শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১, ২৬ চৈত্র ১৪২৭ , ২৭ শাবান ১৪৪২

বিদেশ

সুইজারল্যান্ডে আইনীভাবে নিকাব পড়া নিষিদ্ধ করতে গণভোট ৭ মার্চ

নিউজজি ডেস্ক ৩ মার্চ , ২০২১, ১৮:১৩:২৪

  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: সুইজারল্যান্ডে আইনীভাবে নিকাব পড়া নিষিদ্ধ করতে আগামী ৭ মার্চ একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে প্রকাশ্যে দেশটিতে নিকাব পরা নিষিদ্ধ হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রস্তাবে দেশটির মুসলিমরা ক্ষোভ ও নিন্দা জানান।

স্থানীয়ভাবে আইনটিতে মুসলিম নারীদের বোরকা পরিধানে নিষেধাজ্ঞার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে মূলত তাদেরকে টার্গেট করে এটা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন মুসলিমরা।

প্রস্তাবিত আইনটিতে বলা হয়, কেউ প্রকাশ্যে তাদের মুখ ঢেকে রাখতে পারবে না এবং কাউকে তাদের লিঙ্গের ভিত্তিতে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করার অনুমতি নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকছে। যেমন- স্বাস্থ্যগত কারণ ও কার্নিভালের মতো প্রথার ক্ষেত্রে এই আইন শিথিল হতে পারে বলে প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখ করা হয়।

সুইজারল্যান্ডের ৩২ বছর বয়সী নারী ভ্যালেন্টিনা নিকাবকে ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তিনি বলেন, আমি এটা নিজের জন্যই পরিধান করে থাকি। বাইরের বিশ্বের কাছে কোনো প্রতীক হিসেবে নয়।

এক বছরের কম সময় আগে ভ্যালেন্টিনা তার স্কার্ফকে নিকাবে পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, আমি এটি পরিধান করে আরো ভালো ও নিরাপদ বোধ করি। এটি প্রার্থনারও একটি অংশ। তবে হয়তো বেশিদিন নিকাব পরতে পারবেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপ বলছে, ভোটাররা এই আইনটিকে সংকীর্ণভাবে অনুমোদন করবেন। মুসলিম সংখ্যালঘুদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্বাস করেন এই পদক্ষেপ তাদেরকে সমাজ থেকে একাকী করে ফেলতে পারে।

ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টির (এসভিপি) রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত এগারকিনগার কমিটি মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তারা বলছেন, এটি সুইজারল্যান্ডে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইসলামের ক্ষমতায়নের দাবির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। কমিটি যুক্তি দেখিয়েছে যে, মুক্ত মানুষেরা তাদের মুখ দেখায় এবং বোরকা ও নিকাব সাধারণ পোশাক নয়, এটি নারীদের ওপর অত্যাচারের প্রতীক।

২০১৭ সালে এই কমিটি বিষয়টিকে একটি গণভোটে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। যার কারণে আগামী ৭ মার্চ দেশটিতে এ বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

লুজার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম নিয়ে গবেষণা করেন এবং সুইজারল্যান্ডের দ্য বুরকা ডিবেট বইয়ের লেখক আন্দ্রেয়াস টুঙ্গার-জানেটি আসন্ন গণভোটকে পোশাকের চেয়ে বেশি কিছু বলে অভিমত দেন।

সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে, সুইজারল্যান্ডে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মুসলমান বসবাস করে। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। যাদের বেশিরভাগই বলকান অঞ্চলে বসবাস করেন। মুখ ঢেকে রাখা নারীদের বিষয়ে সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও টুঙ্গার-জ্যানেটি জানান, এই সংখ্যা খুবই কম।

গত বছর সুইজারল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের মুখ্য ব্যক্তিদের মধ্যে একটি সমীক্ষা চালান তিনি। যেখানে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কী পরিমাণ নারী পুরো মুখ ঢাকা রেখে নিকাব পরতে জানেন। টুঙ্গার জানান, সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়, সুইজারল্যান্ডে কোনো নারী বোরকা পরেন না। ২১ থেকে ৩৭ বছর বয়সী কিছু নারী নিকাব পরে থাকেন।

নিউজজি/আইএইচ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers