রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৪ সফর ১৪৪৮

খেলা
  >
ক্রিকেট

ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অস্ট্রেলিয়ার

চঞ্চল রহমান ২১ জুন , ২০২৬, ১৭:৩০:০৬

226
  • ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অস্ট্রেলিয়ার

ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নেয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও চোখ রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে ২০ ওভারের সিরিজের শুরুর দুই ম্যাচে হেরে সে স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় টাইগাররা। তাই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিটা অন্তত জিতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে বাঁচতে চেয়েছিল স্বাগতিকরা। এ আশা পূরণে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে রবিবার তাওহিদ হৃদয় ছাড়া কোন ব্যাটার ২২ গজে দাঁড়াতেই পারেনি। টাইগারদের ইনিংস তাই মন্থর গতিতে থামে একশ পার করেই। শেষ পর্যন্ত এ পুঁজি নিয়ে লড়াইটাও করতে পারেনি বাংলাদেশ। মিচেল মার্শের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা

চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হেরেছে ৭ উইকেটে। এর ফলে ৩ ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হেরে টাইগাররা পড়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায়।

সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রানে থামে। স্বাগতিকদের হয়ে তাওহিদ হৃদয় ৫১ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছান শুধু রিশাদ হোসেন। তিনি করেন ১৬ রান। এরপর বলে হাতে উইকেটে আটকে পারেনি স্বাগতিকরা। এ সুযোগে অস্ট্রেলিয়া জয় নিশ্চিত করে ৫৪ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখে। টাইগার পেসার শরিফুল ইসলাম, স্পিনার নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন নেন ১ টি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মার্শ ২৮ বলে ৬০ রানের টর্নেগো ইনিংস খেলেন।

অস্ট্রেলিয়ার সামনে মামুলি টার্গেট দিয়ে যেভাবে বোলিং করার দরকার ছিল সেটা রোববার পারেনি বাংলাদেশ। এ সুযোগে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন মিচেল মার্শ। তার সৌজন্যে ৩ ওভারেই অজিরা তুলে ফেলে ২৮ রান। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ উইকেটের দেখা পায় ইনিংসে ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে। সে সময় নাসুম আহমেদের বলে জস ইংলিস ক্যাচ দেন  শামীম হোসেনের হাতে। তখন অজিদের রান ৫৫।

ইংলিশ ফিরলেও ঝড় তোলেন মার্শ।  নাহিদ রানার  ওভারে নেন ২০ রান। পরের ওভারে রিশাদ হোসেন হজম করেন ছক্কা। এই ছয়ে ২৩ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করলন মিচেল মার্শ। অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে যায় জয়ের দুয়ারে।

দলকে জয়ের কাছে নিয়ে অবশেষে ফিরেন মার্শ। শরিফুল ইসলামের বলে সুইপার কাভারে ধরা পড়েন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। সীমানা থেকে এগিয়ে এসে ক‍্যাচ নেন শামীম হোসেন। ভাঙে ১৫ বল স্থায়ী ৩৪ রানের জুটি। ২৮ বলে চার ছয় ও সাত চারে ৬০ রান করেন মার্শ।

ম্যাচের শেষ দিকে তৃতীয় উইকেটও পায় বাংলাদেশ। রিশাদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন কুপার কনোলি। ততক্ষণে যা হবার হয়ে গেছে।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জনসনের বল সোজা খেলেছিলেন সাইফ হাসান। কিন্তু সেটা বোলারের হাতে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। নন স্ট্রাইকে থাকা তামিম তখন ক্রিজ থেকে সামান্য বাইরে। বলের গতিবিধি দেখে ব্যাটকে ক্রিজের ভিতরেও নিতে চেয়েছিলেন তামিম। কিন্তু সামান্য বিলম্বে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরেন তিনি।

এরপর বাংলাদেশি ব্যাটাররা যা করেছেন, তা রীতিমতো ছেলেখেলা যেন। ডটের পর ডট খেলে জনসনের ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাইফ হাসান। মার্শের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ৯ বলে করেছেন মাত্র এক রান। এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজের পর ব্যাট হাতে টানা ব্যর্থ এই ওপেনার।

পাওয়ার প্লেতে ডট বলের মহড়া দিয়ে ফিরেছেন তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন। নাথান এলিসের বলে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ১৩ বলে করেছেন মাত্র এক রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে স্ট্রাইক রোটেশনের দক্ষতা যে কত কার্যকরী বিষয়, সেটাই টের পেয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

১৩ বলে এক রান করে লজ্জার রেকর্ডেও নাম লেখান ইমন। বাংলাদেশের হয়ে অন্তত ১০ বলের ইনিংস খেলা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেট তার। এর আগে ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে ১১ বল খেলে ২ রানে আউট হয়েছিল সৌম্য। এতদিন এটাই ছিল বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এক ইনিংসের সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেট।

এদিকে পঞ্চম ওভার শেষে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১! আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটেও এমন মন্থর গতির ব্যাটিং দেখা যায় না আজকাল। যদিও পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন সোহান-হৃদয়। যদিও অস্ট্রেলিয়ান বোলিং তোপে বেশিক্ষণ টিকেনি এই জুটি।

ইনিংসের অষ্টম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। লম্বা সময় পর টি-টোয়েন্টি একাদশে ফিরেও ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না এই ব্যাটার। মাত্র ৮ বলে ৬ রান করে ফিরেন তিনি। তাতে দলীয় ৩৪ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সোহানের বিদায়ের পর  লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়া যাওয়া বলকে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন শামীম। ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশকে আশার আলো দেখান হৃদয়-রিশাদ জুটি। তবে নিখিল চৌধুরীর বলে অদ্ভুত শট খেলে বিদায় নেন রিশাদ হোসেন। এক চার ও এক ছক্কায় ১৪ বলে ১৬ রান করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ১৩ ম্যাচ পর ১৫ রানের ইনিংস দেখলেন এই অলরাউন্ডার।

এরপর শরিফুল, তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগ্রহে ৪৪ রান যোগ করেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তার ৫১ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংসে লজ্জার রেকর্ড থেকে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান করে লাল-সবুজের দল। সেই রান অবশ্য বাংলাদেশ দলের জন্য তেমন কাজে আসেনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চার ওভারে ৬ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন স্পেনসার জনসন। এছাড়া নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা দুইটি এবং নিখিল চৌধুরী একটি উইকেট শিকার করেছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৮ (হৃদয় ৬১*, রিশাদ ১৬, শরীফুল ৭; জনসন ২/৬, এলিস ২/২১)।

অস্ট্রেলিয়া: ১১ ওভারে ১১২/৩ (মার্শ ৬০, ইংলিস ১৭; নাসুম ১/১০, রিশাদ ১/২২)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী।

নিউজজি/সিআর/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers