মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ , ৪ জিলকদ ১৪৪৭

খেলা
  >
ক্রিকেট

তানজিদ-নাহিদ নৈপুণ্যে দাপুটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশ

নিউজজি ডেস্ক ২০ এপ্রিল , ২০২৬, ২০:২১:৪৮

27
  • তানজিদ-নাহিদ নৈপুণ্যে দাপুটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশ

ঢাকা: হারলেই সিরিজ শেষ। জিতলই কেবল টিকে থাকবে আশা। এমন এক সমীকরণের ম্যাচে সোমবার আগে বল হাতে জ্বলে ওঠেন নাহিদ রানা। নেন ৫ উইকেট। তার অসাধারণ বোলিংয়ের পর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং নৈপূণ্যে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটের দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ২২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নাহিদ রানার গতির মুখে পড়ে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানেই অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন ওপেনার নিক কেলি। বাকি ব্যাটসম্যানরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। বাংলাদেশ দলের হয়ে ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা। আরেক পেসার শরিফুল ইসলাম ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান খরচ করে শিকার করেন দুই উইকেট। একটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।

১৯৯ রানের সহজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় মাত্র ২১ রানে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৮ রান করে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান ও তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা সৌম্য সরকার।

এরপর পর দলের হাল ধরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে তারা ১১০ বলে ১২০ রানের জুটি গড়েন। ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৪১ রানে আউট হন তানজিদ হাসান তামিম। তিনি ৫৮ বলে ১০টি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম।

তানজিদ আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নেমে দ্রুতই ফেরেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস। তিনি ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচ খেলতে নেমে ১১ বলে ৭ রানের বেশি করতে পারেননি।

৭১ বলে ৫টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৫০ রান করার পর আঙুলে ব্যথা পেলে মাঠ ছাড়েন সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিদায়ের পর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ৮৭ বল আগেই দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তাওহীদ হৃদয়। তাওহীদ ৩১ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৫ বলে ৮ রান করেন মিরাজ।

এর আগে  ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউ জিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ড।

নিউজজি/সিআর/নাসি 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers