শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২৬ জিলহজ ১৪৪৭

সাহিত্য

প্রতিবাদী কিশোর কবির ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজজি ডেস্ক ১৩ মে , ২০২৫, ১৪:৫০:৪২

90
  • সংগৃহীত

ঢাকা: সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বলা হয় কিশোর কবি। মাত্র একুশ বছর বেঁচেছিলেন শক্তিমান এই কবি। জীবনের এই স্বল্প সময়ে তিনি তার সৃষ্টির জন্য আজও অসম্ভব জনপ্রিয়।

জন্মলগ্ন থেকেই তিনি দ্রোহের আগুন নিয়ে বেড়ে ওঠেন। তার কবিতা ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শোষণ, বঞ্চনা আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে ভীষণ প্রতিবাদের। আগুন ঝরা কবিতা উপহার দিয়ে তিনি আজও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অসামান্য জনপ্রিয় এবং শক্তিমান কবি হিসেবে পরিচিত হয়ে আছেন।

প্রতিবাদী এই কবির আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় যাদবপুর টিবি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। দুরারোগ্য যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সেই থেমে যায় এই মহাপ্রতিভা।

তার জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে মহিমা হালদার স্ট্রিটে মামা বাড়িতে। বাবা নিবারণ ভট্টাচার্য। মা সুনীতি দেবী। ভারতে জন্মগ্রহণ করলেও কবির আদি নিবাস গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে।

কবির জন্ম থেকে মৃত্যুর ব্যবধান ছিল মাত্র ২১ বছরের। কবি স্বল্প সময় বেঁচে থাকলেও ছোট্ট জীবন থেকে যা উপহার দিয়ে যান তা অসামান্য। কিশোর বয়সেই তার সৃষ্ট অসংখ্য কবিতায় প্রতিবাদের যে আগুন ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন তা আজও উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

রবীন্দ্র-নজরুল বলয়ের ভেতরেই যখন বাংলা সাহিত্য আবর্তিত, সেই সময় দ্রোহের আগুন নিয়ে আবির্ভাব ঘটে কবি কিশোর সুকান্তের। স্কুলছাত্র অবস্থাতেই তিনি জড়িয়ে পড়েন মার্ক্সবাদী ধারার রাজনীতির সঙ্গে।

তিনি কবিতায় লেখেন- ‘হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়/ এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো/ পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক/ গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো।/ প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-/ কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি/ ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়:/ পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’।

‘ছাড়পত্র’ কবিতায় লিখেছেন- এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;/জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে/চলে যেতে হবে আমাদের। /চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,/এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি/নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

তার প্রতিভার উন্মেষ ঘটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় সহপাঠীদের নিয়ে ‌‘সঞ্চয়’ নামে একটি হাতে লেখা পত্রিকা বের করেন। ওই পত্রিকায় একটি হাসির গল্প লেখেন তিনি। ১৯৪১ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মারা গেলে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সুকান্ত রেডিওতে গল্পদাদুর আসর নামে এক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করে সবার প্রশংসা লাভ করেন। বিশ্বজুড়ে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজেছে। পুরো ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে একদিকে ছড়িয়ে পড়েছে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, আরেকদিকে তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ। কবি সুকান্ত এ সবকিছুকেই করে তোলেন তার কবিতার উপজীব্য।

কবির সাহিত্যকর্মের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে ‘সুকান্ত সমগ্র’ নামে তার রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পীসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন। কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’র সম্পাদনাও করতেন কবি সুকান্ত।

নিউজজি/পিএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers