মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২ রবিউস সানি ১৪৪৮

বিদেশ

কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের সফর, জাপানের প্রতিবাদ

নিউজজি ডেস্ক ১৩ আগস্ট , ২০২৬, ১২:৩৪:০৩

81
  • সংগৃহীত

ঢাকা: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাপান। দেশটি পুতিনের সফরের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তীব্র’ প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। জাপানে দ্বীপগুলো ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে, ১৯৪৫ সালে, সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখলে নেয়। এরপর থেকেই অঞ্চলটির মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

ক্রেমলিন পুতিনের কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে পুতিন একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করেন।

এর আগে পুতিন কুরিল দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি রাশিয়ার সাখালিন দ্বীপ সফর করেন। সেখানে রুশ নৌবাহিনী সামরিক মহড়া চালাচ্ছিল।

রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, সাখালিনে পুতিন ‘রাশিয়ার পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’ নিয়ে একটি বৈঠক করেন।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কো-টোকিও সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। একই সময়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

পুতিনের কুরিল সফরের প্রতিবাদ জানিয়ে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বলেন, ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাপানের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড। এই সফরের বিরুদ্ধে জাপান সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে দখল

হোক্কাইডোর উত্তরে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়। এরপর থেকে সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে মস্কো।

২০১০ সালে তৎকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রথম রুশ নেতা হিসেবে বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনও তিনি কয়েকবার সেখানে যান।

কঠিন আবহাওয়া, জনসংখ্যা কম

বিতর্কিত চারটি দ্বীপ কুরিল আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জের অংশ। এই দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ থেকে দক্ষিণে জাপানের উত্তরাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ হোক্কাইডো পর্যন্ত বিস্তৃত।

বিতর্কিত চার দ্বীপের নাম রুশ ও জাপানি ভাষায় প্রায় একই। রুশ ভাষায় এগুলো কুনাশির, হাবোমাই, শিকোতান ও ইতুরুপ এবং জাপানি ভাষায় কুনাশিরি, হাবোমাই, শিকোতান ও এতোরোফু নামে পরিচিত।

দ্বীপগুলোতে প্রায় ২০ হাজার রুশ নাগরিক বসবাস করেন। সেখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তবে দ্বীপগুলোতে সোনা ও রুপার মতো খনিজ সম্পদ এবং সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ রয়েছে।

১৯৪৫ সালে দ্বীপগুলো দখলের পর মস্কো সেখানে বসবাসকারী প্রায় ১৭ হাজার জাপানিকে বিতাড়িত করে।

এরপর স্নায়ুযুদ্ধের সময় দ্বীপগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানের মোকাবিলায় সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখানে বিমান ও নৌঘাঁটি স্থাপন করে।

কয়েক দশকের আলোচনাতেও সমাধান হয়নি

বিভিন্ন সময়ে টোকিও ও মস্কোর মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। ১৯৫৬ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় তৎকালীন সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ শান্তিচুক্তির আওতায় বিতর্কিত চার দ্বীপের মধ্যে দুটি জাপানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। সূত্র: এএফপি

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers