বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ , ২ রমজান ১৪৪৭

খেলা
  >
ফুটবল

নাটকীয় জয়ে আফ্রিকায় ফের চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল

ক্রীড়া ডেস্ক ১৯ জানুয়ারি , ২০২৬, ১০:৫৬:১৩

198
  • ছবি: ইন্টারনেট

মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য থাকে। এরপর যোগ করা সময় শুরুর পর নাটকীয়তার শুরু। ৯৮ মিনিটে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ সেনেগাল ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফের ফাউলের শিকার হলে রেফারি জ্যাকস এনদালা পেনাল্টির বাঁশি বাজান। মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়ার প্রতিবাদে দলটি মাঠ ছেড়ে বের হয়ে গিয়েছিল সেনেগাল। এই অচলাবস্থার মধ্যে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ১৭ মিনিট। এরপর সেনেগালের খেলোয়াড়েরা মাঠে ফিরে এলে আবার খেলা শুরু হয়। মরক্কোর দিয়াজই পেনাল্টি শট নিতে এগিয়ে যান। তবে গোল করেতে পারেননি তিনি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেই অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে সেনেগালকে গোল এনে দেন ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার পাপে গেয়ে। ২০২১ সালের পর আবারও আফকন চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল।

রবিবার মরক্কোকে ১–০ গোলে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) জিতে নেয় সেনেগাল।  দলটির  হয়ে ৯৪তম মিনিটে গোল করেন পাপে গেয়ে। আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় এটি সেনেগালের দ্বিতীয় শিরোপা। আর মরক্কোর অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হলো আরও। এই প্রতিযোগিতায় তারা একমাত্র শিরোপাটি জিতেছিল অর্ধশতাব্দী আগে, সেই ১৯৭৬ সালে।   

শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো সেনেগাল। সতীর্থের ক্রস গোলমুখে পেয়েও গোলরক্ষক বরাবর হেড নিয়ে হতাশ করেন পাপে গেয়ে। ৩৭তম মিনিটে প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি পায় সেনেগাল। গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান ইলিমান; তবে তার কোনকুনি শট এগিয়ে এসে পা বাড়িয়ে আটকে দেন ইয়াসিন বোনো। চার মিনিট পর দারুণ এক সুযোগ পায় মরক্কোও। কিন্তু বাঁ দিক থেকে ইসমায়েল সাইবারির দুর্দান্ত ক্রস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেলেও, বলে মাথা ছোঁয়াতেই পারেননি নায়েফ।

প্রথমার্ধে গোলের জন্য মাত্র দুটি শট নেওয়া মরক্কো বিরতির পরের প্রথম ১৫ মিনিটে আরও চারটি শট নেয়; কিন্তু এর কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। ৫৮তম মিনিটে এল কাবির কাছ থেকে বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

পরের কয়েক মিনিটে আরও তিনবার শট নেয় মরক্কো, এবং প্রতিবারই লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৬৭তম মিনিটে এক দুর্ঘটনারও শিকার হয় তারা; কর্নারে হেড করতে লাফিয়ে ওঠেন এল আইনাউই, প্রতিপক্ষের একজনের মাথায় লেগে চোখের ওপরের অংশে আঘাত পান তিনি, রক্তও ঝরে; কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। মাঠেই কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে, কপালে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলা চালিয়ে যান। এরপর ম্যাচের ৮১তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে মরক্কো, যদিও আব্দেলের ওই দুর্বল ভলি সরাসরি যায় গোলরক্ষকের গ্লাভসে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে সেনেগাল; জোরাল কোনাকুনি শটে বোনোকে পরাস্ত করতে পারেননি ইব্রাহিম।

কিছুক্ষণ পর ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লাগার পর, ফিরতি বল হেডেই জালে পাঠিয়েছিলেন ইসমাইল সার; তবে গোল মেলেনি আগেই রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজানোয়। হেড করার আগে পাপে গেয়ে আশরাফ হাকিমিকে ধাক্কা মেরেছিলেন। ধাক্কাটি যদিও তেমন জোরে ছিল না, তাই সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে। এরপর ৭ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ালে জয় ছিনিয়ে নেয় সেনেগালই। তাই শিরোপা জিতে দলটির উচ্ছ্বাস একটু বেশিই। 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন