মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২ জিলহজ ১৪৪৭

খেলা
  >
ক্রিকেট

তানজিদ-বিনুরার নৈপুণ্যে চট্টগ্রামকে উড়িয়ে বিপিএল চ‍্যাম্পিয়ন রাজশাহী

ক্রীড়া ডেস্ক ২৩ জানুয়ারি , ২০২৬, ২২:১৩:৪৬

250
  • ছবি: ইন্টারনেট

ব্যাট হাতে দাপট দেখালেন তানজিদ হাসান তামিম। সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে  রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সকে এনে দিলেন লড়াইয়ের পুঁজি। এরপর শুরু থেকেই বল হাতে বিনুরা ফার্নান্দো ওঠেন জ্বলে। দ্রুতই  চট্টগ্রাম রয়‍্যালসের দুই উইকেট তুলে নেন। সেই ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে লক্ষেই অনেক আগেই গুটিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে পদ্মা পাড়ের দলটি। 

শুক্রবার বিপিএলের ফাইনালে ৬৩ রানের অনায়াস জয় পায় রাজশাহী। এদিন শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরির সুবাদে দলটি স্কোর বোর্ডে জমা করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান। এরপর বল হাতে শুরুতেই চট্টগ্রাম শিবিরে একাধিক আঘাত করেন বিনুরা ফার্নান্দো। মূলত তিনি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন। শেষ দিকে আরও একবার জ্বলে ওঠেন শ্রীলঙ্কান এ পেসার। যে কারনে চট্টগ্রাম থামে ১৭.৫ ওভারে মাত্র ১১১ রানে। বিনুরা ৩ ওভারে ৯ রানে নেন ৪ উইকেট। 

এটা রাজশাহীর দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা। এর আগে বিপিএলের ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এদিকে বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তিনবার শিরোপা জিতেছে ঢাকা। রাজশাহীর সমান দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশাল। আর একবার শিরোপা জিতেছে রংপুর রাইডার্স।

শুক্রবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় রাজশাহী। তানজিদের ঝড় ও সাহিবজাদার ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটিতে আসে ৮৩ রান। ৩০ বলে ৩০ রান করে ফিরেন ফারহান। দ্বিতীয় উইকেটে নামা কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। শরিফুল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২৪ রান করেন উইলিয়ামসন।

সঙ্গী হারালেও নিজের মতোই ব্যাটিং করেন তানজিদ। এক পর্যায়ে দাপুটে সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। এরআগে ৫৪ রানে আমেরের বলে মুকিদুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তানজিদ। শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরেছেন ১০০ রান করে সেই মুকিদুলের বলে আমেরের হাতে ক্যাচ দিয়ে। মাত্র ৬২ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ছয়টি চার ও সাতটি ছয়ে সাজানো। বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তানজিদ। এর আগে ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল। 

এদিকে দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। এদিকে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম।

চট্টগ্রাম রয়্যালসের সফল বোলার শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম। দুজনই দুটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন।

রান তাড়ায় শুরুতেই খেঁই হারিয়ে ফেলে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলীয় ১৮ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন দুই ব্যাটার। ১০ বলে ৯ রান করেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আর ২ বল খেলে রানের খাতায় খুলতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। এদিকে হাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ১১ রান। উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাহিদুজ্জামানও তেমন কিছু করতে পারেননি। তাকে নিয়ে কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে যান মির্জা বেগ। কিন্তু দুজনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচটি চট্টগ্রামের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন জাহিদুজ্জামান। আর আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৩৯ রান করেন মির্জা বেগ।

আসিফ আলী ও আমির জামাল আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। কিন্তু ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারননি আমির। একটি ছক্কা হাঁকানোর পর জিমি নিশামের বলে আউট হন ব্যক্তিগত ৮ রানে। অন্যদিকে ১৬ বলে ২১ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন আসিফ আলী। এছাড়া শেখ মেহেদী হাসান ৪, শরিফুল ইসলাম ০, তানভীর ইসলাম ১ ও মুকিদুল ইসলাম ১ রান করেন।

রাজশাহীর হয়ে ৩ ওভারে মাত্র ৯ রানে চারটি উইকেট নেন ফার্নান্দো। তিনটি উইকেট নেন হাসান মুরাদ। এছাড়া জিমি নিশাম দুটি ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি উইকেট পেয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর 

রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স: ২০ ওভারে ১৭৪/৪ (তানজিদ ১০০, ফারহান ৩০, উইলিয়ামসন ২৪; মুকিদুল ২/২০, শরীফুল ২/৩৩)। 

চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭.৫ ওভারে ১১১ (মির্জা ৩৯, আসিফ ২১, নেওয়াজ ১১; বিনুরা ৪/৯, মুরাদ ৩/১৫, নিশাম ২/২৪)। 

ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স ৬৩ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: তানজিদ হাসান।

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers