শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ , ১৮ রমজান ১৪৪৭

সাহিত্য

শংকরঃ বাংলা কথা সাহিত্যের যাদুকর

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬, ১৫:৪৯:৪৭

214
  • ছবি : সংগৃহীত

"কথা সাহিত্যিক শংকর প্রয়াত হলেন গত ২০ ফেব্রুয়ারী। বর্ণাঢ্য সাহিত্য জীবন যাপন করেছেন। বৃটিশ ভারতের যশোর জেলার বনগাঁয় ৭ ডিসেম্বর ১৯৩৩ সালে তার৷ জন্ম। বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তার অবদান গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।"

চৌরঙ্গী, জন অরণ্য, সীমাবদ্ধ, ঘরের মধ্যে ঘর, সোনার সংসার এর লেখক শংকর প্রয়াত হলেন। ৯৩ বছর ছিলেন এই গ্রহে। খুব কম সময় নয়। আমাদের গুরুজনেরা আশীর্বাদ করেন শতায়ু হও। কথা সাহিত্যক শংকরও প্রায় শতায়ু হয়েছেন।

জীবন আঁকিবুঁকি করে শুধুই জনপ্রিয় নন তিনি। জীবনকে নানা দৃষ্টি কোন থেকে দেখার অভিজ্ঞতালব্ধ প্রকাশ তার লেখায়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবন সংঘাত, জীবন-যাপন, জীবন উপভোগ এসব তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এঁকেছেনও। আবার উচ্চ বিত্তের বোহেমিয়ান ও বিচিত্র জীবনাচারও পাই তার অভিজ্ঞতায়।

যদি মানিক বন্দোপাধ্যায়, কমল কুমার মজুমদার, অমিয় ভূষণ, তারাশংকর বন্দোপাধ্যায়ের ক্লাসিকাল ফর্মকে এক পাশে রেখেও আমরা বলতে পারি শংকর জীবনবোধের উপলব্ধি ও জনপ্রিয়তায় অনন্য ছিলেন। তার জনঅরণ্য, চৌরঙ্গী, সীমাবদ্ধসহ বেশ কিছু উপন্যাসের শতাধিক সংস্করণ বেরিয়েছে। বিক্রি হয়েছে লাখ লাখ কপি। তার উপন্যাস চৌরঙ্গী, জনঅরণ্যসহ আরো কয়েকটি উপন্যাস নিয়ে সিনমা বক্স অফিস মাতিয়েছে।

অল্প বয়সে মাথার ছাদ পিতাকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে নামতে হয়েছে তাকে। বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়েছে। কোলকাতা হাইকোর্টের শেষ ব্রিটিশ ব্যারিস্টার ফ্রেডরিক বারওয়েলের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ করেছেন লম্বা সময়।

ব্যারিষ্টার সাহেবের উচ্চারণের সুবিধার্তে পারিবারিক নাম মনিশংকর কাটছাট করে হয়ে গেলেন শংকর। এই নামেই লিখতে শুরু করলেন।

তার প্রথম উপন্যাস 'কত অজানারে' এর পটভূমি ছিল ব্যারিস্টারের সাথে তার কর্মজীবনকে নিয়ে। ১৯৫৫ সালের কথা। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল বিখ্যাত দেশ পত্রিকায়।

প্রকাশের পরপরই হয় রাজকীয় অভিষেক। পড়ে যায় হৈচৈ। পরবর্তীতে উপন্যাসটি লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হয়।

এরপর লিখেন কালজয়ী উপন্যাস চৌরঙ্গী। পরে এটি চলচ্চিত্রায়ন হয়। বক্স অফিস মাত। এই সিনেমায় উত্তম কুমারের অসাধারণ অভিনয় এখনও মুগ্ধ করে দর্শককে। শংকরের লেখার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশ চুম্বী। চৌরঙ্গী উপন্যাস ১৯৬২ সালে প্রথম প্রকাশিত হওয়ার ৬০ বছর পরেও ১২৫তম সংস্করণটি ছাপা হয়।

অতি জনপ্রিয়তাও শংকরের সমালোচনা ছিল। হয়ত ইর্ষায় বা অতিবুদ্ধিজীবীতায়। শংকর এসব ভ্রুক্ষেপ না করে চার হাতপায়ে লিখেছেন। কিন্তু বাংলা সাহিত্য সমালোচক এবং পাঠকেরা স্বীকার করেন, শংকর জীবনবোধের দায় নিয়ে একটি বড় অংশের পাঠাভ্যাসের আগ্রহ ও আনন্দ তৈরি করেছেন। তার লেখা এখনো মানুষ হাতে তুলে নেয় আনন্দে। কোন কোন উপন্যাস বারবার পড়েছেন। এটাকে বলা যাবে শংকর ম্যাজিক।

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন