বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ , ২ রমজান ১৪৪৭

বিদেশ

কুয়ালালামপুরে অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১৫০

নিউজজি ডেস্ক ১৪ জানুয়ারি , ২০২৬, ১২:০১:৪০

102
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন বিভাগের অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও মরিয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

‘অপারেশন কুটিপ’ নামে এই অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ কেউ ওপর তলা থেকে দা ছুড়ে মারেন, কেউ ছাদের ওপর উঠে পড়েন, আবার কাউকে পানির ট্যাঙ্কের ভেতর লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে এই অভিযান চালানো হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেলায়াং এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।”

সেলায়াং থেকে আটক হওয়া এই ৭৯ জনের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা মূলত সিকিউরিটি গার্ড, ফুড স্টল সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, কনভিনিয়েন্স স্টোর বা মুদি দোকানের কর্মচারী এবং নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

লোকমান এফেন্দি জানান, পরিদর্শনে দেখা গেছে এসব প্রবাসী অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতেন। সাধারণত তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬০০ রিঙ্গিত ভাড়ায় নিয়ে সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন গাদাগাদি করে থাকছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে মোট ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

বার্নামার এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওই বসতিতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এমনকি তারা প্রকৃত বাড়ির মালিক কে, সে সম্পর্কেও কিছুই জানতেন না।

ওই এলাকায় কোনো বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। মূলত আশপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসতিটি গড়ে তোলা হয়েছিল।

লোকমান এফেন্দি জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান হবে ব্যাপক এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শুধু অবৈধ অভিবাসীই নয়, যারা তাদের নিয়োগ দিয়েছেন সেই নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আটককৃত সবার বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ কোনো পাস বা পারমিট ছিল না এবং অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল।

অভিযানকালে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: দ্য সান মালয়েশিয়া।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন