মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৫ সফর ১৪৪৮

বিদেশ

ইসরায়েলের গোয়েন্দাগিরিতে আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা

নিউজজি ডেস্ক ৭ জুন , ২০২৬, ১৩:১৭:৩৯

71
  • সংগৃহীত

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা ও সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পেন্টাগনে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির শীর্ষ মিত্র ইসরায়েল থেকে আসা পাল্টা গোয়েন্দা হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন বর্তমান ও একজন সাবেক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষিতে পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) এই নতুন সতর্কতা জারি করেছে।

তারা আরও জানান, ডিআইএ একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় ইসরায়েলি গোয়েন্দা হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে ‘ক্রিটিক্যাল’ বা সংকটজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পেন্টাগনের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইসরায়েল মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন বর্তমান কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ডিআইএ-এর এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনে একটি চার্টসহ সাত পৃষ্ঠার নথি রয়েছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়, মানুষের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও কারিগরি উপায়ে তথ্য চুরির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা এখন ‘সংকটজনক স্তরে’ রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির এই দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালায় না।

এই বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তাও এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, এই পুরো খবরটিই মিথ্যা। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক তৎপরতা স্বাভাবিক গোয়েন্দাগিরির মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং বলেন, ‘ইসরায়েলের একটি অতি-আগ্রাসী গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। আমরা কী করছি বা কী ভাবছি, তা জানার জন্য তারা অত্যন্ত উদ্‌গ্রীব থাকে।’

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এমন সতর্কবার্তা ঠিক তখন এল, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েরলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে তাদের মধ্যে ফোনালাপেও এই উত্তেজনা প্রকাশ পেয়েছে। ওই ফোনালাপের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুকে তিনি ‘পাগল’ বলেছেন।

গত এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তির চেষ্টা করছেন, যাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়। তবে কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ইরান মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যে সংশয় প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ইরানের ওপর আবার হামলা শুরু করার জন্য জোর দিচ্ছেন।

এর আগে ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ড অত্যন্ত গোপনীয় নথিপত্র ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করেছিলেন। এ অপরাধে ধরা পড়ার পর তাকে ৩০ বছর কারাগারে কাটাতে হয়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে যখন দুই দেশের সরকার পুরোপুরি একমত হতে পারছে না, এমন একটি সংবেদনশীল মুহূর্তে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির এই আশঙ্কা দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers