বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৭ সফর ১৪৪৮

খেলা
  >
ফুটবল

টুখেলের সাজানো কৌশলেই সর্বনাশ ইংল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক ১৬ জুলাই , ২০২৬, ১৯:৩৩:০০

129
  • টুখেলের সাজানো কৌশলেই সর্বনাশ ইংল্যান্ডের

২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ ২২ মিনিটে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপের শেষ চারেও তাই হল দলটির। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ইংলিশরা। এ জন্য প্রধান কোচ থমাস টুখেলের সাজানো কৌশলই দায়ী।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের এই হার ছিল ‘সক্রিয়ভাবে ডেকে আনা বিপর্যয়’এবং একটি আত্মঘাতী ধস। নিজেদের সিদ্ধান্তেই নিজেদের পেনাল্টি বক্সে ক্রমশ গুটিয়ে যেতে থাকে ইংল্যান্ড। যার পরিণতিতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়। আর আর্জেন্টিনা নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট।

টুখেলের জানা ছিল– আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জিতেছিল। তা সত্ত্বেও তিনি ডিফেন্স মন্ত্র বেছে নেন। সেটা যে টেকসই নয়, মিনিট দশেকের মধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। আরও নিখুঁতভাবে দেখলে মাত্র ৭ মিনিটের ঝড়ে শেষ ৬০ বছর পর ইংলিশদের আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন। মেসি-লাউতেরোদের আক্রমণে ইংল্যান্ডের ডিফেন্স ভেদ হয়েছে বারবার। পিকফোর্ড একবার গোললাইন সেভ করেছেন। পোস্টে লেগে ফেরত আসে একাধিক শট।

ম্যাচের ৮৪তম মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তখন তারা হয়ত ধরেই নিয়েছিল ফাইনাল নিশ্চিত। তবে এনজো ফার্নান্দেজ ৮৫ মিনিটের বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শট এবং যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজে হেডের গোলে তাদের সে আশাকে শেষ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত  ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের।

অবশ্য ম্যাচের প্রকৃত মোড় ঘুরে যায় আরও আগে। অ্যান্থনি গর্ডনের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে পাওয়া ৫৫ মিনিটের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ ঠিক টুখেলের পরিকল্পনামাফিক চলছিল। সামনে উঠে খেলতে হচ্ছিল আর্জেন্টিনাকে। ফলে পেছনে ফাঁকা জায়গাও তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানোর বদলে ইংল্যান্ড নিজেদেরই বক্সে আশ্রয় নেয়। বেঞ্চে থাকা বুকায়ো সাকা, ননি মাদুয়েকে কিংবা মার্কাস রাশফোর্ডের গতিকে কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখার কোনো চেষ্টা করেননি টুখেল।

১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড কার্যত আর কোনো আক্রমণই করতে পারেনি। হ্যারি কেইনের একটি ব্লক হওয়া শট এবং মরগান রজার্সের একটি অসমাপ্ত পাল্টা আক্রমণ ছাড়া উল্লেখ করার মতো কিছুই ছিল না। ম্যাচের বাকি অংশের প্রায় পুরোটাই খেলা হয়েছে জর্ডান পিকফোর্ডের গোলপোস্টের সামনে।

এ ছাড়া পুরো বিশ্বকাপজুড়ে প্রধান কোচ ও সহকারী অ্যান্থনি ব্যারি ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগভিত্তিক খেলোয়াড়দের গতি, শারীরিক সক্ষমতা ও তীব্রতা নিয়ে কথা বলেছেন। অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই অস্ত্রই ব্যবহার করলেন না। বরং গুটিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নিলেন, যদিও লিয়েন্দ্রো পারেদেস মাঠ ছাড়ার পর এবং নিকোলাস ওতামেন্দি লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জায়গায় নামায় আর্জেন্টিনার রক্ষণে গতির বিপক্ষে স্পষ্ট দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল।

টুখেলের সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপ মঞ্চে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম বড় ভুল হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধের কুলিং ব্রেকের পর তিনি দলকে আবারও তথাকথিত ‘আজতেকা প্ল্যান’-এ ফিরিয়ে নেন। গর্ডনকে তুলে নিয়ে এজরি কনসাকে নামিয়ে তিন সেন্টার-ব্যাকের সঙ্গে পাঁচজনের রক্ষণ গড়ে তোলেন। এর ফলে ইংল্যান্ড পুরোপুরি নিজেদের বক্সে গুটিয়ে যায়। এ সুযোগে বক্সের বাইরের বিশাল জায়গা পুরোপুরি মেসির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ম্যাচ শেষ হতে ১২ মিনিট বাকি থাকতে মেসির ভাসিয়ে দেয়া বল থেকে গঞ্জালেসের আরেকটি হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরই বোঝা যাচ্ছিল কী ঘটতে যাচ্ছে। তবুও টুখেল আরও রক্ষণাত্মক হয়ে ওঠেন। ড্যান বার্নকে নামিয়ে দলকে ৫-৪-১ ছকে আরও পিছিয়ে দেন।

আবার বক্সের সামনে এনজো ফার্নান্দেজকে অবাধে শট নেয়ার সুযোগ দিলে বক্সে এতজন ডিফেন্ডার রেখে লাভ কী? সমতাসূচক গোলের আগে পিকফোর্ড একবার এনজোর শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দিলেও দ্বিতীয়বার আর পারেননি। সমতায় ফেরার পর ম্যাচে জয়ের দাবিদার ছিল কেবল একটি দল। এরই মধ্যে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লাগে। এরপর মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে লাউতারোর হেড আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এরপর আর কিছুই করতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত হার সঙ্গী করেই আবারও সেমি থেকেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছে।

নিউজজি/সিআর/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers