রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিদেশ

২ দিনে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি, সব জেলায় সতর্কবার্তা

নিউজজি ডেস্ক ৩ অক্টোবর , ২০২৬, ১৮:৪২:১৭

131
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিতে ব্যাংককের রাস্তাঘাটে পানি জমা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এবার বৃষ্টির মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে স্বাভাবিক সীমা। মাত্র দুই দিনে শহরের কিছু এলাকায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা লন্ডনের গড় ছয় মাসের বৃষ্টির কাছাকাছি। এতে ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকা রাস্তাঘাটের বদলে বিশাল জলাবদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে। শনিবার (০৩ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

সরকারি হিসাবে, বন্যাসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন পানিতে ডুবে এবং কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। পরিস্থিতির কারণে শহরের ২৩০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

ব্যাংককের ৭৩ বছর বয়সী বাসিন্দা সুলিমাস কুরাংকুল জানান, তার বাড়ির নিচতলার সিঁড়ি এখনও পানির নিচে। গত সপ্তাহান্তের বৃষ্টি সাধারণ সন্ধ্যার ঝড়ের মতো ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিন-রাত টানা বৃষ্টি হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ব্যাংককের ১৯৭০-এর দশকে নির্মিত খালং চান আবাসিক এলাকাটি এখন দুর্যোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, বাদামি পানির মধ্যে ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে। পার্ক করা গাড়ির ছাদও পানির ওপর সামান্য দেখা যাচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির সবচেয়ে খারাপ অংশের পানি অনেকটা সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।

চাও ফ্রায়া নদীর বিশাল বন্যাপ্রবণ সমভূমির ওপর গড়ে ওঠা ব্যাংকক শহরের পানি নিষ্কাশনে খাল, পাম্প ও বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণে শহরের খালব্যবস্থার বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে শহরটি।

ব্যাংককের ৫০টি জেলার সবকটিতেই বন্যা দুর্যোগ ঘোষণা করেছে সরকার। কিছু এলাকায় তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক দৃশ্য। কেউ ফোলানো প্লাস্টিকের পুলে চড়ে বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও ভাসমান ফ্রিজকেও নৌকার মতো ব্যবহার করতে দেখা গেছে। প্রধান সড়কে জেটস্কি চালানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

বন্যার কারণে ব্যাংককের প্রধান সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। একপর্যায়ে থাই এয়ারওয়েজের প্রায় অর্ধেক কর্মী কাজে যেতে না পারায় হাজারো লাগেজ জমে যায় এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। অনেক স্কুল বন্ধ রয়েছে। রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় তীব্র যানজট থাকায় তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষও ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের বলেছেন, উত্তরের দিক থেকে আসা বন্যার পানির কারণে ব্যাংককের মহানগর এলাকা এখনও ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষও গঠন করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা আগামী সপ্তাহে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চরম বন্যার প্রবণতা ইতোমধ্যেই বাড়ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। উষ্ণ সমুদ্র থেকে বেশি পানি বাষ্পীভূত হয় এবং উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে ভারী বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাংককের বন্যা সহনশীলতা নিয়ে গবেষণায় যুক্ত পরামর্শক নাইম লায়েনি বলেন, কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টির তীব্রতা কর্তৃপক্ষ সম্ভবত অবমূল্যায়ন করেছিল। ব্যাংককের পানি নিষ্কাশন খালগুলো সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি সামলাতে পারে। উন্নত কিছু অংশে এই সক্ষমতা ৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়েছে এবং পরপর বৃষ্টির কারণে পানি সরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers