শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২ সফর ১৪৪৮

খেলা
  >
ক্রিকেট

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর করে থানায় নিল পুলিশ!

ক্রীড়া ডেস্ক ১৩ জুন , ২০২৬, ১২:০৪:২৪

179
  • সংগৃহীত

জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ফেরার পথে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে গভীর রাতে নাঈম হাসানের বাবা, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় যায়। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান। এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন।

শুক্রবার রাতে ঘটনার বর্ননায় নাঈম বলেন, “আজকে (শুক্রবার) প্রিমিয়ার লিগের খেলা চলছিল। খেলে আসার সময় আমার ফ্লাইট ডিলে হয়েছে। ৯টা ৪০ এর ফ্লাইট ১০টা ২০ এ হয়। এরপর আমি যখন আসলাম এয়ারপোর্টে নেমে সিএনজি নিলাম। ১১টা ২৫ এর দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে আমার সিএনজি দাঁড়া করাইছে। আমি বের হয়ে দাঁড়িয়েছি। পরে আমাকে কিছু বলেনি। উনার (অটোরিকশা চালকের) গাড়ির কাগজপত্র নিয়েছে। আমি বলেছি, আপনি ব্যাগ চেক করেন। তখন আমাকে বলছে, ‘তুই গাড়িতে উঠ’। গলা চিপে ধরে আমাকে গাড়িতে তুলে ফেলছে।”

নাঈম হাসান বলেন, “তখন আমি বলি, আপনি আমাকে গলা চিপে ধরে কেন তুলতেছেন? আমি ধাক্কা মেরে বের হয়ে গেছি। এরপর উনি আমাকে গলা চিপে ধরে ওদের গাড়িতে রাখছে। আর ওরা ইচ্ছামত হ্যারাজমেন্ট করতেছিল।

“পুলিশ ছিল দুইজন। আরেকজন একটা সাদা পাঞ্জাবি পরা ছিল। ও কিছু পরিচয় দেয় নাই, মারতেছিল একটা পাইপ দিয়ে। মোবাইল কাড়াকাড়ি করতেছে। পরে আমি আব্বুকে কল দিছি। শুধু আব্বু আব্বু করতেছি। আমার গলা চিপে ধরে রাখছিল।”

ওই পরিস্থিতি দেখে সেখানে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয় জানিয়ে নাঈম হাসান বলেন, “প্রায় এক-দেড়শ মানুষ জড়ো হয়। ওরা সবাই আমার পরিচয় দিয়েছে। তাও ও আমাকে মারছিল ওখানে। বলতেছে, ‘তুই আসামি, তুই কথা বলবি না’। আমি পরিচয় দিছি। আইডি কার্ড দেখাইছি। কিছুই হয়নি।

“ও আমার ব্যাগট্যাগ নিছে। এখানে আনছে। এসে বলতেছে, স্যার আনছি। আমি দাঁড়াইছি, ওসি আমাকে বলতেছে, ‘চোখ নিচে নামাই কথা বল’। পরে উনার মোবাইলে কল আসছে। কল আসার পর যখন বলছে, আমাকে বলতেছে, ‘বস তুমি’।”

নাঈম হাসান বলেন, “গাড়িতে আসার (থানায়) সময় ওসিকে কল দিয়ে বলছে ও (পুলিশ সদস্য)। ওসি বলছে, নিয়ে আসতে এখানে। আমি পরিচয় দিছি। সবাই পরিচয় দিছে।

“আজ পর্যন্ত পুলিশ-আর্মি আমাদেরকে ডাকে। আমি নামি, পরিচয় দিই। চেক করে, ছেড়ে দেয়। এরকম তো ভাই আমার গায়ে হাত দিবে কেন? গলা চিপে ধরে কেমনে তুলবে? পুলিশ যে ছিল, সে লাঠি দিয়ে মেরেছে। সোর্সটা পাইপ দিয়ে মেরেছে।”

ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেন, “আমি সুষ্ঠু বিচার চাই সরকারের কাছে। এটা কোনোভাবে নরমালি নেওয়ার কিছু নাই। আজকে আমার সাথে হয়েছে। কালকে আরেকজনের সাথে হলে ও কার কাছে যাবে?

“ওর জন্য আপনি আসবেন? আসবেন না। এতগুলো মানুষ আসবে? কেউ আসবে না। ওই মানুষগুলো ভুক্তভোগী হবে।”

এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন নাঈম হাসান।

মোবাইল ফোন রেখে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে নাঈম হাসান বলেন, “পরে মোবাইল পাওয়ার সাথে সাথে তামিম ভাইকে (ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট)কল দিছিলাম। তামিম ভাই, ইসরাফিল ভাইকে (বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু) কল দিছিলাম।

“উনাদের সাথে (পুলিশ কর্মকর্তা) কথা বলেছেন। তারপর আমি হসপিটালে গেছি। রিপোর্ট আনছি।”

থানায় উপস্থিত হওয়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “নিশ্চিত করছি, উনি ন্যায়বিচারটা পাবেন। আইনানুগ ব্যবস্থা নেব আমরা, পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন। এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। এটার সাথে পুলিশের ইমেজ জড়িত। এ ধরনের কোনো কিছুই আমরা টলারেট করব না।

“অফিসারদের মাধ্যমে যতটুকু জেনেছি, একটা চোরাচালান সংক্রান্ত কিছু পণ্যের তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে উনারা গিয়েছেন। সেই যাওয়া যথযাথ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করে করেছে কি না, সেটা আমরা দেখব। তদন্তে সব ভুলত্রুটি বের করে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিব।”

তিনি বলেন, “মারধর করার তো কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ পুলিশের প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। এটাই নিয়ম। কেন আনা হয়েছে, সেটা আমরা তদন্তে বের করব। উপযুক্ত জবাব দিতে না পারলে তার শাস্তি হবে।”

ক্রিকেটার নাঈম হাসান রাতে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল তার। তবে বিলম্ব হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য থামার সংকেত দেন।

নাঈম হাসান বলেন, থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে নেন। এরপর তাঁকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন, পরিচয়পত্রও দেখান। তবু তাঁকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন।

পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে পেটান বলে জানান নাঈম হাসান।

 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers