বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ , ২ রমজান ১৪৪৭

খেলা
  >
ক্রিকেট

হৃদয়ের সেঞ্চুরিতে রংপুরের জয়, হারে শেষ নোয়াখালীর

ক্রীড়া ডেস্ক ১৮ জানুয়ারি , ২০২৬, ১৯:৩৫:১১

186
  • সেঞ্চুরির পর হৃদয়ের উদযাপন - ছবি: ইন্টারনেট

আগেই প্লে–অফ নিশ্চিত হয়েছে রংপুর রাইডার্সের। তাই রবিবারের ম্যাচটি দলটির জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তারপরও কোন ছাড়ই দেয়নি। এদিন মিরপুরে আগে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস গড়ে চ্যালেঞ্জিং স্কোর। তবে সেটা টপকে যেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি রংপুরের। তাওহিদ হৃদয়ের সেঞ্চুরিতে ভর করে দাপুটে জয় তুলে নেয় দলটি। এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)  এটি রংপুরের ষষ্ঠ জয়। এদিকে ১০ ম্যাচে অষ্টম হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। প্রথমবার বিপিএলে নাম লেখানো দলটির প্রথম মৌসুম এখানেই শেষ।

বিপিএলের প্রাথমিক পর্বের শেষ দিনের ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৮ উইকেটে হারায় রংপুর রাইডার্স। 

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার নোয়াখালী ২০ ওভারে তোলে ২ উইকেটে ১৭৩ রান। রংপুর জয় পায় দুই বল বাকি রেখে। নোয়াখালী হয়ে ৭২ বলে ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ইসাখিল। ফিফটি করতে তার ৫০ বল লাগলেও পরের পঞ্চাশ করেন তিনি ২০ বলেই। ইনিংসে ছক্কা মারেন ১১টি, এবারে বিপিএলে এক ম্যাচে ৬টির বেশি ছক্কা নেই আর কারও। হৃদয়ের ইনিংসে এমন ছক্কা বৃষ্টি ছিল না। তবে তার ব্যাট ছিল আরও গতিময়। ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬৩ বলে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়ে দাপটের সঙ্গেই ব্যাট করছেন হ্নদয়।  চার ম্যাচের একটিতে তিনি করলেন অপরাজিত ৯৭, একটিতে ৬২, এবার সেঞ্চুরি। ৩৫৬ রান নিয়ে এখন তিনি রানের তালিকায় সবার ওপরে।

রংপুরকে রবিবার এগিয়ে নেন মূলত হৃদয়ই। প্রথম চার ওভারেই পাঁচটি চার একটি ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে। পাওয়ার প্লেতে রংপুর তোলে ৫৫ রান। সেখানে হৃদয়ের অবতান ২৬ বলে ৪৭। সঙ্গী ডেভিড মালান তখন ১০ বলে ৭ রানে খেলছিলেন। শেষ পর্যন্ত মালান ফেরেন ১৫ বলে ১৫ রানে। যখন মালান ফেরেন তখন হৃদয়ের রান ৬১। পরে লিটন দাসকে সঙ্গী করে ছুটতে থাকেন হৃদয়। সেখানেও রংপুর অধিনায়ক ছিলেন সহকারীর ভূমিকায়। রান বাড়ানোর কাজটি করেন মূলত হৃদয়।

একটা পর্যায়ে রান রেট যদিও একটি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল। শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৪৭ রানের। সৌম্য সরকারের ওভারে তখন দুজন মিলে ১৮ রান দিয়ে ম্যাচের ফয়সালা একরকম করে ফেলেন। হৃদয় শতরানে পা রাখেন ৫৭ বলে। আউট হয়ে যখন ফিরছেন তিনি, জয়ের জন্য দলের প্রয়োজন তখন ১০ বলে ৯ রান। ওই ওভারের বাকি চার বলে আসে তিন রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ছয় রানের। লিটন ও খুশদিল শাহ প্রথম তিন বলে নেন তিন রান। পরের বলে নেন দুটি রান। এরপর ওয়াইড ডেলিভারিতে ম্যাচের সমাপ্তি। লিটন অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ৩৯ রানে।

এরআগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নোয়াখালীর শুরুটা ছিল মন্থর। প্রথম দুই ওভারে রান আসে তিন। তৃতীয় ওভারে নাহিদ রানাকে চার ও ছক্কা মারেন ইসাখিল, পঞ্চম ওভারে ছক্কা মারেন তিনি ফাহিম আশরাফকে। তার পরও পাওয়ার প্লেতে রান আসে মাত্র ৩৩। এতে ইসাখিল ২৫ বল খেলে করেন ২০ রান। এর মধ্যেই আউট হয়ে যান মৌসুমে প্রথম খেলতে নামা রহমতউল্লাহ আলি (১০ বলে ৯)। একটু পর আলিস আল ইসলামের চোখধাঁধানো এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান জাকের আলি (৭ বলে ৩)।

পাওয়ার প্লে শেষে রানের গতি কমে যায় আরও। পরের তিন ওভারে আসেনি কোনো বাউন্ডারি। ১০ ওভারে নোয়াখালীর রান ছিল ৪৭। ইসাখিলের রান এক পর্যায়ে ছিল ৩৫ বলে ২৩। পরে হাত খুলে খেলে ফিফটিতে পা রাখেন তিনি ৫০ বলে। মন্থর শুরুর পর জেগে ওঠেন হায়দার আলিও। বাউন্ডারি আসতে থাকে তখন নিয়মিতই। তার পরও ইসাখিলের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা সেভাবে ছিল ১৭ ওভার পর্যন্তও। তার রান তখন ৬৭। পরের দুই ওভারে দুটি ছক্কা একটি চার মেরে তিনি এগিয়ে যান শতরানের দিকে। শেষ ওভার শুরু করেন তিনি ৮৭ রান নিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৭৩/২ (ইসাখিল ১০৭*, রহমতউল্লাহ ৯, জাকের ৩, হায়দার ৪২*; ফাহিম ৪-০-৩৩-০, আকিফ ৪-০-৫৩-০, নাহিদ ৪-০-৪০-১, আলিস ৪-০-২২-১, খুশদিল ৪-০-২২-০)।

রংপুর রাইডার্স: ১৯.৪ ওভারে ১৭৪/২ (মালান ১৫, হৃদয় ১০৯, লিটন ৩৯*, খুশদিল ৩*; হাসান ৪-০-২৩-১, মুশফিক ৪-০-৪৭-০, মেহেদি রানা ৩.৪-০-৩১-০, সাব্বির ২-০-১৫-০, জাহির ৪-০-২৭-১, রহমত ১-০-১২-০, সৌম্য ১-০-১৮-০)।

ফল: রংপুর রাইডার্স ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: তাওহিদ হৃদয়।

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন