বুকে আরেক ভাইয়ের নির্ভেজাল আশ্রয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে উৎসবের উত্তাপের নিচে কেইন ইয়ামালের পুরো খেলার মাঠে যে প্রজাপতির মতো ওড়াউড়ি, তা ট্রফির চেয়েও ভালোলাগার নাব্যতায় আরও মূল্যবান হয়ে উঠেছিল। যেন প্রস্থানউম্মুখ পাখি গোধূলিবাতাসে রেখে গেছে সন্ধ্যারাগের অনেক চিহ্ন। মহারণের সন্ধ্যায় এমন দৃশ্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এক অদম্য প্রাপ্তির ছবি হয়ে রইল। এমন ছবিগুলি মুহূর্তকে করেছে অনন্ত, আর অনন্তকে করেছে ভালোলাগার স্বাচ্ছন্দ্য।  এমন স্বাচ্ছন্দ্য ভালোলাগার মুহূর্ত সন্ধ্যা আকাশে নবমির চাঁদ হয়ে এখন জ্যোৎস্না ছড়াচ্ছে।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers