মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৫ জিলকদ ১৪৪৭

বিদেশ

‘ভারত-চীনের নাগরিকরা শুধু সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে’

নিউজজি ডেস্ক ২৩ এপ্রিল , ২০২৬, ১৭:২৪:১৫

25
  • ‘ভারত-চীনের নাগরিকরা শুধু সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে’

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও চীনকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যসম্বলিত একটি পডকাস্ট শেয়ার করেছেন। মার্কিন ভাষ্যকার ও রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের ওই পডকাস্টে দুই দেশকে ‘জাহান্নাম’হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

‘স্যাভেজ নেশন’নামের ওই মার্কিনিদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করতে গিয়ে স্যাভেজ অভিযোগ করেন, “এই দুটি এশীয় দেশের (ভারত-চীন) মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসে ‘নবম মাসে একটি শিশুর জন্ম দিতে’, এবং এই আইন তাদেরকে ‘তাৎক্ষণিক’মার্কিন নাগরিকে পরিণত করে। ‘তারপর তারা চীন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনো জাহান্নাম জায়গা থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।”

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অ-নাগরিকদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেয়ার ধারণার সমালোচনা করেছেন এবং বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে না দিয়ে একটি জাতীয় গণভোটের আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতীয় ও চীনা অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’বলেও উল্লেখ করে স্যাভেজ দাবি করেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকে পদদলিত করেছে। সব মাফিয়া পরিবার মিলে যা করেছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি ওরা এই জাতির করেছে। এটা আমার বিনীত মতামত। ল্যাপটপ হাতে গ্যাংস্টাররা। ওরা আমাদের সর্বস্ব লুটে নিয়েছে, আমাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো ব্যবহার করেছে, আমাদের পতাকার ওপর পা মাড়িয়েছে, ইত্যাদি।’

এই রেডিও উপস্থাপক আরও দাবি করেন, তিনি একসময় ভারতীয়দের একজন বড় সমর্থক ছিলেন যতক্ষণ না, তিনি উপলব্ধি করেন যে তাদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো হাই-টেক কোম্পানিতে শ্বেতাঙ্গদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ‘শূন্য’। কারণ এসব কোম্পানিতে প্রায় সমস্ত অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ভারতীয় ও চীনাদের দ্বারা পরিচালনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

স্যাভেজ অভিযোগ করেন, আধুনিক অভিবাসন প্রেক্ষাপটে মার্কিন সংবিধান পুরোনো হয়ে গেছে। বিমানযাত্রার যুগে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেয়ার বিষয়টি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানটি লেখা হয়েছিল বিমান চলাচলের আগে, বলাই বাহুল্য, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, রেডিওরও আগে। এবং আপনি বলতেই পারেন, এই যুক্তিগুলোর কয়েকটি কতটা প্রাসঙ্গিক যখন মানুষ গর্ভাবস্থার নবম মাসে বিমানে করে এখানে আসছে।’

ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন এক সময়ে শেয়ার করলেন যার ঠিক এক দিন আগেই তিনি সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেয়ার নিয়ম নেই। তবে তথ্যগতভাবে ট্রাম্পের এই দাবিটি সঠিক নয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বাস্তবে, বিশ্বের প্রায় তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেয়ার বিধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশে এই আইন প্রচলিত আছে।

এদিকে ট্রম্পের পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে ট্রাম্প আবারও অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন এবং এর অংশ হিসেবেই তিনি এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণায় সায় দিচ্ছেন। সূত্র: এনডিটিভি।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers