বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ , ৩ শাবান ১৪৪৭

বিদেশ

৫০ বছর বয়সীদের জন্য বাফেটের পরামর্শ

নিউজজি ডেস্ক ৮ ডিসেম্বর , ২০২৫, ১৪:১৩:৫৪

163
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বিশ্ববিখ্যাত বিলিয়নেয়ার ও বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেট দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিনিয়োগ সংক্রান্ত অমূল্য পরামর্শ দিয়ে আসছেন। ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা এবং তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা—এটাই তার বিনিয়োগ দর্শনের মূল ভিত্তি। বিশেষত যাঁরা অবসরের বয়সের কাছাকাছি, তাদের জন্য বাফেটের এসব পরামর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। কিংবদন্তি এই বিনিয়োগকারীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।

নিজের ওপর বিনিয়োগ করুন

বাফেটের মতে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে যেমন সম্পদ বাড়ানো যায়, ঠিক তেমনি নিজের ওপর বিনিয়োগ করাও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগগুলোর একটি। নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আয় বাড়ানো সম্ভব, যা আপনাকে ভবিষ্যতে আরও বেশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ করে দেবে।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে নিজের মন ও শরীরের যত্ন নেয়া আপনাকে কর্মক্ষেত্রে আরও উদ্যমী এবং উৎপাদনশীল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার কিছু উচ্চ খরচ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

বিনিয়োগে রাখুন সরলতা

ওয়ারেন বাফেট জটিল বিনিয়োগ কৌশলের পক্ষপাতী নন। তার মতে, বিনিয়োগ পরিকল্পনা হওয়া উচিত সহজ ও স্বচ্ছ। প্রতিটি শেয়ারের ওঠানামা অনুসরণ করার বদলে তিনি বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীকে স্বল্প খরচের এসএন্ডপি-৫০০ ইনডেক্স তহবিলে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেন।

এই ফান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০টি বৃহৎ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়। কোনো কোম্পানি মানদণ্ডে পিছিয়ে পড়লে সেটি সূচক থেকে বাদ পড়ে এবং নতুন কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বড় ক্ষতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যায়, তাই বৈচিত্র্যময় ইনডেক্স ফান্ড বয়স্ক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি নিরাপদ বলে মনে করেন বাফেট।

সব পর্যায়ে শান্ত থাকুন

বাফেটের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো, ‘অন্যরা যখন লোভী হয়, তখন ভয় পান; আর অন্যরা যখন ভয় পায়, তখন আপনি সাহসী হোন।’ তার ভাষ্যমতে বাজারে ধস নামলে অনেক

বিনিয়োগকারী আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে দেন, আর ধৈর্যশীল বিনিয়োগকারীরাই তখন তা কিনে নিয়ে ভবিষ্যতে বড় লাভের মুখ দেখেন।

রিটায়ারমেন্টের কাছাকাছি বয়সীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা আরও বেশি জরুরি, কারণ বাজারের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য তাদের হাতে সময় কম থাকে বলেও জানান তিনি।

প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নীতি ব্যবহার করুন

বাফেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন কোম্পানি খোঁজেন, যাদের রয়েছে শক্তিশালী প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্থাৎ এমন প্রতিযোগিতামূলক শক্তি, যা অন্যদের জন্য তাদের টপকানো কঠিন করে তোলে।

একইভাবে, ব্যক্তিগত আর্থিক জীবনেও এমন একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা জরুরি, যা অবসরের সময় আপনাকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত রাখবে। তবে উচ্চ সুদের ঋণ এই আর্থিক “মোট” ধ্বংস করে দেয়। তাই ঋণ পরিশোধ, ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে নিজের আর্থিক অবস্থান শক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা গড়ে তুলুন

ওয়ারেন বাফেটের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ হলো তার দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা। তিনি শেয়ারের বর্তমান দামের চেয়ে কয়েক বছর পরের অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। অল্প সময়ের ওঠানামা ও বাজারের গুজব উপেক্ষা করে তিনি শক্ত আর্থিক অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। সবশেষে বলা যায়, ধৈর্য, সরলতা ও শৃঙ্খলাই বাফেটের বিনিয়োগ দর্শনের মূল শক্তি।

সূত্র: মানিডটকম

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন