বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ , ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

খেলা
  >
ক্রিকেট

১৪২ রান টপকাতে পারল না বাংলাদেশ

চঞ্চল রহমান ৬ জুলাই , ২০২৬, ২০:৩০:০১

180
  • ১৪২ রান টপকাতে পারল না বাংলাদেশ

একমাত্র টেস্ট হারার পর ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়েছিল বাংলাদেশ। বল হাতে আগুন ঝরিয়ে সোমবার নাহিদ রানা সে পথও তৈরি করে দিয়েছিলেন। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত লো স্কোরিং ম্যাচেও জিততে পারেনি টিম টাইগার্স। তাই ৫০ ওভারের সিরিজের শুরুটাও সফরকারীদের হল হার সঙ্গী করেই।  এরফলে ৩ ম্যাচের সিরিজে টাইগাররা পেছনে পড়ল ০-১ ব্যবধানে।

সোমবার হারারেতে বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে হেরেছে ২৫ রানে। এদিন, টস জিতে আগে বল হাতে নিয়ে ৩৬ ওভার ৪ বলে ১৪১ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে বাংলাদেশ। এজন্য সামনে নেতৃত্ব দেন নাহিদ রানা। তিনি ২১ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন। স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন নিউম্যান নিয়ামুরি। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই বাজে ব্যাটিং উপহার দেয় বাংলাদেশ। দ্রুতই একের পর এক ব্যাটার ফিরেন সাজঘরে। এক পর্যায়ে তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান চেষ্টা করেন দলকে ফেরাতে। তবে তারাও ব্যর্থ হলে দলের পরাজয় নিশ্চিত হয়। টাইগাররা গুটিয়ে যায় ৩৩.১ ওভারে ১১৭ ১রানে। নুরুল করেন ৩১ রান। জিম্বাবুয়ের ইভান্স, নাগাভা নেন  ৩টি করে উইকেট।

জবাব দিতে নেমে বাজে শুরু করে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। এক বাউন্ডারিতে ৬ বলে ৮ রান করেছেন তিনি। ব্যর্থ আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারও। ১০ বল খেলে ৬ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।  দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে বাড়তি দায়িত্ব ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে। তবে অভিজ্ঞ এই ব্যাটার দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে পারেননি। উল্টো দলের বিপদ বাড়িয়েছেন। ৭ বল খেলে ৩ রান করেছেন তিনি।

দলের বিপদে হাল ধরতে পারেননি সৌম্য সরকারও। রিচার্ড এনগারাভাওয়ের বাউন্সারে অহেতুক শট খেলতে গিয়ে ফেরেন সাজঘরে। দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর নুরুল হাসান ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তাদের জুটিতে দলের রান পঞ্চাশ পেরিয়েও যায়। শেষ পর্যন্ত তাদের জমে যাওয়া জুটি ভেঙে যায় ৮৮ বলে ৪৯ রানে। নিয়ামুরির বলে ডিপ থার্ডে ক্যাচ দিয়ে ফেনেন তাওহিদ।

ফর্মে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও সোমবার কিছু করতে পারেননি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। তার বিদায়ের সময় ৫ উইকেটে বাংলাদেশের রান ৭৪। এ অবস্থায় দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন নুরুল হাসান। তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্রিজে গিয়েই বাজে এক শট খেলেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ভাগ‍্য ভালো ছিল, স্লিপ ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে যায় বাউন্ডারিতে। এরপরও সাবধান হননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের শর্ট বলে ব‍্যাট চালিয়েই যেতে থাকেন তিনি। তেমনই এক বলে তিনি ডিপ পয়েন্টে ধরা পড়লেন মিরাজ। রিচার্ড এনগারাভার ওই ডেলিভারি অফে যে কোনো জায়গায় পাঠানো যেত। কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক খুঁজে নিলেন ফিল্ডারকে। ১৮ বলে ১০ রান করেন মিরাজ।

সতীর্থদের যাওয়া-আসার মিছিলে এক প্রান্ত আগলে ছিলেন সোহান। ব্র‍্যাড ইভান্সের লেগ-মিডল স্টাম্পে থাকা ইনসুইং ডেলিভারি ব‍্যাটে খেলতে পারেননি তিনি। প‍্যাডে বল লাগতেই এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। ডিআরএস নেই, তাই রিভিউ নিতে পারলেন না নুরুল হাসান সোহান। একরাশ হতাশা নিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন কিপার-ব‍্যাটসম‍্যান। তার বিদায়েই ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে রাখা হয়ে যায়।

মহাবিপদে পড়ে বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল রিশাদ হোসেনের দিকে। কিন্তু হতাশ করলেন তিনি। ব্র‍্যাড ইভান্সের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে কট বিহাইন্ড হলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত হারই সঙ্গী হয় টাইগারদের।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার বেন কারান ও ব্রায়ান বেনেটের জুটিতে ভালোই এগোচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউট হয়ে ফেরেন কারান। তাতে ভাঙে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। রান আউটের পরের বলেই তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বেনেট। ২৪ বলে ১৭ রান করা এই ওপেনারের বিদায়ের পর প্রথম বলেই ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়েকে আরও চাপে ফেলেন তাসকিন। এরপর নাহিদের সামনে রীতিমতো অসহায় ছিল রোডেশিয়ানরা। তার গতি আর বাউন্সে ব্যর্থ হয়েছেন সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদানধে ও ইনোসেন্ট কাইয়ারা। রাজা ১২ বলে ১ রান করে উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দেন। মাধেভেরে রানের খাতা খোলার আগেই স্লিপে ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্তকে। মাদানধে ফেরেন মাত্র ২ রান করে।

ইনোসেন্ট কাইয়া চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ৩৯ বলে ২৬ রান করা এই ব্যাটারও শেষ পর্যন্ত নাহিদের শিকার হন। তখন ৭০ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে একশর আগেই অলআউটের শঙ্কায় পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে সেখান থেকে ৬৩ রানের জুটি গড়েন রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান। ২৭ রান করা এনগারাভাকে বোল্ড করে এই জুটিও ভেঙেছেন নাহিদ। এটি ছিল ইনিংসে তার ষষ্ঠ উইকেট। যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংও। ১৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় পাঁচ উইকেট শিকার। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সর্বাধিক ফাইফারের তালিকায় এখন তার ওপরে আছেন শুধু মোস্তাফিজুর রহমান।

নিউজজি/সিআর/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers