শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

খেলা

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের আনন্দটা ছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের মতো: সিমন্স

ক্রীড়া ডেস্ক আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১৩:৪৭:৫২

137
  • সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়কে শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য হিসেবে দেখছেন না প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তার কাছে ডারউইনে পাওয়া এই জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন। এমনকি জয়ের পর দলের উদযাপনের আবহকে ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয়ের পর বাংলাদেশের উচ্ছ্বাসের সঙ্গেও তুলনা করেছেন তিনি। ভারতের অনলাইন পোর্টাল রেভস্পোর্টস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেন টাইগার এ কোচ।

ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়। বিশ্ব টেস্টের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদেরই কন্ডিশনে এমন সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।

সিমন্স মনে করেন, এই জয় হঠাৎ করে আসেনি। গত এক-দুই বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতি এবং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসই এই সাফল্যের ভিত তৈরি করেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন তিনি, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। যেকোনো দলের জন্যই অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে জয় পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার, কারণ নিজের মাঠে তারা অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে আমার মতে, গত এক-দুই বছর ধরে আমাদের টেস্ট দলটি দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে। জিম্বাবুয়েতে আমরা একটি টেস্ট হেরেছিলাম, তবে তার বাইরে আমরা বেশ ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলছি। ফলে দলের আত্মবিশ্বাসটাও ধীরে ধীরে বাড়ছিল। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচটি আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি, তবুও এই টেস্ট খেলতে নামার আগে খেলোয়াড়দের মনে সেই আত্মবিশ্বাসটা পুরোপুরি ছিল।’

অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে সাফল্যের পেছনে দলের মানসিক দৃঢ়তাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ কোচ। ম্যাচ চলাকালে দ্রুত কয়েকটি উইকেট পাওয়ার পর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে না ভেসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল দলের অন্যতম পরিকল্পনা। একইভাবে উইকেট না পেলেও হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা। অনেক সময় দেখা যায়, সকালে ৪ বা ৫টি উইকেট পাওয়ার পর আমরা সেটাতেই সন্তুষ্ট হয়ে পড়ি। কিন্তু এই ম্যাচে আমরা চেষ্টা করেছি মধ্যাহ্নভোজ বা চা-পানের বিরতির সময়ও যেন আমাদের মনোযোগ একইভাবে ধরে রাখা যায় এবং মাঠে নেমে যেন আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে। উইকেট না পেলেও যাতে আমরা খুব বেশি হতাশা বা উত্তেজনায় ভেসে না যাই—মানসিকতার এই সাম্যভাব ধরে রাখাই ছিল আমাদের মূল কাজ।’

সিমন্সের মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বাড়তি অনুপ্রেরণার প্রয়োজন ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ এবং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের তাড়নাই তাদের যথেষ্ট উজ্জীবিত করেছিল। তাঁর ভাষায়, দলটি বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছে—বাংলাদেশ শুধু দেশের মাটিতে নয়, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনেও ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারে।

জয়ের পর ড্রেসিংরুমের আবেগ নিয়েও কথা বলেছেন সিমন্স। বাংলাদেশের মানুষের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সেই মুহূর্তের তুলনা করতে গিয়ে তিনি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ জয়ের পর ঢাকার রাজপথের উৎসবের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর কাছে দলের এই জয় যেমন বিশেষ, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের জন্যও এটি ছিল আবেগঘন একটি মুহূর্ত।

তবে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে বেশি দিন আত্মতুষ্টিতে থাকতে চান না সিমন্স। সিরিজের পরের ম্যাচে একই মানের ক্রিকেট ধরে রাখাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্সই বাংলাদেশের সামনে পরবর্তী ম্যাচের মানদণ্ড হওয়া উচিত।

কারণ, একটি জয় ইতিহাস তৈরি করতে পারে, কিন্তু ধারাবাহিক সাফল্যই পারে একটি দলকে সত্যিকারের শক্তিশালী টেস্ট দলে পরিণত করতে। আর সিমন্সের চোখে ডারউইনের জয় সেই দীর্ঘ পথচলার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers