বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৫ মাঘ ১৪২৭ , ১৩ জুমাদাউস সানি ১৪৪২

সাহিত্য

মেধাবী শৈলীর উদ্ভাবক জেমস জয়েসের প্রয়াণ দিবস আজ

নিউজজি ডেস্ক ১৩ জানুয়ারি , ২০২১, ১২:৩০:৪৬

  • ছবি : ইন্টারনেট থেকে

ঢাকা : বিশ শতকের প্রভাবশালী ও মেধাবী লেখকদের অন্যতম জেমস জয়েস। আধুনিক শিল্পের জন্য পাবলো পিকাসো যেমন, আধুনিক সাহিত্যের জন্য জেমস জয়েস তেমন। তাঁর গল্প সংকলন ‘ডাবলিনার্স’ এবং উপন্যাস ‘আ পোর্ট্রেট অব দি আর্টিস্ট অ্যাজ আ ইয়াং ম্যান’, ‘ইউলিসিস’ ও ‘ফিনেগানস ওয়েক’। জয়েস কবিতা ও নাটকও লিখেছেন। জয়েসের জন্ম ১৮৮২ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে।   বাল্যকাল কেটেছে ডাবলিনে। স্বাভাবিক কারণেই লেখার বেশির ভাগেরই পটভূমি ডাবলিন। অবশ্য বড় হয়ে এই ডাবলিনে দীর্ঘদিন তিনি অনুপস্থিতই ছিলেন। মহান এ শৈলী উদ্ভাবক ১৯৪১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

বই আকারে প্রকাশিত জয়েসের প্রথম লেখা একটি কবিতার বই। ৩৬টি প্রেমের কবিতার সংকলন ‘চ্যাম্বার মিউজিক’ নামের সে বইটি। তাঁর কবিতা এজরা পাউন্ড ও টি এস এলিয়টের নাজর কাড়ে। কবিতা সম্পর্কে পাউন্ড বলেন, ‘প্রথম দিকের কবিতাগুলো থেকে কবির সংগীতবিষয়ক প্রখর প্রজ্ঞার পরিচয় পাওয়া যায়। শব্দচয়ন এলিজাবেথীয় যুগের চিত্র মনে আনে; মাত্রার ব্যবহার রবার্ট হেরিকের কথা মনে করিয়ে দেয়।’

জয়েস পুরনো সব ফর্মুলা ভেঙে নতুনের ব্যবহার নিয়ে এসেছেন তাঁর শৈলীতে। যেমন—‘ইউলিসিস’ ও ‘ফিনেগানস ওয়েক’-এ প্রচলিত কাহিনিবিন্যাসের ব্যবহার করেননি তিনি। এমনকি প্রচলিত বাক্যবিন্যাসও এড়িয়ে গেছেন বুদ্ধিদীপ্ত প্রকাশভঙ্গি, জটিল কথার প্যাঁচ, চেতনাপ্রবাহ—এসব ব্যবহার করার খাতিরে। ‘ইউলিসিস’ উপন্যাসটি লিওপোল্ড ব্লুমের জীবনের এক দিনের গল্প বলে যায়। সে ডাবলিনের রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়; চেতনাপ্রবাহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে গল্পের গতি। পুরাণের ইউলিসিসের ভ্রমণের সঙ্গে তার ঘুরে বেড়ানোর সমান্তরাল চিত্র দেখানো হয়েছে বলেই উপন্যাসের নাম ‘ইউলিসিস’। পুরাণের চরিত্র ইউলিসিস, পেনিলোপ ও টেলিমেকাসের আধুনিক প্যারোডি রূপ তৈরি করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র লিওপোল্ড ব্লুম, মলি ব্লুম ও স্টিফেন ডেডালাসের চরিত্রে।

আবার ‘ফিনেগানস ওয়েক’ যে শৈলীতে লিখেছেন, তাতেও শব্দের মারপ্যাঁচ ও নতুনত্বের মেধা ব্যবহার করেছেন; কারো কারো মতে এখানে আরো বেশি ব্যবহার করেছেন। শব্দজটের বেশির ভাগ তৈরি হয়েছে বহুভাষী শব্দকৌতুকের কারণে। এ উপন্যাসটি তাঁকে চ্যালেঞ্জিং ও দুরূহপাঠ্য লেখকে পরিণত করেছে। আবার তাঁর বলিষ্ঠ লেখকের খ্যাতিও এনেছে এ উপন্যাসটি।

অনন্যসাধারণ শৈলীর ভাষা, সংলাপের ব্যবহার, আধুনিক রচনাকৌশল, খোলামেলা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি—এসবের কারণে জয়েসের উপন্যাসগুলোর সামনে বাধা-বিপত্তি এসেছে বারবার। ছাপার অক্ষরে বই আকারে প্রকাশের পরপরই নিষেধের সম্মুখীন হয় উপন্যাস ‘ইউলিসিস’। ১৯২২ সালে প্যারিসের শেকসপিয়ার অ্যান্ড কম্পানি বই আকারে প্রকাশ কর ‘ইউলিসিস’। অবশ্য তার আগে ১৯১৮ সাল থেকে আমেরিকার দ্য লিটল রিভিউ ম্যাগাজিনে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল এ উপন্যাস। আমেরিকায় ধারাবাহিক প্রকাশনার সময়ও যৌনতার অভিযোগ আনা হয় ‘ইউলিসিস’-এর বিরুদ্ধে।

‘ফিনেগানস ওয়েক’ সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো। জয়েসের কবিতা পছন্দ করলেও পাউন্ড তাঁর এই উপন্যাসটির সমালোচনা করেন। অন্যদিকে আরো স্পষ্টভাবে লক্ষণীয় একটি বিষয় হলো, সমালোচনাকারীদের বিপক্ষে জয়েসের সমর্থকরা ছিলেন বেশ সরব। এই দলে ছিলেন উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, স্যামুয়েল বেকেট প্রমুখ। তাঁরা জয়েসের এই উপন্যাসের পক্ষে লেখা প্রবন্ধ নিয়ে একটা সংকলন বের করে ফেলেন।

নতুনের পতাকাবাহী বলেই নানা বাধা আর সমালোচনা পার হতে হয়েছে জয়েসকে। তবে পরবর্তী লেখকদের ওপর তাঁর প্রভাব তাঁর সময়ের অন্য লেখকদের চেয়ে বেশিই দেখা যায়। উত্তরকালের অনেক লেখক ও পণ্ডিতের ওপর জয়েসের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। স্যামুয়েল বেকেট, বোর্হেস, ফ্লেনারি ও’কনোর, জন আপডাইক, ডেভিড লজ, জোসেফ ক্যাম্পবেল, রবার্ট অ্যান্টন উইলসন, সালমান রুশদিসহ বেশ কিছু লেখকের সামনে পথপ্রদর্শকের মতো হাজির থেকেছেন জয়েস। বুলগেরিয়ার ফরাসি সাহিত্যতাত্ত্বিক জুলিয়া ক্রিস্তেভা জয়েসকে মালার্মে ও র্যাবোঁর সঙ্গে এককাতারে রেখেছেন।  প্রতিবছর জুনের ১৬ তারিখে জয়েস স্মরণে ডাবলিনসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ব্লুমসডে পালন করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers