বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

বিদেশ

ভারতের সীমানা ছাড়াল ‘ককরোচ’ আন্দোলন

নিউজজি ডেস্ক ২২ জুলাই , ২০২৬, ১৭:৫৪:১২

89
  • সংগৃহীত

ঢাকা: ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দিল্লিতে শুরু হওয়া নজিরবিহীন ছাত্র আন্দালনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্যের লন্ডনসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপির)-এর ডাকে এবং শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকে প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসব শহরের রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার প্রবাসী ভারতীয়রা। 

মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সিটির ইউনিয়ন স্কয়ারে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে বিক্ষোভ করেন প্রবাসীরা। এসময় তাদের হাতে ‘ম্যায় ভি ককরোচ’ (আমিও ককরোচ) লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

একই দিনে যুক্তরাজ্যের লন্ডনেও ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে শিক্ষার্থী ও প্রবাসী ভারতীয়রা জড়ো হয়ে স্লোগান দেন এবং ঘটনার স্বচ্ছ জবাবদিহিতা দাবি করেন। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সামনেও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জার্মানির বার্লিন এবং নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সামনেও এই আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ এবং ‘স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)’-সহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা বিশ্বজুড়ে এই কর্মসূচিগুলোর আয়োজন করেন।

এদিকে বুধবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন রাজীব চক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ দিল্লির অন্তত ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে তাকে সাময়িকভাবে আটকও করা হয়।

বুধবার সকালেও কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা দেশটির পার্লামেন্ট চত্বরে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সমাজকর্মী এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষকদের মতে, দিল্লির এই শিক্ষার্থী আন্দোলন ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়। চলমান এই ছাত্র আন্দোলনকে বর্তমানে মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বা ‘বিপদঘণ্টা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণ ভোটাররা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী সফলতার একটি অন্যতম বড় ভিত্তি ছিল। তবে পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পর তরুণ প্রজন্মের এই ক্ষোভ প্রমাণ করে যে, সরকার এখন তাদের আস্থা হারাচ্ছে।

প্রবীণ সাংবাদিক হেমন্ত আত্রির মতে, গণতন্ত্রে জনগণকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা সম্ভব নয় এবং এই আন্দোলন সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে মানুষের প্রধান উদ্বেগ এখন শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি।

ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনকে সরকার বা মূলধারার গণমাধ্যম কোনো নির্দিষ্ট জাতিগত বা ধর্মীয় ট্যাগ— যেমন কৃষক আন্দোলনকে ‘খালিস্তানি’ বা সিএএ আন্দোলনকে ‘মুসলিম বিক্ষোভ’ দিয়ে বিতর্কিত করতে পেরেছিল। কিন্তু এবারের আন্দোলনটি গড়ে উঠেছে শিক্ষার সততা, মেধা এবং বেকারত্বকে কেন্দ্র করে—যা ধর্ম, বর্ণ ও অঞ্চল নির্বিশেষে ভারতের সমস্ত সাধারণ মধ্যবিত্ত ও তরুণ সমাজকে স্পর্শ করেছে। ফলে আন্দোলনকারীদের কোনো নেতিবাচক ছাঁচে ফেলা সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers