শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২ সফর ১৪৪৮

খেলা
  >
ক্রিকেট

নাঈমকে নির্যাতনের ঘটনায় লিটন-মিরাজদের ক্ষোভ, নিন্দা বিসিবি-কোয়াবের

ক্রীড়া ডেস্ক ১৩ জুন , ২০২৬, ১২:২৮:৫৭

184
  • সংগৃহীত

ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফেরার পথে ডিবি পরিচয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লিটন দাস-মেহেদী হাসান মিরাজরা। এদিকে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

নাঈমের ঘটনায় শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বিসিবি, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সদস্য কর্তৃক বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হয়রানি ও হেনস্থার ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার প্রতি এই অগ্রহণযোগ্য ও অনুপযুক্ত আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে োর্ড এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একজন জাতীয় ক্রীড়াবিদের প্রতি এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

‘এই ঘটনার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রত্যাশা করছে বিসিবি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছে।’

নাঈম থানায় সংবাদকর্মীদের জানান, বিসিবি প্রধান তামিম ইকবালকে ফোনে জানানোর পর তিনি বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরুকে (অর্থমন্ত্রী আমির মাহমুদ খসরুর ছেলে) ঘটনা জানান। এরপর তারা থানায় কথা বলেন।

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়, নাঈমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বোর্ড, ‘বিষয়টি জানার পর থেকে, নাঈম হাসান ও তার পরিবারের মঙ্গল নিশ্চিত করতে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য তাদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে বিসিবি। এই গুরুতর বিষয়টির যথাযথ সমাধানে চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বোর্ড।’

‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার সকল খেলোয়াড়ের কল্যাণ, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকবে।’

এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) এক বিবৃতিতে , ‘আমরা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নাঈম হাসানের ওপর শারীরিক নির্যাতনে জড়িত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। গতকাল (১২ জুন) রাতে সাভারে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে লালখান বাজারের কাছে পুলিশ তাকে থামায়।’

‘শুরু থেকেই পুলিশ বৈরী আচরণ করে এবং তিনি কথা বলার চেষ্টা করলে তার গলা চেপে ধরে। বহু দর্শক পুলিশকে তাকে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলে পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তাকে পাইপ দিয়ে পেটানো হয়। এরপর নাঈমকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। নাঈম সাহায্যের জন্য ফোন করলেই কেবল তারা সরে যায়।’

সকল ক্রিকেটার নাঈমের পাশে আছে বলেও জানায় কোয়াব, ‘দেশের যেকোনো নাগরিকের জন্য এমন ঘটনা অগ্রহণযোগ্য। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ইতোমধ্যে নাঈমের সাথে কথা বলেছে এবং তাকে জানিয়েছে যে দেশের সকল ক্রিকেটার তার সাথে আছে।’

নাঈমের প্রতি পুলিশের আচারনে ক্ষোভ জানিয়েছেন লিটন কুমার দাস। তিনি সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন অসাধারণ মানুষ। নাঈম হাসানের সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাকে এমন দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যেতে দেখাটা হৃদয়বিদারক। একজন সহকর্মী ও সতীর্থ হিসেবে এই ঘটনায় আমি সত্যিই মর্মাহত। দেশের কোনো নাগরিকই এমন আচরণ প্রাপ্য নয়, বিশেষ করে একজন জাতীয় ক্রিকেটার তো নয়ই, যিনি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত এবং যত দ্রুত সম্ভব ন্যায়বিচার আশা করছি।’

এদিকে, স্পিনার নাঈমের সঙ্গে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে শাস্তি দাবি করেছেন জাতীয় দলের ওপেনার পারভেজ ইমন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে জিম্মি করে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়, দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক।’

তিনি আরও লেখেন, ‘একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় দেশের গৌরব ও সম্পদ। তার সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি নয় বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার ওপরও আঘাত। যে-ই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

নাঈমে আরেক সতীর্থ মেহেদী হাসান মিরাজ লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়, দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। একজন জাতীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার ওপর আঘাত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

এদিকে মুশফিকুর রহিম বলেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’

সতীর্থ মুমিনুল হক নাঈমের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গতকাল নাঈমের সাথে যা হয়ছে, তা কোনও ভাবেই কাম্য নয়। একজন মানুষকে এইভাবে নির্যাতন করার কোনো মানে হয় না। আমরা আশা করবো সরকার এর সুষ্ট বিচার করবে। নাঈম, আমরা তোমার সাথে আছি। তোমার সাথে যা ঘটেছে, তা মেনে নেয়া যায় না। আমরা ব্যথিত, দুঃখিত, লজ্জিত। 

নাঈমের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।’

বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি নাঈমের। ১৪ টেস্ট খেলে উইকেট নিয়েছেন তিনি ৪৮টি। চার দফায় পেয়েছেন ইনিংসে ৫ উইকেট। কদিন পরই বাংলাদেশ টেস্ট দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে যাওয়ার কথা তার।

 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers