বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ , ৩ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

খেলা
  >
ক্রিকেট

বিজ্ঞাপনের বাজার ধরতে জানুয়ারিতে পিএসএল? নতুন সূচনার ভাবনা পাকিস্তানে

স্পোর্টস ডেস্ক ৬ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১৩:৩৯:১৯

227
  • সংগৃহীত

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ভবিষ্যৎ সূচি নিয়ে নতুন করে ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। টুর্নামেন্টকে আরও লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে জানুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

পিএসএলের বর্তমান সূচি সাধারণত বছরের প্রথমার্ধে রাখা হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা এবং সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাজারের হিসাব-নিকাশে নতুন উইন্ডো খুঁজছে পিসিবি। বাণিজ্যিকভাবে সুবিধাজনক সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারলে সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপনী আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পিএসএল এখন আর শুধু পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর নয়। সময়ের সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে পরিণত হয়েছে। নতুন দুই দল যুক্ত হওয়ায় ২০২৬ সালের আসর থেকে পিএসএল ছয় দল থেকে বেড়ে আট দলের হয়েছে।

আট দলের লিগ মানে ম্যাচের সংখ্যা বাড়া, দর্শকসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা এবং একই সঙ্গে সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপনের জন্য আরও বেশি সময় পাওয়া। ফলে টুর্নামেন্টের সময় নির্ধারণ এখন শুধু ক্রিকেটীয় বিষয় নয়; এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক হিসাব।

পিসিবির আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসই হলো সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, মিডিয়া রাইটস, টিকিট ও লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

জানুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের ভাবনার পেছনে সবচেয়ে বড় বিষয় হতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তুলনামূলক ফাঁকা সময় এবং বিজ্ঞাপন বাজারের সুযোগ। বছরের শুরুতে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে পারলে পিএসএল নিজেদের জন্য আরও বেশি সম্প্রচার দর্শক তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকেও বাড়তি আগ্রহ পাওয়া সম্ভব—এমনটাই পিসিবির বাণিজ্যিক হিসাবের অংশ হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সূচি এবং অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সঙ্গে সমন্বয় করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পিএসএলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এনেছে পিসিবি। ২০২৬ সালের আসর থেকে খেলোয়াড় বাছাইয়ে প্রচলিত ড্রাফটের পরিবর্তে অকশন মডেল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর খেলোয়াড় বাজেটও বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হওয়ায় লিগের বাণিজ্যিক মূল্যও বাড়ছে। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বিক্রিতেই বিপুল অঙ্কের অর্থ পেয়েছে পিসিবি—সিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি হয়েছে ১.৮৫ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে এবং হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজি ১.৭৫ বিলিয়ন রুপিতে। এতে স্পষ্ট, পিএসএলকে এখন আরও বড় একটি স্পোর্টস-বিজনেস ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে পাকিস্তান।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখন বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিশাল আকর্ষণ। অল্প সময়ে বেশি ম্যাচ, তারকা ক্রিকেটার এবং টেলিভিশন দর্শক—সব মিলিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বিজ্ঞাপনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। তাই পিএসএলের ক্ষেত্রে সময় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় পিসিবি, যখন দর্শকদের মনোযোগ বেশি থাকবে এবং বিজ্ঞাপনদাতারাও বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।

তবে জানুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। আন্তর্জাতিক সূচি, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, সম্প্রচার স্বত্ব এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মতামত—সবকিছু বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটা বিষয় অবশ্য পরিষ্কার—পিএসএলকে শুধু মাঠের ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না পিসিবি; এটিকে আরও বড় বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডে পরিণত করাই এখন তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers