রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিদেশ

প্রাণহানি বেড়ে প্রায় ১২৫০, নিখোঁজ আরও ৫ হাজার

নিউজজি ডেস্ক ৩ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১১:৩৪:৫৪

75
  • সংগৃহীত

ঢাকা: নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এখন পর্যন্ত দুই অঞ্চলে অন্তত ১ হাজার ২৪৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেপালেই প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ২২২ জন।

বন্যার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নেপালে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৮৭৫ জন। নিখোঁজদের তালিকায় ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। দুর্যোগের পর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।

প্রবল বৃষ্টি ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নেপালের ভোতেকোশি নদীর পথে থাকা বিভিন্ন সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা আশাবাদী, ধ্বংসস্তূপের নিচে বা দুর্গম স্থানে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকলে তাদের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। খবর দ্য হিন্দু।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২২ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় দেশটির কয়েকটি শহর ও গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনও ৪ হাজার ৮৭৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী চিতওয়ান জেলা থেকে ৩৪৮টি, নওয়ালপরাসি ইস্ট থেকে ২১৮টি, নওয়ালপরাসি ওয়েস্ট থেকে ২০৮টি এবং নুয়াকোট থেকে ১৫৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া রাসুয়া থেকে ১২৭টি, গোরখা থেকে ৬৯টি, ধাদিং থেকে ৬০টি এবং তানাহুন থেকে ৩৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। নেপাল সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার ও স্থলপথে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে প্রায় ২১ হাজার ৩১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে নেপালের সীমান্তের কাছে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যায় চীনের অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে আরও ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে পরিবেশবিদ সুনিতা নারায়ণ বলেছেন, নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সঙ্গে হিমালয়ে কয়েক দশক ধরে চলে আসা একটি উন্নয়নধারার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই উন্নয়নধারায় ধরে নেয়া হয়েছে, ইচ্ছেমতো নদী ও পাহাড়ের গতিপথ বদলে দেয়া সম্ভব।

দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (সিএসই) মহাপরিচালক সুনিতা নারায়ণ বলেন, হিমালয়ে একের পর এক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘আজ আমরা প্রকৃতির প্রতিশোধ দেখতে পাচ্ছি’।

মোবিয়াস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অষ্টম আন্তর্জাতিক টেকসই শিক্ষা সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিএসই জানিয়েছে, ভারতে এখন প্রায় প্রতিদিনই একটি করে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটছে। সুনিতা নারায়ণ বলেন, ‘প্রকৃতি আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে, আমরা এতদিন যেভাবে উন্নয়ন করে এসেছি, ভবিষ্যতে সেই পদ্ধতি আর কাজ করবে না।’

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers