সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ , ১৭ মুহররম ১৪৪৪

সাহিত্য

কবি এনামূল হক পলাশের ৪৪তম জন্মদিন আজ

নিউজজি প্রতিবেদক ২৬ জুন , ২০২২, ১২:১২:৩২

75
  • কবি এনামূল হক পলাশের ৪৪তম জন্মদিন আজ

মেওয়া

সবুরে যে মেওয়া ফলে

তার একটা গাছ আছিলো

আমাদের জঙ্গলে।

তুমুল বৃষ্টির মাঝে এই ফল পাকে

তার গাছ অনেক লম্বা হয়ে থাকে।

আৎকা বাতাস এলে

গাছের তলে

টুপটাপ মেওয়া ফল পড়ে।

সেই থেকে শিখলাম-

তুমুল বৃষ্টির সাথে ঝড় এলে

সবুরের মেওয়াগুলো ফলে।

গাব আর ডেফল

ডেফল গাছের তলে খাড়াইয়া

গাব গাছের দিকে তাকাই,

গাবের কষ দিয়া কালো করব জাল।

খিড়কি দরজা দিয়া

ডেফল গাছের দিকে তাকাই,

টসটসে পাকনা পাকনা ঝুলন্ত ডেফল।

তুমি গাব হয়া আমার জাল সাজাও,

তুমি ডেফল হয়া আমারে পাগল বানাও।

উপরের কবিতা দুটির কবি এনামূল হক পলাশের ৪৪তম জন্মদিন আজ। কবি এনামূল হক পলাশ ১৯৭৭ সালের ২৬ জুন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাদেচিরাম গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস একই উপজেলার বামনগাঁও গ্রামে।

তার প্র-পিতামহ মরহুম হাজী বাহাদুর আলী তালুকদার ছিলেন ইউনিয়ন কাউন্সিলের সন্মানিত প্রেসিডেন্ট। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে কবি সবার বড়। শিশুকাল নিজ গ্রামে কাটালেও পিতার ব্যবসাজনিত কারণে তার শৈশব কেটেছে বারহাট্টার গোপালপুর বাজারে। প্রথমে তিনি বারহাট্টার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হন। এর এক বছর পর বারহাট্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। একই স্কুল থেকে ১৯৮৮ সালে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

বারহাট্টা সি.কে.পি. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা শুরু করে অস্টম শ্রেণিতে সাধারণ বৃত্তি পান এবং পরের বছর ড. ইন্নাছ আলী বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়ে ১৯৯৪ সালে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বারহাট্টা পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নিয়মিত পাঠক হিসেবে ব্রপক অধ্যয়ন করেন।

১৯৯৪ সালে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাটির সুবাস নামক একটি পত্রিকায় তার একটি কবিতা প্রকাশিত হয় যা ছিল ছাপার অক্ষরে তার প্রথম কবিতা। প্রকাশিত কবিতার জন্য তিনি মনি অর্ডার যোগে চল্লিশ টাকা সম্মানীপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। উক্ত চল্লিশ টাকার খরচ বাদে সাঁইত্রিশ টাকা পঁচিশ পয়সা হাতে পেয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারমিডিয়েট কলেজে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শুরু করে ১৯৯৬ সালে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এ সময় তিনি ময়মনসিংহ শহরের কেওয়াটখালী এলাকায় রেলওয়ে কলোনীতে বসবাস করতেন। সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় নিয়মিত লেখা পাঠাতেন। প্রায় সংখ্যায়ই তার লেখা ছাপা হতো এবং তিনি মনি অর্ডার যোগে সম্মানী পেতেন।

১৯৯৭ সালে বাবার ব্যবসার সুবাদে তিনি ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে দৈনিক ২০০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে অনার্সে ভর্তি হন।

একই কলেজ থেকে ২০০২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্মাতক (সম্মান) উত্তীর্ণ হন। নেত্রকোনা সরকারি কলেজে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে মাস্টার্স পড়ার সুযোগ না থাকায় তিনি গুরু দয়াল সরকারি কলেজে মাস্টার্স ভর্তি হয়ে ২০০৪ সালে উদ্ভিদ বিদ্যায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৯৮ সালে একটি প্রগতিশীল বাম সংগঠনের সাথে তার যোগাযোগ স্থাপন হয় এবং তিনি প্রগতিশীল বিপ্লবী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রাজনৈতিক বিষয়ে ব্যাপক অনুশীলন ও পড়াশোনা করেন।

৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময় কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সাথে যুক্ত থেকে সাংবাদিকতা করেন। ২০০৩ সালে তিনি রাজনীতি ছেড়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।

২০০৫ সালে পারিবারিক সম্মতিতে নেত্রকোনা শহরে মাহবুবা এনাম সোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রী পেশায় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ২০০৯ সালে তিনি ছেলের বাবা হন। ছেলের নাম রাখেন আহনাফ তাজওয়ার হক।

একই সালে কবির প্রথম বই ‘অস্তিত্বের জন্য যুদ্ধ চাই’ প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৫ সালে দ্বিতীয় কবিতাগ্রন্থ ‘জীবন এক মায়াবী ভ্রমণ’, ২০১৬ সালে তৃতীয় কবিতাগ্রন্থ ‘অন্ধ সময়ের ডানা’, ২০১৭ সালে চতুর্থ কবিতাগ্রন্থ ‘অন্তরাশ্রম’ ও পঞ্চম কবিতাগ্রন্থ ‘মেঘের সন্ন্যাস’, ২০১৮ সালে ষষ্ঠ কবিতাগ্রন্থ ‘পাপের শহরে’, এবং কবির চল্লিশ পূর্তি উপলক্ষে কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে “আশ্রম পাখির মায়াপথ” নামে একটি প্রকাশনা গ্রন্থ বের হয়।

২০১৯ সালে সপ্তম কবিতাগ্রন্থ ‘জল ও হিজল’, ২০২০ সালে একটি শিশুতোষ বই ‘বইয়ের পাতায় ফুলঝুরি’ এবং ‘ভূমি ব্যবস্থাপনার সরল পাঠ’ নামে একটি গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালে শিশুতোষ বই ‘কলমি লতার ফুল’ এবং ‘ধর্মবিশ্বাস আখ্যানের মত সুন্দর’ নামে একটি প্রাচীন আরবি সাহিত্যের কবিতা অনুবাদ বই প্রকাশিত হয়।

লেখালেখির জন্য তিনি লেখা প্রকাশ সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬, বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটি কর্তৃক অমর একুশে স্মৃতি পদক- ২০১৬, এবং চর্চা শুভেচ্ছা সন্মাননা- ২০১৭ প্রাপ্ত হন।

২০১৬ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোনার মালনী এলাকায় বিশ্ব কবিতার আবাসস্থল বা হোম অব ওয়ার্লড পয়েট্রি খ্যাত ‘কবিতাকুঞ্জ‘ প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকে অবকাঠামো গঠনের কাজে যুক্ত থেকেছেন এবং একই প্রতিষ্ঠানের প্রথম পরিচালক হিসেবে কবি কর্তৃক নিযুক্ত আছেন।

২০১৭ সালে কবি-লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের ব্যবহারের জন্য তিনি নেত্রকোনা শহরের মালনী এলাকায় গড়ে তোলেন ‘অন্তরাশ্রম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

কবির সাথে কথা হলে তিনি জানান, জীবনের বিচিত্রতা আমাকে দিন দিন সহজ হওয়ার সাধনার দিকে নিয়ে গেছে। তাই সহজের সাধনা করি। আমি সাধু নই। সাধু হতেও চাই না। সহজ হতে চাই। অন্তরাশ্রমের পথ বেয়ে পৃথিবীর পথে পথে ভালোবাসার ফুল ছড়িয়ে দিতে চাই বলেও জানান এনামূল হক পলাশ।

নিউজজি/জেডকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন