শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ , ১ জিলকদ ১৪৪৭

সাহিত্য
  >
প্রবন্ধ

শঙ্খনীল কারাগার: রাবেয়ার চিঠিই যেন উপন্যাসটিকে অমর করে তুলেছে

মোহাই মেনুল ইসলাম নিয়ন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪, ১৭:২০:০৬

3K
  • ছবি: সংগৃহীত

পারিবারিক মায়াজালের গল্প শঙ্খনীল কারাগার, মূল কথক খোকার বর্ণনায় উপন্যাসে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের গল্প এগিয়েছে। এই সদস্যের মাঝে রয়েছে রাবেয়া, বাবা-মা, রুনু, ঝুনু, মন্টু আর ছোট বোন নিনু। পরিবার ও সদস্যদের প্রতি একে অপরের ভালোবাসা, স্নেহ দারুণভাবে ফুটে উঠেছে গল্পে। তবে গল্পের মূল চমক ছিল খোকাকে রাবেয়ার দেয়া শেষ চিঠি।

পারিবারিক দারুণ বন্ধনের গল্প দিয়ে উপন্যাস শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় ভেঙে যায় মায়াজালের এই সংসার। সেই সাথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিচ্ছেদ, প্রেম, বিরহ আর সদস্যদের মনের আকুতি। যা কেউ প্রকাশ না করলেও বুঝে যায় অপর কেউ! 

গল্পে খোকার বড় বোন রাবেয়া ছিল সারাজীবনই অবিবাহিত। গাত্রবর্ণও ছিল কালো। তবে বিয়ে না হওয়া কিংবা রাবেয়ার বিয়ে না করার কারণ শেষ পর্যন্ত অজানাই থেকে গিয়েছে, যদিও শেষাংশে এই বিয়ে না হওয়ার কারণই হয়ত রাবেয়া চরিত্রটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

এদিকে, মা ছাড়া এই এত বড় পরিবারটাকে আগলে রাখে রাবেয়া। রুনুর বিয়ে ঠিক হয় কিন্তু একসময় তা ভেঙেও যায় এবং যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছিল সেই ছেলে ঝুনুকে বিয়ে করে।

মানসিক টানাপড়েন কিংবা অন্য কারণে বছর ২-৩ পর রুনু মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং জ্বরের মাঝেই সে খেয়াল করে তার মৃত মা তার পাশে এসে বসেছে। শুধু রুনু নয়, রুনু আর মাকে একত্রে দেখে বড় বোন রাবেয়াও। ফলে সবার মাঝে ধারণা তৈরি হয় রুনু হয়ত আর বাঁচবে না এবং একসময় সবার ভাবনা সত্যি করে মারা যায় রুনু। রুনু হারানোর শোকটা সবাই সহজে মেনে নিতে পরে না। পরিবারটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

মন্টু দিন দিন ভালো লেখক হয়ে উঠে, এক পর্যায়ে জাতীয় পুরষ্কার পায়। আরেক বোন ঝুনুর সন্তান হবে বলে তার বাবা তাকে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে আসে প্রায় ৩ বছর পর। ঝুনুর সংসার খুব একটা শান্তির ছিল না। এদিকে, কিটকি আর খোকা যে একে অপরকে ছোট থেকেই ভালোবাসতো সেই পরিণতিতেও আসে বিরহ। কিটকির বিয়ে হয়ে যায় অন্য একজনের সাথে।

গল্পের এমন নানা বাঁক লক্ষ করা যায় পুরো উপন্যাস জুড়েই। একসময় রাবেয়া পড়াশোনাটা জোর দিয়ে শুরু করে এবং একটা হোস্টেল সুপারেন্টেন্ট এর চাকরি পায় যা তাকেও পরিবার থেকে আলাদা করে। আর সেখানে পৌছে খোকাকে উদ্দেশ্য করে একটা চিঠি দেয় রাবেয়া। কয়েক লাইনের সেই চিঠি যেন রাবেয়ার সমস্ত সাধ-আহ্লাদ তুলে ধরে আর উঠে আসে তার অনেক অজানা কঠিন বাস্তবতার গল্প। তাই তো জীবনের পড়ন্ত বেলায় রাবেয়া বলে, দিতে পারো একশো ফানুস এনে? আজন্ম সলজ্জ সাধ, একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই।

উপরোক্ত এই লাইনটিই যেন বলে দেয় রাবেয়ার সমস্ত জীবনের গল্প। যেখানে অনেক না পাওয়ার মাঝে উঠে আসে ভাই-বোনদের প্রতি তার অফুরন্ত ভালোবাসার কথা—‘সে তো জানে না, তাকে বুকের সাথে মিশিয়ে সারা রাত কাদবার কি প্রচন্ড ইচ্ছাই না হচ্ছে’!

নিউজজি/রুআ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers