মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২ রবিউস সানি ১৪৪৮

খেলা

মুমিনুল-তানজিদের ব্যাটে বাংলাদেশের স্বপ্নের দিন

ক্রীড়া ডেস্ক আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১৫:০০:০৩

198
  • মুমিনুল-তানজিদের ব্যাটে বাংলাদেশের স্বপ্নের দিন

প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ কেমন করবে? ক্রিকেট প্রেমি থেকে শুরু করে ক্রিকেট বদ্ধাদের প্রশ্ন ছিল এমনই। ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনেই হাসান মাহমুদের আগুন ঝরা বোলিং আর মুমিনুল হক-তানজিদের হাসানের ব্যাটিংয়ের সুবাদে উত্তরটা দুর্দান্তই দিয়েছে টিম টাইগার্স। বৃহস্পতিবারের দিনটা সফরকারীদের কেটেছে স্বপ্নের মতো। দিন শেষে তারা যদিও এখনও অজিদের চেয়ে পেছনে ১০২ রানে। তবে তাদের হাতে যে রয়েছে ৯ উইকেট।

ডারউইন টেস্টে প্রথম দিনের খেলা শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে এক উইকেটে ৯৬ রান করেছে বাংলাদেশ। মুমিনুল ৩৫*, তানজিদ ৩২* রানে ক্রিজে রয়েছেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইনিংসে ন্যূনতম ৫টি উইকেট নিলেন হাসান। ২টি করে উইকেট নিয়ে তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন ইবাদত ও তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে স্টিভেন স্মিথ ছাড়া কেউ ২৫ রানও করতে পারেননি। স্মিথের ৭১ রানের ইনিংসে ব্যাটিংয়ে যা একটু লড়াই করেছে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়া করা ১৯৮ রানের পেছনে প্রাথমিক ছোটার শুরুটা বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ করেছিল দারুণ। ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি স্টাইলে খেলেন তানজিদ হাসান তামিম। তাতে ক্যাচ তুলেছিলেন পয়েন্টে। নাথান লায়ন ক্যাচটা নিতে পারেননি। ভাগ্য সঙ্গে থাকায় দারুণ খেলেন তিনি। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন সাদমান ইসলাম। দু’জনেই মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডকে ভালোভাবেই সামলান।

ব্যাট হাতে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া পেসারদের সামলানোর কাজটা বেশ করছিলেন সাদমান। নতুন বলে ৩০ বল খেলার পর যেকোনো ব্যাটসম্যানই তো বড় ইনিংস খেলার স্বপ্ন দেখেন। সাদমানও হয়তো দেখেছেন! কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। স্টার্কের বলে লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ২০ রানে। এরপরের গল্প শুধুই মুমিনুল আর তানজিদের। তারা দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে খেলেন সাবলীলভাবে।

সে সুবাদে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে দুই নম্বরে উঠে এলেন মুমিনুল হক। ৭০ টেস্টে বাঁহাতি ওপেনার তামিম ১০ সেঞ্চুরি আর ৩১ ফিফটিতে করেছিলেন ৫ হাজার ১৩৪ রান। ৭৮ টেস্টে ৫ হাজার ১৩১ রান নিয়ে এই ম‍্যাচ শুরু করেন মুমিনুল। ইনিংসের শুরুতেই এক সময়ের সতীর্থকে ছাপিয়ে যান তিনি। ৬ হাজার ৮০৬ রান করে চূড়ায় মুশফিকুর রহিম।

এদিকে ২১ তম ওভারের পঞ্চম বলে হ্যাজলউডকে দারুণ শটে চার মারেন তানজিদ। দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটিও হয়ে যায় তাদের ৭৫ বলে। শেষ পর্যন্ত দুই বাঁহাতি ব‍্যাটসম‍্যান অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে ৯৬ বলে যোগ করেছেন ৬০ রান। শূন‍্য রানে একবার জীবন পাওয়া তানজিদ ৬৭ বলে চার চারে খেলছেন ৩২ রানে। ৪৯ বলে ছয় চারে ৩৫ রানে খেলছেন মুমিনুল হক।

এরআগে টস হেরে বল হাতে নিয়ে শুরু থেকেই দারুণ করে বাংলাদেশ। হাসানের মাহমুদের সৌজনে টাইগারদের উইকেট উল্লাসের শুরুটা হয়েছিল ১২ তম ওভারের চতুর্থ বলে। সে সময় ওয়েদারাল্ডকে উইকেটে পেছনে লিটনের ক্যাচে পরিণত করে ফেরেন তিনি। ২৩ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর হেডকেও শিকার করেন তিনি। ১৪ তম ওভারে চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইন সুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের দিকের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ফেরার আগে হেড করেন ২২ রান।

এদিকে ১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেটা রাখতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েও বল হাতে জমাতে না পারায় মাথায় হাত দেয় পুরো বাংলাদেশ! তবে নিজের প্রথম শিকার ধরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। ফিরতি ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফেরান এই পেসার।

১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করেছিলেন এবাদত। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আর কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করতে পেরেছেন ল্যাবুশেন।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অজিদের উদ্ধার করতে কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে তার আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিতে ফাঁদ পাতে বাংলাদেশ। আর তাতেই পা দেন এই অজি ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেছিলেন তাসকিন। সেখানে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অজিরা।

লাঞ্চের পর বাংলাদেশি পেসারদের সাবলীল ভাবেই খেলছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই সময়ে দ্রুত রানও তুলছিলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে বড় জুটি গড়ার পথে হাঁটছিল অজিরা। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন এবাদত হোসেন। ৩৭তম ওভারে ক্যারিকে তুলে নেন তিনি। ১৯ রান করে ক্যারি ফেরায় ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।

এদিকে বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন এই পেসার। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। যে কারনে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অজিরা।

চা বিরতির পর চমৎকার বোলিং করে যাওয়া হাসান ভাঙলেন স্টিভেন স্মিথের প্রতিরোধ। ৫১ তম ওভারের পঞ্চম বলে তাকে এগিয়ে এসে মারার চেষ্টা করে ক্যাচ তুলে আউট হন স্মিথ। ৭১ রানে ফিরেন তিনি। এর সঙ্গে ৫ উইকেট পেয়ে যান হাসান। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে প্রতিপক্ষের মাটিতে টেস্টে সর্বোচ্চ তিনবার ৫ উইকেট নিলেন হাসান। দুর্দান্ত বোলিং করছেন।

৫ উইকেট নিয়েও থেমে যাননি হাসান। দারুণ বোলিংয়ের পুরস্কার তিনি পেয়ে যান আরও একটি উইকেট নিয়ে। হাসানের শর্ট ডেলিভারিতে ঠিকঠাক পুল করতে পারেননি ন‍্যাথান লায়ন। ব‍্যাটের কানায় লেগে সহজ ক‍্যাচ যায় মিডউইকেটে, তানজিদ হাসানের হাতে। ১৩ বলে এক চারে ৭ রান করেন লায়ন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন হেইজেলউড।

ডারউইন টেস্টে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার পেছনে পেসারদের অবদান সবচেয়ে বেশি। অস্ট্রেলিয়াকে দুই শ রানের নিচে অলআউট করায় ১০টি উইকেটই নিয়েছেন পেসাররা। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এমন ঘটনা দ্বিতীয়বার। নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে বুঝতেই দেননি হাসান, তাসকিন ও ইবাদত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৫৩ ওভারে ১৯৮ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারাল্ড ২৩, হেড ২২, ক্যারি ১৯; হাসান ৬/৫৫, ইবাদত ২/৩৯, তাসকিন ২/৫৫, মিরাজ ০/১২, তাইজুল ০/২৪)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৪ ওভারে ৯৬/১ (মুমিনুল ৩৫*, তানজিদ ৩২*, সাদমান ২০; স্টার্ক ১/২৮, হ্যাজলউড ০/১৯, কামিন্স ০/১৪, গ্রিন ০/১২, লায়ন ০/১৬)।—প্রথম দিন শেষে।

নিউজজি/সিআর/নাসি/এসডি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers