সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ , ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

বিদেশ

ঋণ খেলাপি হলো শ্রীলঙ্কা

নিউজজি ডেস্ক ১৯ মে , ২০২২, ১৯:১৫:৪২

86
  • ইন্টারনেট থেকে

ঢাকা: শ্রীলঙ্কা প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাপি দেশে পরিণত হয়েছে। দুটি সার্বভৌম বন্ডের কিস্তি পরিশোধের সময় পেরিয়ে যাওয়ায় বুধবার বিভিন্ন রেটিংকারী সংস্থা অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কাকে ঋণখেলাপির তালিকায় স্থান দিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ আর্থিক সংকটের সাথে লড়াই করছে। এমন সময়ে বুধবার দেশটি ৭৮ মিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত ঋণের সুদ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপর ৩০ দিনের সময় বাড়ানোর পরেও তারা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয় এবং ঋণ খেলাপি দেশ হিসেবে নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করে।

বিদেশি মুদ্রার ঘাটতিতে হিমশিম খাওয়া দ্বীপদেশটির জ্বালানি কেনার অর্থও ফুরিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মন্ত্রী। বিদেশি মুদ্রার ঘাটতির কারণে তারা ১৮ এপ্রিল নির্ধারিত দিনে সার্বভৌম বন্ডের দুটি কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারবে না বলে শ্রীলঙ্কা এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও কিস্তি পরিশোধে অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় থাকে, বুধবার ওই সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে।

রেটিং সংস্থা এস অ্যান্ড পি বলেছে, ২০২৩ ও ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকা বন্ড দুটির রেটিং তারা এরই মধ্যে ‘খেলাপি’ করে দিয়েছে; বুধবার কিস্তি পরিশোধের অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার রেটিংও তারা ‘ডি’ তে নামিয়ে আনবে।

শ্রীলঙ্কার ৭০ বছরের স্বাধীনতার ইতিহাসে এমন অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা যায়নি। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি থাকার কারণে সেখানে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। দেশটিতে ওষুধ, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব দেখা দিয়েছে। এবার দেশটি ঋণ খেলাপি দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন যে দেশটি এখন একটি ‘প্রি-এমটিভ ডিফল্ট’-এর মতো ঋণ খেলাপির মধ্যে রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো দেশ হঠাৎ নৈরাজ্য বা অন্য কোনো ঘটনার কারণে ঋণ খেলাপি হয়ে যায়।

‘ঋণ খেলাপি’ তখনই সংঘটিত হয় যখন সরকার তাদের ঋণের কিছু অংশ বা সমস্ত ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম হয়। এর মাধ্যমে একটি দেশের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রয়োজনীয় অর্থ ধার করা কঠিন হয়ে যায়। এর মাধ্যমে দেশটির মুদ্রা ও অর্থনীতিতে আস্থার ক্ষতি হয়।

এদিকে শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী কাঞ্চনা বীজেসেকারা পার্লামেন্টে বলেছেন, পেট্রল চালানের অর্থ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় ডলার শ্রীলঙ্কার কাছে নেই। তিনি জনগণকে আগামী দুইদিন পেট্রল স্টেশনগুলোতে লাইনে না দাঁড়াতেও অনুরোধ করেছেন। পেট্রলের একটি চালান গত ২৮ মার্চ থেকে কলম্বো বন্দরে থাকলেও অর্থের অভাবে সরকার তা কিনতে পারছে না, বলেছেন বীজেসেকারা। “অর্থ পেতে আমরা কাজ করছি, অন্তত এ সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত পেট্রল পাওয়া যাবে না। মজুদে যে অল্প পেট্রল আছে তা কেবল অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবাগুলোর জন্যই ছাড় করা হচ্ছে,” বলেছেন তিনি।

বুধবার দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে জানান, শ্রীলঙ্কা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে আপদকালীন ১৬ কোটি ডলার নিতে পেরেছে; এই অর্থ দিয়ে জ্বালানি কেনা হবে কিনা তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। “পরিসংখ্যানে উল্টাপাল্টা অনেক কিছু আছে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের কাছে এমনকি ১০ লাখ ডলারও নেই,” বলেছেন তিনি।

শ্রীলঙ্কা এখন ঋণ খেলাপি দেশে পরিণত হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর পি নন্দলাল বীরাসিংঘে বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যে আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমরা টাকা দিতে পারব না। তাই এটাকেই আপনি ‘প্রি-এমপ্টিভ ডিফল্ট’ বলতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কৌশলগত সংজ্ঞা থাকতে পারে... তাদের দিক থেকে তারা এটাকে ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আমাদের (শ্রীলঙ্কার) অবস্থান খুবই পরিষ্কার, যতক্ষণ না ঋণ পুনর্গঠন হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা শোধ করতে পারব না।’

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি করোনা মহামারি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও নমনীয় ট্যাক্স নীতির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে বৈদেশিক মুদ্রার দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি রয়েছে। দেশটিতে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বলা হচ্ছে, কোভিড মহামারীতে পর্যটন খাত থেকে আয় শূ্ন্যে নেমে যাওয়া, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং জনগণের মন জয় করতে রাজাপাকষে সরকারের কর কর্তন শ্রীলঙ্কার আজকের পরিস্থিতির জন্য মূলত দায়ী।

নিউজজি/এসজেড

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন