মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২৩ জিলহজ ১৪৪৭

বিদেশ

ইবোলা ভাইরাস কী, কীভাবে ছড়ায়?

নিউজজি ডেস্ক ১৯ মে , ২০২৬, ১৩:৩০:২৬

111
  • সংগৃহীত

ঢাকা: বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ ভাইরাস হিসেবে পরিচিত ইবোলা। এটি অত্যন্ত বিরল হলেও মারাত্মক সংক্রামক একটি ভাইরাস, যা ইবোলা ভাইরাস ডিজিজ (EVD) বা ইবোলা হেমোরেজিক ফিভার নামে পরিচিত প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে। উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো একে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

বিশেষ করে আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে এবং আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ইবোলা একটি জুনোটিক ভাইরাস। অর্থাৎ, এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। এছাড়া শিম্পাঞ্জি, গোরিলা ও বানরের মতো বন্যপ্রাণীর রক্ত বা শরীরের তরলের মাধ্যমেও ভাইরাসটি মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে।

একবার মানুষ আক্রান্ত হলে, এরপর এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল, মূত্র, বুকের দুধ কিংবা বীর্যের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শরীরের কাটা অংশ, চোখ, নাক বা মুখের শ্লেষ্মা ঝিল্লির মাধ্যমে ভাইরাস সহজেই প্রবেশ করতে পারে।

এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানাপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ব্যবহৃত সুঁই থেকেও রোগ ছড়াতে পারে।

ইবোলা ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর সাধারণত ২ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত নীরবে অবস্থান করতে পারে। এই সময়কে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- হঠাৎ জ্বর, তীব্র দুর্বলতা ও ক্লান্তি, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা ও গলা ব্যথা।

পরবর্তীতে রোগীর মধ্যে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, কিডনি ও লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণও শুরু হয়। এসময় বমি ও মলের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। পাশাপাশি নাক, মাড়ি বা শরীরের অন্যান্য অংশ থেকেও রক্তপাত হতে পারে।

ইবোলা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা এখনও সীমিত। তবে বর্তমানে কিছু টিকা ও চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইসোলেশনে রেখে নিবিড় পরিচর্যা দেওয়া হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তি বা বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই ইবোলা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers