বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৭ সফর ১৪৪৮

খেলা
  >
ক্রিকেট

টি-টোয়েন্টি সিরিজও হাতছাড়া বাংলাদেশের

নিউজজি ক্রীড়া ডেস্ক ১৯ জুন , ২০২৬, ১৭:৫৯:৫৫

186
  • সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা বাংলাদেশের হয়েছিল বাজে হারে। তাই সিরিজ হাতছাড়ার শঙ্কা ছিল টাইগার শিবিরে। তারপরও দ্বিতীয় ম্যাচে দাপটের সঙ্গে জিতে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল স্বাগতিকরা। যদিও সে সম্ভবনা শুক্রবার চট্টগ্রামে একেবারে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত জাগিয়ে রেখেছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। তবে দুই সেট ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন আর সাইফ হাসান দ্রুত ফিরলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ পর্যন্ত শেষের সমীকরন আর মেলাতে পারেননি তাওহিদ হৃদয় আর আব্দুল গাফ্ফার সাকলায়েন। তাই অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা হারের সঙ্গে সিরিজটাও হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। 

অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজের ২য় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হারে ৭ রানে। শুক্রবার  টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন রেনশো। জবাবে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান করে বাংলাদেশ।

শনিবার চট্টগ্রামের দর্শকসম্পূর্ণ বিপরীত ধরণের দুই ইনিংসের সাক্ষী হলেন।  প্রথম ইনিংসে পাওয়ারপ্লেতে হোঁচট খেয়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে যেখানে বড় স্কোর দাঁড় করিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, সেখানে দ্বিতীয় ইনিংসের অর্ধেক পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের খেসারত দিয়ে ম্যাচ ও সিরিজ দুটোই হেরেছে টাইগাররা।

জবাব দিতে নেমে শনিবার দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন উড়ন্ত সূচনা। শুধু তামিমের উইকেটটি হারিয়ে ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশ তুলে ফেলেছিল ৭২ রান। স্পেন্সার জনসন ও অ্যারন হার্ডিকে বেধড়ক পিটিয়ে তামিম ও সাইফ রানতাড়ায় সম্ভাব্য সেরা শুরুটাই করেছিলেন।  পাওয়ারপ্লের পরপরই সৌম্য সরকার আউট হলেও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন সাইফ ও পারভেজ হাসান ইমন। দুজন মিলে ১৩ ওভারে ১৩০ পর্যন্ত নিয়ে যান দলকে। কিন্তু এরপরই খেলার মোড় ঘুরে যায় নাটকীয়ভাবে।

ত্রয়োদশ ওভারে অ্যারন হার্ডিকে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিচেল মার্শের হাতে তালুবন্দী হন ইমন। তবে বাংলাদেশ আসল ধাক্কাটা খেয়েছে পরের ওভারে। মাত্র তিন বল আগে ৩৬ করা ইমনকে হারিয়েছে বাংলাদেশ, তবুও কী বুঝে জোয়েল ডেভিসের ওয়াইড বল তাড়া করতে গিয়ে কভারে সেই মার্শের হাতেই ক্যাচ তুলে দিলেন সাইফ, সেই ব্যাখ্যা বোধ হয় তিনিই সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন। অথচ ৩৩ বলে ৪২ রানে ক্রিজে থাকা সাইফই তখন রান তাড়ায় দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন। পাগলাটে এই আউটের পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। 

শামীম হোসেন ব্যাট হাতে কোনো অবদানই রাখতে পারেননি, ৮ বলে করেছেন ৭ রান। শেষ আশা ছিলেন অধিনায়ক হৃদয়, কিন্তু তিনি যতক্ষণে হাত খুলেছেন ততক্ষণে বাংলাদেশের জয়ের আশা প্রায় শেষ বললেই চলে। শেষ পর্যন্ত তাঁর ২২ বলে ৩৫ রানের ইনিংস ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে কিছু রানই যোগ করেছে শুধু, দলকে জয়ের মুখ আর দেখাতে পারেনি। 

ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শের সঠিক সময়ে সঠিক বোলার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাঝের ওভারগুলোতে তিন স্পিনার জাম্পা, ডেভিস ও রেনশ’র নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশকে আরও চাপে ফেলেছে, আর শেষ দিকে স্লোয়ার বলের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠা নাথান এলিসের বলে ব্যাটে-বলে করতেই খাবি খেতে হয়েছে ব্যাটারদের। 

এর আগে ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করতে চেয়েছিলেন জশ ইংলিস। তবে এবার তাকে বেশিদূর এগোতে দেননি নাসুম আহমেদ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে এই ওপেনারকে ফিরিয়েছেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৬ বলে ১১ রান করেছেন ইংলিস।

পরের ওভারেই দলকে ব্রেকথ্রু দেন নাহিদ রানা। টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ৩৯৬ দিন পর মাঠে নেমেই উইকেটের দেখা পান এই প্রিমিয়াম পেসার। ১ রান করা কপার কলোনি স্লিপে সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফিরেছেন। পরপর দুই ওভারে উইকেট হারানোয় দেখে-শুনে খেলছিলেন মিচেল মার্শ। তবে ১৯ বলে ২০ রানের বেশি করতে পারেননি।

৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন রেনশো ও ডেভিড। দুজনের ৯৭ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় অজিরা। ৪৫ রান করা ডেভিডকে ফিরিয়ে জমে ওঠা এই জুটি ভেঙেছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তবে রেনশো অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করে এসেছেন। তাতে বড় সংগ্রহই পেয়েছে অজিরা।

বাংলাদেশের হয়ে ২৭ রানে ২ উইকেট শিকার করে ইনিংসের সেরা বোলার নাসুম। এ ছাড়া একটি করে উইকেট পেয়েছেন রানা, সাকলাইন ও মোস্তাফিজ।

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers