শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ , ৪ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিদেশ

বিনামূল্যের খাবার খেয়ে ইন্দোনেশিয়ায় অসুস্থ ২ হাজার

নিউজজি ডেস্ক ৫ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১৭:৩৫:৪৯

77
  • সংগৃহীত

ঢাকা: ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ‘বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার’ কর্মসূচি নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। কর্মসূচির আওতায় দেওয়া খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষ অসুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পূর্ব জাভা, মধ্য জাভা, পশ্চিম সুমাত্রা, আচেহ ও দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে এসব ঘটনা ঘটে।

কর্মসূচির খাবার খেয়ে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন। দেশটিতে ‘এমবিজি’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচি প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।

বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচিতে এর আগেও একাধিকবার খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কর্মসূচি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এসবের মধ্যেই সরকার দেশজুড়ে কর্মসূচিটি দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। সবচেয়ে বেশি মানুষ অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে মধ্য জাভার রেম্বাং এলাকায়।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান আলি শিয়োফি জানান, রেম্বাংয়ের একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ৭৫২ জন শিক্ষার্থী ও ২৫ জন শিক্ষক কর্মসূচির খাবার খাওয়ার পর ডায়রিয়া, বমি, বমি বমি ভাব ও পেটব্যথায় আক্রান্ত হন।

পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে আরো ৭৩০ জন অসুস্থ হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থী। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান লাখসমি হেরাওয়াতি ইউয়ানতিনা জানান, আক্রান্ত ৭০৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পশ্চিম সুমাত্রার আগাম এলাকায় ২৭৬ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে স্থানীয় পুষ্টিকেন্দ্র থেকে খাবার বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আচেহ প্রদেশের বেনার মেরিয়াহ এলাকায় স্কুলের খাবার খেয়ে মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ১৫ শিক্ষার্থী ও একজন অধ্যক্ষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সুলাওয়েসির তানা তোরাজা এলাকায় দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আরো ১৫২ শিক্ষার্থীর মধ্যে খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। তাদের তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কর্মসূচিটি চালুর পর থেকে এর সঙ্গে সম্পর্কিত খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬টি প্রদেশের ২৪৫টি জেলা ও শহরে এমবিজি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ৫৬০টি ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৫০ হাজার ৫৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছে।

জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান সুদারিওনো বলেন, সংস্থার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ঘটনার পেছনে খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম না মানার বিষয়টি ছিল। এর মধ্যে খাবার সংরক্ষণ, কাঁচামাল গ্রহণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং খাবার পরিবেশনের সময়সীমার মতো বিষয় রয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা। সুদারিওনো জানান, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে থাকা প্রায় ২৭ হাজার খাবার বিতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পরিদর্শনের সময় বেশ কিছু সন্দেহজনক ও অস্তিত্বহীন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত নির্ধারিত মান পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতোমধ্যে অন্তত ৮৩৩টি রান্নাঘর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর উদ্যোগে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি শিক্ষার্থী, শিশু ও গর্ভবতী নারীকে বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অপুষ্টি মোকাবিলা এবং শিশুদের সুস্থ শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করাই কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য। ২০২৯ সাল পর্যন্ত এটি বাস্তবায়নে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। নির্বাচনের আগে প্রাবোওর দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিও ছিল এই কর্মসূচি।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers