শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ , ২২ শাওয়াল ১৪৪৭

খেলা
  >
ক্রিকেট

সেই সিরাজই ভারতকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন

ক্রীড়া ডেস্ক ৪ আগস্ট , ২০২৫, ১৮:৩৫:১২

172
  • ছবি: ইন্টারনেট

ওভাল টেস্টের চতুর্থ দিনে হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ নিয়েছিলেন মোহাম্মদ মিরাজ। তবে সে সময় তার বা সীমানা স্পর্শ করে। যে কারনে ইংলিশ ব্যাটার ছয় উপহার পেয়ে যান। এরপর তিনি দ্রুত রান তুলে ভারতকে চিন্তায় ফেলে দেন। সে সময় সিরাজকে অনেক বিমর্ষ দেখায়। তবে তার বিশ্বাস ছিল কিছু একটা করে দলকে জেতাবেন। সেটাই তিনি করে দেখালেন সোমবার সকালের সেশানেই। খলনায়ক হতে হতেও সিরাজ নায়ক হলেন ৫ উইকেট নিয়ে, ভারতকে ৬ রানে জিতিয়ে, অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার সিরিজ ড্র করে।

সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট জিতকে সোমবার ইংল্যান্ডের দরকার ছিল মাত্র ৩৫ রানের। হাতে ছিল ৪ উইকেট। তবে দর্শকঠাসা ওভালে দিনের ১০ ওভারে অ্যাটকিনসনকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডকে ৩৬৭ রানে অলআউট করে দিনে সিরাজ। ৬ রানের এই জয় টেস্টে রানের হিসাবে ভারতের সবচেয়ে ছোট জয়।

অথচ ইংল্যান্ডকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিয়ে নায়ক হওয়ার খুব কাছেই ছিলেন অ্যাটকিনসন। ইংল্যান্ড ৩৫৭ রানে নবম উইকেট হারানোর পর উইকেটে এলেন ক্রিস ওকস, যাঁর স্লিংয়ে ঝোলানো বাঁ হাতটা লুকানো ছিল সোয়েটারের ভেতরে। এরপর ক্যালকুলেটিভ ব্যাটিংয়ের অবিশ্বাস্য প্রদর্শনীতে অ্যাটকিনসন ওকসকে নন–স্ট্রাইকেই রাখলেন টানা ১৩ বল। দুই ওভারেই শেষ দুই বলে ১ রান নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখলেন। কিন্তু তাকে নায়ক হতে দিলেন না সিরাজ। কাঁধের ওপর ক্যাচ ছাড়ার ‘মহাপাপের বোঝা’ ঝেড়ে ফেললেন অ্যাটকিনসনকে বোল্ড করে। শুধু কি অ্যাটকিনসন, ক্রিস ওকসকেও তো নায়ক হতে দিলেন না সিরাজ। 

সোমবার অবশ্য শুরুটা দারুণ করেছিল ইংল্যান্ড। প্রসিধ কৃষ্ণাকে টানা দুটি চারে স্বাগত জানান জেমি ওভারটন। প্রথম বলটাকে পুল করে মিডউইকেট দিয়ে সীমানা ছাড়া করা ওভারটন দ্বিতীয় চারটি পেয়েছেন ভাগ্যক্রমেই। ইনসাইড এজ হয়ে লং লেগ দিয়ে বল চলে যায় সীমানার বাইরে। তাতে ৩৫ রানে প্রয়োজনটা মুহূর্তেই নেমে আসে ২৭ রানে। তবে পরের ওভারেই  ভারতকে আশা দেখান মোহাম্মদ সিরাজ জেমি স্মিথকে ফিরিয়ে। ভারতীয় পেসারের করা বলটি ইংলিশ উইকেটকিপারের ব্যাটের নিচের অংশ ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় ভারতীয় উইকেটকিপার ধ্রুব জুরেলের গ্লাভসে।

মেঘলা আকাশের নিচে দুর্দান্ত বোলিং করা সিরাজ নিজের পরের ওভারেই  এলবিডব্লু করে ফেরান ওভারটন। অনেকটা সময় নিয়েই আঙুল তুলেছিলেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ওভারটন। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ৩৫৪/৮। জয় থেকে তখন দলটি ২০ রান দূরে।

স্কোরে আর ১ রান যোগ হতেই উইকেট প্রায় পেয়েই গিয়েছিল ভারত। প্রসিধ কৃষ্ণার আবেদনে জশ টাংকে এলবিডব্লু  দিয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানি আম্পায়ার এহসান রাজা। সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন টাং, বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল লেগ স্টাম্প মিস করত। ওই বলে বেঁচে যাওয়া টাং ১২ বলে কোনো রান করতেও না পারলেও অ্যাটকিনসনকে দারুণ সঙ্গই দিয়েছিলেন। কিন্তু হলো না, ২৯ বলে ১৭ রান করা অ্যাটকনিসনকে নায়ক হতে দেননি সিরাজ। গতকালের ভুল শুধড়ে আজ ভারতকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিলেন তিনি। দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে সিরাজই হয়েছেন ম্যাচসেরা। এদিকে পুরো সিরিজে দারুণ ব্যাটিং করা হ্যারি ব্রুক ও শুবমান গিল হয়েছেন সিরিজ সেরা। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ২২৪ ও ৩৯৬।

ইংল্যান্ড: ২৪৭ ও ৮৫.১ ওভারে ৩৬৭ (ব্রুক ১১১, রুট ১০৫, ডাকেট ৫৪, পোপ ২৭, অ্যাটকিনসন ১৭; সিরাজ ৫/১০৪, কৃষ্ণা ৪/১২৬, দীপ ১/৮৫)।

ফল: ভারত ৬ রানে জয়ী। 

সিরিজ: ৫–ম্যাচ সিরিজ ১–১ ড্র। 

ম্যাচ সেরা: মোহাম্মদ সিরাজ। 

 সিরিজ সেরা: হ্যারি ব্রুক ও শুবমান গিল।

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers