রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অফিস পেরিয়ে এবার সংসারেও এআই

নিউজজি ডেস্ক ২৭ জুলাই , ২০২৬, ১২:২১:১৩

86
  • সংগৃহীত

ঢাকা: কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারের পর এবার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। অফিসের কাজের পাশাপাশি ঘরের কেনাকাটা, শিশুদের পড়াশোনা, দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা এমনকি মানসিক সহায়তার মতো বিষয়েও বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুললেও এর ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক এআই কেবল নির্দেশনা অনুসরণ করে না। এটি পরিবারের সদস্যদের অভ্যাস, রুটিন ও প্রয়োজন বুঝে সেই অনুযায়ী সহায়তা করতে পারে। ফলে অনেক পরিবারের কাছে এআই ধীরে ধীরে একজন ‘ডিজিটাল সহকারী’ বা ভার্চুয়াল সদস্যে পরিণত হচ্ছে।

এআই-এমপাওয়ার্ড মম-এর প্রতিষ্ঠাতা সারা ডুলির ভাষ্য, পারিবারিক জীবনে এআই ব্যবহারের খরচ ও প্রযুক্তিগত জটিলতা এখন অনেক কমে এসেছে। এ কারণে প্রযুক্তিটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সুবিধার বিনিময়ে মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা ক্রমেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিবারে এআইয়ের ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। ওহাইওর একটি পরিবারে মা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্সার সাহায্য নিলেও, তার সন্তানরা চ্যাটজিপিটি ও মানসিক সহায়তামূলক চ্যাটবট ব্যবহার করছে। অন্যদিকে সাত সন্তানের জননী জেসি জেনেটের পরিবারে কেনাকাটা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি কাজ পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক এআই এজেন্ট।

এদিকে, ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওপেনএআই এমন একটি ডিসপ্লেহীন স্মার্ট স্পিকার তৈরি করছে, যা ঘরে মানুষের মতো সঙ্গী হিসেবে কাজ করতে পারবে।

পরিসংখ্যানও এআইয়ের বিস্তারের চিত্র তুলে ধরছে। লুরি চিলড্রেনস হাসপাতালের চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ শতাংশ অভিভাবক সন্তান লালন-পালন ও গৃহস্থালি ব্যবস্থাপনায় কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের সহায়তা নিয়েছেন। একই সময়ে পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৪ শতাংশ কিশোর-কিশোরী নিয়মিত চ্যাটবট ব্যবহার করছে।

তবে এআই ব্যবহারের এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা (ইউএনসি) চ্যাপেল হিলের মনোবিজ্ঞানী অ্যান মাহেক্সের মতে, কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অতিরিক্ত এআই নির্ভরতা তাদের বাস্তব মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় ও দ্বন্দ্ব মোকাবিলার দক্ষতা দুর্বল করে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রের মতোই পারিবারিক জীবনেও এআই বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং মানবিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।সূত্র: অ্যাক্সিওস

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers