সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২২ জিলহজ ১৪৪৭

বিদেশ

লেভিটকে অভিনন্দন জানিয়ে মিনাব ইস্যুতে ইরানের খোঁচা

নিউজজি ডেস্ক ১০ মে , ২০২৬, ১৭:১৭:২৮

102
  • লেভিটকে অভিনন্দন জানিয়ে মিনাব ইস্যুতে ইরানের খোঁচা

ঢাকা: হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সুখবর শেয়ার করেন। তবে সেই আনন্দঘন মুহূর্তেই ইরান থেকে আসা এক কড়া প্রতিক্রিয়া নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

নবজাতক কন্যাকে কোলে নিয়ে তোলা একটি ছবি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ২৮ বছর বয়েসি লেভিট জানান, ১ মে তাদের পরিবারে এসেছে ছোট্ট ‘ভিভি’। তিনি লেখেন, পরিবারের নতুন সদস্যকে ঘিরে প্রতিটি মুহূর্ত তারা উপভোগ করছেন।

তবে পোস্টটির মন্তব্যে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তারা মিনাবের রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে দাবি করে, মার্কিন হামলায় নিহত শিশুদের কথাও স্মরণ করা উচিত। দূতাবাসের ওই মন্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনাও করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার দিন মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে আঘাত হানে মার্কিন ‘টমাহক’ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এই হামলায় ৭৩ জন ছেলে ও ৪৭ জন মেয়ে শিশুসহ মোট ১৬৮ জন নিহত হয়। এছাড়া প্রাণ হারান ২৬ জন শিক্ষক এবং স্কুলের পাশের ক্লিনিকের কর্মীরাও।

এই ঘটনার পর লেভিট হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। এই কাজ শুধু ইরানি শাসনব্যবস্থার। অথচ নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তেই দেখা গেছে, নিশানা নির্ধারণে ভুলের কারণে ‘টমাহক’মিসাইলটি সরাসরি ওই স্কুলে গিয়ে পড়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম থেকেই এই হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন। গত ৭ মার্চ তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই বলেন, তাঁর ‘ব্যক্তিগত অভিমত’অনুযায়ী ইরানই এই কাজ করেছে। মজার ব্যাপার হলো, ইরানের অস্ত্রাগারে কোনো টমাহক মিসাইল নেই, যা শুধু আমেরিকারই বিশেষ সমরাস্ত্র।

পরবর্তীতে স্কুলে হামলার ভিডিও সামনে এলে ট্রাম্প বলেন, আমি এটি দেখিনি। এমনকি নিজের দেশের সামরিক বাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট নিয়েও তিনি ‘কিছুই জানেন না’বলে পাশ কাটিয়ে যান।

লেভিট বর্তমানে তাঁর মাতৃত্বকালীন ছুটি উপভোগ করছেন, তবে ইরানের এই কড়া জবাব তাঁকে মনে করিয়ে দিল যে কূটনৈতিক লড়াইয়ে ‘ব্যক্তিগত সুখ’অনেক সময় বৈশ্বিক রাজনীতির নিষ্ঠুর দাবার ছক হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে ওয়াশিংটনের বিলাসবহুল নার্সারিতে ভিভিয়ানের আগমনে উৎসবের রোশনাই, অন্যদিকে মিনাবের ধুলোবালিতে মিশে যাওয়া সেই ১৬৮ জন শিশুর মায়েরা আজও বিচারের অপেক্ষায়।

বিশ্ব মা দিবসে মাতৃত্বের এই আবেগঘন মুহূর্তকে ইরান যেভাবে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ঢাল বানালো, তা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

নিউজজি/এস আর/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers