বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৫ মাঘ ১৪২৭ , ১৩ জুমাদাউস সানি ১৪৪২

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

‘উদ্ভাবনের হাত ধরে বাংলাদেশের বিস্ময়কর রুপান্তর ঘটেছে’

নিউজজি প্রতিবেদক ১৩ জানুয়ারি , ২০২১, ২১:০৫:৪৮

  • ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবনের হাত ধরে বাংলাদেশের বিস্ময়কর রূপান্তর ঘটেতে পারে। আমাদের নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে অভাবনীয়। বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য, জীবনধারা, সাহিত্য-সংস্কৃতির সাথে তার চিরায়ত মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা যোগ করে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ আরেকটি রুপান্তরের দিকে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ওয়েবিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেশন কেন্দ্র আয়োজিত উদ্যোক্তা উন্নয়নে উদ্ভাবন শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃায় এসব কথা বলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসুদ উর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগের উদ্যোক্তা উন্নয়ন-সংক্রান্ত অনুসন্ধানী ও গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, পৃথিবীর কোনো যন্ত্র মেধা-সৃজনশীলতার বিকল্প হতে পারে না। তবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এর সাথে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। ডিজিটাল যন্ত্র পরিচালনার জন্য দক্ষতার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার হবে না। যন্ত্র চালাতে পারলেই চলবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের অগ্রদূত ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশে বাংলাদেশ অতীতের তিনটি শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী দেশসমূহ থেকে পিছিয়ে নেই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ পৃথিবীতে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েও প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের পাশাপাশি বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র স্থাপন টিঅ্যান্ডটি বোর্ড গঠন, আইটিইউ ও ইউপিইউ-এর সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশনের বীজ বপন করেন।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে তা চারা গাছে রুপান্তরিত হয়। ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়নের পথ বেয়ে গত একযুগে তা বিরাট মহিরূহে রুপান্তর লাভ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহত্তর ময়মনসিংহকে একসময় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা উল্লেখ করে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ছিল পাট। ময়মনসিংহ ছিল পাট উৎপাদনে সবচেয়ে এগিয়ে। দেশের মিঠা পানির মাছের চাহিদার একটি বড় অংশ বৃহত্তর ময়মনসিংহ থেকে যোগান হয়। আমাদের বড় সম্পদের নাম মানুষ। প্রযুক্তির সাথে মানুষকে যুক্ত করতে পারলে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সক্ষম। এদেশের মানুষ সোনাফলা মাটির সাথে তার মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়েছে দক্ষতার সাথে। তাই এই দেশের সাথে পাল্লা দেবার কেউ নেই।

মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ যুগান্তকারী সফলা অর্জন করেছে বলেও উল্লেখ করেন মোস্তাফা জব্বার।

ওয়েবিনারে ড. আতিউর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অবস্থানে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন নতুন উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নিউজজি/জেডকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers