বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৭ সফর ১৪৪৮

বিদেশ

কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞা

নিউজজি ডেস্ক ১৩ জুলাই , ২০২৬, ১৪:১২:১৭

55
  • সংগৃহীত

ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা ১৩৬ বছরের পুরোনো একটি মসজিদে নামাজ আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদে প্রবেশের জন্য দেওয়া অস্থায়ী পাস প্রদানও বন্ধ করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও রাজ্য সরকার নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি সমর্থন করে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি গৌরীপুর জামে মসজিদ বা বাঁকড়া মসজিদ নামে পরিচিত। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদটি দ্বিতীয় রানওয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রানওয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের সময় বন্ধ থাকলে বিকল্প ছোট রানওয়ে ব্যবহার করে বড় উড়োজাহাজ ওঠানামায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দমদম উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার জানান, বিমানবন্দর একটি সর্বোচ্চ সুরক্ষিত এলাকা। এখানে সাধারণত ছবিসহ বায়োমেট্রিক পাস ছাড়া প্রবেশ নিষেধ। অথচ এই মসজিদে নামাজের জন্য প্রতিদিন বহু বহিরাগত মানুষ কোনো রকম ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন বা নিরাপত্তা পাস ছাড়া যাতায়াত করে। এ পরিস্থিতি সার্বিকভাবে দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রোববার (১২ জুলাই) সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাই অন্য সব কিছুর চেয়ে আগে অগ্রাধিকার পাবে। কলকাতা বিমানবন্দরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এর কাছাকাছি চীন এবং বাংলাদেশ সীমান্ত অবস্থিত। তাই সুরক্ষার স্বার্থে কোনোভাবে বহিরাগতদের জন্য বিমানবন্দরের গেট উন্মুক্ত রাখা যায় না।

তোষণ রাজনীতির অভিযোগ তুলে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানান, আগের সরকারগুলো ভোটের রাজনীতির কারণে এই সমস্যা সমাধানে হাত দেয়নি। তবে বর্তমান সরকার কোনো তোষণ নীতিতে বিশ্বাস করে না। বিমানবন্দর সচল রাখতে এই মসজিদটি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে।

রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও অভিযোগ করে বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এতদিন মসজিদটিকে রানওয়ে এলাকার ভেতরে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) থেকে পাস বন্ধ ও নামাজ স্থগিত করার পর যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিমানবন্দর এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি তথা তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মসজিদটি ১৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। আমরা একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। কিন্তু আলোচনা চলাকালীন এভাবে হঠাৎ করে নামাজ বন্ধ করে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।

ভারত সরকার জানিয়েছে, ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিষয় এবং আইন মেনে চলাই একজন ভালো নাগরিকের দায়িত্ব। রানওয়ের কাজ সম্পন্ন করতে মসজিদটি স্থানান্তর করা হবে। সূত্র: এনডিটিভি

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers