শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২ সফর ১৪৪৮

খেলা
  >
ক্রিকেট

শরিফুলের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পরও অকল্পনীয় হার বাংলাদেশের

চঞ্চল রহমান ১৪ জুন , ২০২৬, ২০:২২:২৮

243
  • শরিফুলের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পরও অকল্পনীয় হার বাংলাদেশের

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ইংল‍্যান্ডকে পেছনে ফেলারও মঞ্চ তৈরি ছিল। রোববার তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন ও লিটন দাসের হাফসেঞ্চুরিঊর্ধ্ব ইনিংসে ভর করে দুটি স্বপ্নই বুনছিল বাংলাদেশ। তবে বোলিংয়ের শুরু থেকেই সেটা কিছুটা হলেও ঝিমিয়ে পড়ে। তবে শরিফুল ইসলাম বল হাতে নিয়েই  টানা ২ উইকেট তুলে নিয়ে টাইগারদের ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শেষ দিকেও তিনি দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আশা জাগান। তবে কুপার কনোলি এক প্রান্তে আগলে রেখে দাপটে সেঞ্চুরি তুলে স্বাগতিকদের স্বপ্নভেঙে অজিদের দারুণ এক জয় এনে দেন।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে রোববার বাংলাদেশ হেরেছে ১ উইকেটে। রোববার টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে কুপার কনোলির অসাধারণ সেঞ্চুরিতে (১৪৯*) ভর করে  ৩  বল আগেই  ১ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।  তারপরও ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে ঠিকই নিজেদের করে নিল স্বাগতিকরা।  

রোববার আগে ব্যাট করতে নেমে তাওহিদ হৃদয় করেন ৮৮ বলে ৮ চারে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন। লিটন দাস ৪ চার ও ২ ছয়ে ৫৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৫৬ রান। তিনিও অপরাজিত ছিলেন। এদিকে বল হাতে ৪৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম।

অস্ট্রেলিয়ার কুপার কনোলি করেন ১৩৪ বলে ১৩  চার ও ৬ ছয়ে ১৪৯ রান। মূলত তার ব্যাটে ভর করেই জয়ের দেখা পেল অজিরা। এর ফলে হোয়াইটওয়াশের লজ্জাও এঁড়ালো তারা।

গত দুই ম্যাচে বল হাতে দ্রুত উইকেটের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে রোববার শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের।  এ সুযোগে ঝোড়ো শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ৩ ওভারেই তারা তুলে ফেলে ৩০ রান। কনোলি ও ইংলিসের উদ্বোধনী জুটি ভয় ধরায় বাংলাদেশকে। এ অবস্থা থেকে টাইগারদের ম্যাচে ফেরান শরিফুল। বল হাতে নিয়েই তিনি তুলে নেন ইংলিশকে। অজি অধিনায়ক ১২ বলে ২১ রান করে ক্যাচ দেন মোসাদ্দেকের হাতে। এক বল পরই ম্যাট রেনশকে বোল্ড করে ফেরান শরিফুল।

শরিফুলের এক ওভারে ২ উইকেট পাওয়ার পর দ্রুত উইকেট নেন তাসকিন। সামনের পায়ে এসে কাভারের ওপর দিয়ে জোরে চালিয়েছিলেন ক্যারি। শূন্য ভেসে ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নেন সৌম্য। শুরুতে দু হাতে ধরতে গেলেও পরে শুধু বাঁ হাতেই ক্যাচটা ধরেন তিনি। সে সময় অস্ট্রেলিয়ার রান ১২ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৩।

ক্যারি ফিরলেও অস্ট্রেলিঢয়াকে পথ দেখান কনোলি ও লাবুশেনে। তারা চতুর্থ উইকেট জুটিতে তোলেন ৭৭ বলে ৬৪ রান। অবশেষে তাদের বিপজ্জনক এ জুটি লেবুশেনকে উইকেটের পেছনে নুরুল হাসান সোহানের দুর্দান্ত ক্যাচে ভাঙেন শরিফুল।

অন্য প্রান্তে সতীর্থরা বিদায় নিলেও ঠিকই আরেক প্রান্ত আগলে রাখেন কনোলি। আগের ১১ ওয়ানডেতে ফিফটিই ছিল কেবল একটি। আজ তিনি সেঞ্চুরি পেয়েছেন ৮৭ বলে। তার ব্যাটে জয়ের পথে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

কনোলিও গ্রিণ দারুণ ব্যাটিং করেন। তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসানের বলে তাকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ৩৫ বলে ২৭ রান করে গ্রিণ। তার বিদায়ে ভাঙে  কনোলির সঙ্গে ৬৮ রানের জুটি।

গ্রিনের আউটের পর কুপার কনোলির সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন অলিভার পিক। এর মধ্যেই তাসকিনের বলে টানা তিন ছয় হাঁকান কুপার কনোলি। অস্ট্রেলিয়া জয় থেকে হাতছোঁয়া দূরত্বে। ঠিক তখন বল হাতে আবার অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ভয় ধরান শরিফুল। কনোলির সঙ্গে মিলে ম্যাচটা শেষ করার পথে ছিলেন পিক, তবে তাঁকে ফেরালেন শরিফুল। উড়িয়ে মারতে গিয়ে পিক কাভারে ক্যাচ দিলেন রিশাদকে, ফিরলেন ৩২ বলে ২৭ রান করে । পরের বলে শরিফুল ফিরিয়ে দিলেন বার্টলেটকে। এরফলে জমে ওঠে ম্যাচ।

আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ায় রবিবারের শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল নিয়ম রক্ষার ম্যাচ। তারপরও ম্যাচটি দলটি গুরুত্বসহকারে দেখছে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার হোয়াইটওয়াশ করার মঞ্চ হিসেবে। এমন ম্যাচে দুই পরিবর্তন নিয়ে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে টিম টাইগার্স। এদিন শুরুটা ভাল করতে পারেনি স্বাগতিকরা। শুরুতেই ফেরেন সৌম্য সরকার। ড্রাইভ করতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয়ে বল গেছে তাঁর স্টাম্পে। ৪ বল খেলে ২ রান করেছেন সৌম্য। সেই ধাক্কা নাজমুল হোসেনকে নিয়ে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। কন্ডিশনের সুবিধা পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার ব‍্যাটসম‍্যানদের বিপক্ষে আগ্রাসী ব‍্যাটিং করছেন দুই বাঁহাতি ব‍্যাটসম‍্যান। তবে ইনিংস বড় করতে পারলেন না তানজিদ হাসান। ম‍্যাট রেনশর বলে বড় শটের চেষ্টায় ক‍্যাচ দিয়ে ফিরলেন বাঁহাতি ওপেনার।

হাতছাড়া হতে যাওয়া ম্যাচে হঠাৎ উত্তেজনা। আগের ওভারে দুই উইকেটের পর শরিফুল এবার ফেরালেন ডোয়ারশিসকে। অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৫ রান, বাংলাদেশের ২ উইকেট। সে সময় শরিফুলের বলে জাম্পার ক্যাচটা ধরতে পারেননি তামিম, ফেলে দিলেন গালিতে। তারপরও মিরপুরে নাটক থামেনি। ৪৯তম ওভারে কুপার কনোলিকে ১৪৯ রানে ফেরান মোস্তাফিজ। তার বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হন অজি অপেনার। বাংলাদেশের দরকার ১ উইকেট, অস্ট্রেলিয়ার ৪ রান। শেষ পর্যন্ত ৫০তম ওভারে তাসকিনের করা তৃতীয় বলে ৪ হাঁকিয়ে সেটা নিশ্চিত করেন জাম্পা। সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশের স্বাদ দেওয়ার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেল টাইগারদের।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে টিম টাইগার্স। এদিন শুরুটা ভাল করতে পারেনি স্বাগতিকরা। শুরুতেই ফেরেন সৌম্য সরকার। ড্রাইভ করতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয়ে বল গেছে তাঁর স্টাম্পে। ৪ বল খেলে ২ রান করেছেন সৌম্য। সেই ধাক্কা নাজমুল হোসেনকে নিয়ে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। কন্ডিশনের সুবিধা পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার ব‍্যাটসম‍্যানদের বিপক্ষে আগ্রাসী ব‍্যাটিং করছেন দুই বাঁহাতি ব‍্যাটসম‍্যান। তবে ইনিংস বড় করতে পারলেন না তানজিদ হাসান। ম‍্যাট রেনশর বলে বড় শটের চেষ্টায় ক‍্যাচ দিয়ে ফিরলেন বাঁহাতি ওপেনার।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন রেনশ। তার অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে মিড অনের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তানজিদ। টাইমিং করতে পারেননি তিনি, ধরা পড়েন রাইলি মেরেডিথের হাতে। ভাঙে ৫৬ বল স্থায়ী ৫১ রানের জুটি।

একটু আগেই এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেয়ায় রিভিউ নিয়েও নাজমুলকে আউট করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এবারও তিনি গিয়েছিলেন সুইপ করতেই। কিন্তু বলটা তাঁর ব্যাটে থেকে গিয়ে লাগে স্টাম্পে! ৫০ বলে ২৪ রান করে আউট হয়েছেন নাজমুল। ইনিংসের ১৫তম ওভারে এসেই বাংলাদেশ হারায় তৃতীয় উইকেট।

নাজমুলের উইকেট হারানোর পর একটু বিপদেই ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয় আর লিটন দাস দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। একটা সময় তাদের দুজনের জুটিতে ৮৬ বলে আসে ৮২ রান। দলের রানও দেড় শ তখন ছুঁই ছুঁই। ঠিক সে সময় টায়ার্ড হার্ট হয়ে উঠেই যেতে হলো লিটন দাসকে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন।

দায়িত্বশীল ব‍্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে টানেন তাওহিদ হৃদয়। ৬২ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেছেন তিনি। ক‍্যারিয়ারে এটি তার ত্রয়োদশ পঞ্চাশ, মিরপুরে তৃতীয়।স্লগ সুইপ করে ম‍্যাট রেনশকে চার মারেন হৃদয়। পরের বলে দুই রান নিয়ে পঞ্চাশে যান তিনি।

মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে জমে যায় হৃদয়ের জুটি। নড়বড়ে শুরুর পর নিজের শট খেলতে শুরু করেন মোসাদ্দেক। তাদের জুটিতে আড়াইশ রানের পথেই হাঁটে বাংলাদেশ।

লিটন দাস মাঠ ছাড়ার পর বাংলাদেশকে টানছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও তাওহিদ হৃদয়। তাদের জুটিতে পঞ্চাশ এসেছে ৫১ বলে।

দারুন খেলছিলেন হৃদয়। সেঞ্চুরির স্বপ্ন হয়তো দেখছিলেন। এজন্য হয়তো তাড়াহুড়া করেন তিনি। তাইতো ফ্লিক করে ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়লেন তিনি।

বেন ডোয়ার্শাস একের পর এক স্লোয়ার করে যাচ্ছেন। তাতে গায়ের জোরে শট খেলার চেষ্টা করছিলেন হৃদয়। তেমনই এক চেষ্টায় ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়লেন তিনি। ভাঙল ৮৩ বল স্থায়ী ৯৩ রানের জুটি। ৮৮ বলে আট চারে ৮৩ রান করেন হৃদয়।

ফেরার সিরিজে ব‍্যাট হাতে রাঙিয়ে রাখছেন মোসাদ্দেক হোসেন। সিরিজে দ্বিতীয়বার পঞ্চাশ স্পর্শ করেছেন তিনি, ৪৩ বলে। অ‍্যাডাম জ‍্যাম্পার বলে স্লগ সুইপ করে চার মারেন মোসাদ্দেক। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্পর্শ করেন পঞ্চাশ। সিরিজের প্রথম ম‍্যাচ দিয়ে প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। দ্বিতীয় ম‍্যাচে তেমন কিছু করতে পারেননি, এবার দলকে টানছেন তিনি।

এদিকে ব‍্যাটিংয়ে ভুগছিলেন শেখ মেহেদি হাসান। জেভিয়ার বার্টলেটের বলে তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে কাভারে ধরা পড়েন তিনি। ৯ বল খেলে ৩ রান করতে পারেন মেহেদি।

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়া লিটন দাস শেষ দিকে ফেরেন মাঠে। ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে স্পর্শ করেন পঞ্চাশ। মিরপুরে ১১ বছর ও ২৯ ইনিংসে এটাই তার প্রথম পঞ্চাশ! শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ পায় লড়াইয়ের পুঁজি। তবে কুপার কনোলি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি  টাইগারদের হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন ফিকে করে দেন। তারপরও অজিদের বিপক্ষে ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দই বা কম কিসে স্বাগতিকদের।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৪/৪ (সৌম‍্য ২, তানজিদ ১৯, শান্ত ২৪, লিটন ৫৮*, হৃদয় ৮৩, মোসাদ্দেক ৫৬*, মেহেদি ৩; বার্টলেট ৮-০-৪৭-২, মেরেডিথ ৭-০-৪১-০, ডোয়ার্শাস ৮-০-৫৫-১, গ্রিন ৬-২-১৮-০, রেনশ ৯-০-৪৪-২, জ‍্যাম্পা ১০-০-৪৮-০, লাবুশেন ২-০-১০-০)।

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ (কনোলি ১৪৯, ইংলিস ২১, রেনশ ০, কেয়ারি ৮, লাবুশেন ২৯, গ্রিন ২৭, পিক ২৭, বার্টলেট ০, ডোয়ার্শাস ৪, জ‍্যাম্পা ৪*, মেরেডিথ ২*; তাসকিন ৭.৩-১-৫৯-১, মোস্তাফিজ ৯-০-৫৬-১, শরিফুল ১০-১-৪৮-৬, মেহেদি ১০-১-৩৭-১, তানভির ৭-০-৩৮-০, তানভির ৭-০-৩৮-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ ২-১ এ জয়ী।

নিউজজি/সিআর/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers