সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২২ জিলহজ ১৪৪৭

বিদেশ

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগে চাইলেন ৭০ এমপি

নিউজজি ডেস্ক ১২ মে , ২০২৬, ১২:০৫:৪২

115
  • সংগৃহীত

ঢাকা: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ আরও তীব্র হয়েছে। সোমবার (১১ মে) চারজন সংসদীয় সচিব পদত্যাগ করার পাশাপাশি লেবার পার্টির ৭০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য (এমপি) প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর স্টারমার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে লন্ডনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেও, তা ক্ষোভ প্রশমনে ব্যর্থ হয়েছে। তার নিজ দলের নেতারাই মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমার তার কর্তৃত্ব হারিয়েছেন এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খোদ মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যরাও এখন স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবানা মাহমুদসহ অন্তত তিনজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে তার বিদায়ের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট্টে কুপার তাকে একটি সুশৃঙ্খল উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড লামিও একই সুরে পদত্যাগের রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের মতে, কেয়ার স্টারমারের ওপর দলীয় সংসদ সদস্যদের আর কোনো আস্থা অবশিষ্ট নেই, যা সারা দেশের মানুষের কাছেও একই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

চাপের মুখেও কেয়ার স্টারমার অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে পদত্যাগ করতে রাজি নন। লন্ডনে দেয়া ভাষণে তিনি দাবি করেন, এখন নেতৃত্বের পরিবর্তন দেশে কেবল ‘বিশৃঙ্খলা’ ডেকে আনবে। বিশেষ করে ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বেশি জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

তিনি ভোটার ও কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, তিনি নিজেকে আরও সাহসী ও গতিশীল নেতা হিসেবে প্রমাণ করবেন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেবেন। তবে তার এই ভাষণের পরও দলের ভেতর থেকে পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলেছেন অনেক কনিষ্ঠ মন্ত্রী।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেয়ার স্টারমার ইতোমধ্যে পদত্যাগ করা কর্মকর্তাদের স্থলে নতুন নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পরিবেশ মন্ত্রী স্টিভ রিড ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলির মতো হাতেগোনা কয়েকজন মিত্র ছাড়া তার পক্ষে এখন আর কাউকে জোরালো অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে না।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির মতো বারবার নেতা পরিবর্তনের ফলে যেন বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেই সতর্কবার্তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল। তাসত্ত্বেও লেবার পার্টির বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও খোদ প্রধানমন্ত্রীর গদি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: রয়টার্স

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers